,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও পৌর নির্বাচনে থাকতে চায় বিএনপি

সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে থাকার কথা ভাবছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। যদিও এই নির্বাচন নিয়ে দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে দু-একজনের ভিন্ন মতো আছে। আজ দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের বৈঠকে এই নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

গত ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভা দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি অনুমোদন করে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয়, শুধু মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে। এরই মধ্যে ২৩৪টি পৌরসভায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন নিয়ে এখন পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত জানায়নি বিএনপি। কেবল মাত্র দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ কিছুদিন আগে দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচনে যাওয়ার আভাস দিয়েছিলেন।

চিকিৎসার জন্য দীর্ঘ দুই মাস লন্ডনে থেকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ২১ নভেম্বর দেশে ফিরেছেন। গতকাল মঙ্গলবার তিনি তাঁর গুলশান কার্যালয়েও গেছেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন, এমন একজন উপদেষ্টা প্রথম আলোকে বলেন, পৌর নির্বাচন যাওয়ার বিষয়ে চেয়ারপারসনকে ইতিবাচক মনে হয়েছে। ওই উপদেষ্টা আরও বলেন, কারও কারও ভিন্নমত থাকলেও দলের বেশির ভাগ নেতা নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। ভালো প্রার্থীর সংকট আছে। কারণ অনেকে কারাগারে, নতুন করে গ্রেপ্তার শুরু হয়েছে।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সকালে  বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবেমাত্র দেশে ফিরেছেন। পৌর নির্বাচন নিয়ে বিএনপি এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। আজ রাতে দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিএনপির নেতারা মনে করেন, সরকার বিএনপিকে ফাঁদে ফেলতে এই সময়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনের আয়োজন করেছে। তাই তাঁরাও পাল্টা কৌশল ঠিক করবেন। যাতে সরকারকেই উল্টো বেকায়দায় ফেলা যায়। জাতীয় নির্বাচন বর্জন করলেও এর আগে স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে অংশ নিয়েছিল বিএনপি। এবারও নেতারা নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে। কারণ তাঁরা মনে করছেন, নির্বাচনে না গেলে সরকার ফাঁকা মাঠ পাবে, আবার মাঠ পর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আরও হতাশ হয়ে পড়বে।
বিএনপির আরেক নেতা  বলেন, তাঁরা মনে করছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তারপরও তিনি নিজে নির্বাচনে থাকার পক্ষে। কারণ দলীয় প্রতীকে এ নির্বাচনে অংশ নিলে এটি প্রমাণ হবে যে, আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির না যাওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি আরও জোরালো হবে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হলে, জিতলে বিএনপি বলতে পারবে তাদের প্রতি জনসমর্থন আছে। কারচুপি, নির্যাতনের পরও বিএনপির জয় হয়েছে—এর আগে অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরেও তাদের বক্তব্য ছিল এটি।

অবশ্য নির্বাচনে যাওয়া নিয়ে ভিন্ন মতও দলে আছে। সূত্র জানায়, দলের কেউ কেউ মনে করেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া সমান। আবার স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে যাঁরা বিএনপির তাঁদের বেশির ভাগকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাদের ক্ষেত্রেও একই আচরণ করা হবে। এই ধারণা পোষণকারী একজন নেতা প্রথম আলোকে বলেছেন, দলীয়ভাবে নির্বাচনে না গিয়ে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন—এমন ভাবনাও অনেকের আছে।

মতামত...