,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিচ্ছে আইএস

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  একের পর এক ভয়াবহ হামলার মধ্য দিয়ে ইসলামী স্টেট (আইএস) জঙ্গিরা বিশ্বের যে কোনো স্থানে বড় ধরনের সহিংসতা চালাতে তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আসছে। ইরাক ও সিরিয়ায় ক্রমে কোণঠাসা এ জঙ্গিগোষ্ঠী সন্ত্রাস রফতানি করছে বাকি বিশ্বে।

গত মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলে হামলার পর বাংলাদেশে হামলায় এটা স্পষ্ট হচ্ছে। আইএস জঙ্গিরা বিশ্বের সর্বত্রই তাদের আস্তানা গেড়েছে এবং তারা ভয়ানক রক্তক্ষয়ী হামলা চালাতে সক্ষম।

গত সপ্তাহে বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক কাউন্সিলে সিআইএ পরিচালক জন ব্রেনান বলেন, আইএসের হাজার হাজার সদস্য কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই নয়, পশ্চিম আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। সূত্র :ইউএসএ টুডে।

আইএস সর্বশেষ ঢাকায় বিদেশিদের কাছে জনপ্রিয় একটি রেস্তোরাঁয় জিম্মি ঘটনার দায় স্বীকার করেছে। শুক্রবার রাতে ওই ঘটনার পর সকালে পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে ছয় জঙ্গিকে হত্যা ও ১৩ জিম্মিকে উদ্ধার করেছে। যদিও হামলাকারীদের হাতে ২ পুলিশ ও ২০ বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারণী সংস্থা র‌্যান্ড করপোরেশনের সন্ত্রাসবাদ বিশ্লেষক প্যাট্রিক জনস্টোন বলেন, ইসলামিক স্টেট বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত দেশে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। মানুষের ভেতরের নানা ক্ষোভ ও দুর্বল শাসন ব্যবস্থার সুযোগে জঙ্গি গোষ্ঠীটি সহজেই বিভিন্ন দেশে আস্তানা গাড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এশিয়ার বিভিন্ন অংশে আইএস জঙ্গিদের উপস্থিতি বেড়েই চলেছে, যদিও মধ্যপ্রাচ্যে এ উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি। একমাত্র লিবিয়ায় ছয় হাজারের বেশি আইএস জঙ্গি রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শক্ত উপস্থিতির সুযোগে আইএস একের পর এক তাদের হামলার ধরন ও স্থান পাল্টাচ্ছে। এসব হামলাকে তারা নিয়েছে ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের পরাজয়ের প্রতিশোধ হিসেবে।

দু’বছর আগে আইএস প্রথম ইরাক ও সিরিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়। তখন তারা কোনো অঞ্চল দখল এবং তাতে নিজেদের সরকার চালুর মাধ্যমে অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠী থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছিল। তারা একটি সেনাবাহিনীও গড়ে তুলেছিল, যদিও তা মার্কিন নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হওয়ার পথে। বিমান হামলা এবং ইরাক ও সিরীয় সেনাবাহিনীর প্রতিরোধের মুখে তারা দেশ দুটিতে নিজেদের দখলীকৃত অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। ইরাকে ৪৫ শতাংশ ও সিরিয়ায় ২০ শতাংশ অঞ্চল থেকে বিতাড়িত হয়েছে আইএস। ইরাকের মসুলে গত ২৫ জুন মার্কিন বিমান হামলায় দুই ঊর্ধ্বতন আইএস কমান্ডার নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে সেখানে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে জঙ্গিরা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইরাক ও সিরিয়ায় দখলীকৃত অঞ্চল থেকে আইএসকে হটিয়ে দিতে পারলেও অন্যান্য দেশে তাদের সন্ত্রাসবাদ রফতানির সক্ষমতা রুদ্ধ করা যায়নি।

সিআইএ পরিচালক ব্রেনান বলেন, ‘আমি বেশ উদ্বিগ্ন যে, সিরিয়া ও ইরাকের বাইরে আইএসের সন্ত্রাসযন্ত্রের গতিবেগ এখনও সীমাহীন।’

ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে হামলা পরিকল্পনাকারী ও দুই হামলাকারী চিহ্নিত :তুরস্কের আতাতুর্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রক্তাক্ত হামলার পরিকল্পনাকারী ও তিন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর দু’জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার পরিকল্পনাকারী ইসলামিক স্টেটের যুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের একজন অন্যতম শীর্ষ যোদ্ধা আহমেত চেতায়েভ বলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

মতামত...