,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

h2নিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, সরকারের ৪০ শতাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারি কর্মকর্তারা তাদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিতে কেন উদ্যোগী হন না- সেজন্য বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন তিনি।  বৃহস্পতিবার ঢাকা অফিসার্স ক্লাবের নব-নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে মাত্র সাত শতাংশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর আবাসন সুবিধা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিছু অসুবিধা আছে। কিন্তু, আমি জানি না, আমি কখনও সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে এই অসুবিধার কথা শুনি নাই। আমি বারবার বলেছি, ওই আবাসন সমস্যা। মাত্র সাত থেকে আট পারসেন্ট অফিসার আবাসন সুবিধা পান। এটা সমাধান করার সুযোগটা কিন্তু আপনাদের হাতেই রয়েছে। উদ্যোগটা আপনারাই নিতে পারেন। কিন্তু, কেন নেন না- সেটা আমার কাছে বোধগম্য না। যা হোক, আমরা অনেক বলে কয়ে উদ্যোগ নিয়েছি। আগামীতে ৪০ ভাগ আবাসন ব্যবস্থা আমরা করতে পারব।’

শুধু রাজধানীতেই নয়, জেলা-উপজেলায়ও সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টি অনুষ্ঠানে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘এই সুবিধাটা শুধু ঢাকা শহরে হবে না। আমরা এর বাইরে যেয়ে, জেলা-উপজেলায় যে সরকারি কর্মকর্তা থাকেন। তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করব। কাজ করতে গেলে ভালোভাবে বসবাস করতে পারেন, সে সুযোগটা আমরা করে দিতে চাই।’ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন ‘হায়ার-পারচেজ’ পদ্ধতিতে ফ্ল্যাট কিনতে পারেন, সে সুযোগ করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারণ, রিটায়ারের পর সবার আবাসনের প্রয়োজন। ঢাকা, জেলা-উপজেলা সর্বত্র যেন হয়- সে ব্যবস্থা আমরা নেব।’

সন্ধ্যায় অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে মাত্র পাঁচ বছরের জন্য সরকারে আসি। আমাদের স্থায়িত্বকাল মাত্র পাঁচ বছর। কিন্তু, আপনাদের স্থায়িত্বকাল অনেক দীর্ঘ। তাই সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কিন্তু আপনাদের ওপর বর্তায়।’

বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করতে সরকারি কর্মকর্তাদের সবসময় সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কাজের গতিধারা যেন বজায় থাকে, সেজন্য আপনারা সচেতন থাকবেন। আমরা সকলে মিলে যদি কাজ করি, আমি বিশ্বাস করি কোনো কাজই অসাধ্য নয়।’ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের বেতন-ভাতা ১২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেন আপনারা সচ্ছলভাবে চলতে পারেন।’ উপ-সচিব থেকে সচিব পর্যন্ত ৩ হাজার ৫৬৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সরকারের অতিরিক্ত সচিব ইব্রাহিম হোসেন খান বিশতলা ভবন নির্মাণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন কর্মসূচির ৯০ ভাগ আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করেছি, কারও কাছে হাত পেতে না।’

অফিসার্স ক্লাবের উন্নয়নে পাঁচ হাজার সদস্যকে নিজস্ব অর্থায়নে তহবিল গঠনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “প্রায় পাঁচ হাজারের মতো সদস্য আছেন। আপনাদের তো কারও কাছে হাত পাতার কথা নয়।’ বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কথাটি পুনরায় মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যে হারে বেতন বাড়িয়েছি, জুলাই মাস থেকে আপনারা এই বেতন পেতে যাচ্ছেন।’ এক সাথে কিন্তু অনেক টাকা জমে যাচ্ছে অনেকের। যারা কর্মরত আছেন, তাদের জন্য সুবিধা। আপনার আপনাদের ক্লাবের জন্য একটি ফান্ড তৈরি করেন। নিজেরা কতটুকু দিতে পারেন, দেখান। তারপর, যা দিতে পারি আমরা দেব।

বি এন আর/০০১৬/০০৪/০০০৪৭০৬/এস

মতামত...