,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সরকারের ভিশনই হচ্ছে মানুষের জীবন মানের উন্নয়নে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাঃ এমপি ইলিয়াছ

cশাহজালাল শাহেদ, চকরিয়া সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও সেবাগ্রহীতাদের অংশগ্রহণে দু’পক্ষীয় এক মতবিনিময় সভা বুধবার ২১সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় হাসপাতাল মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সংসদ সদস্য ও চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাজী মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ। এতে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম খান, চকরিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী মোঃ বশিরুল আলম, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ জহিরুল ইসলাম ও আইসিডিডিআরবি’র ব্যবস্থাপক মোঃ শহিদুল ইসলাম। মতবিনিময় সভার শুরুতে কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে ভাষন প্রদান করেন টিআইবির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন।
এরআগে হাসপাতালের সেবাগ্রহীতারা সেবার মান নিয়ে তাঁদের ইচ্ছে মতো বক্তব্য তুলে ধরেন উপস্থিত বিশিষ্টজনদের সামনে।
সেবাগ্রহীতা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালের সেবার মান পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেলেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। সেবা গ্রহীতা মোঃ রেজোয়ান বলেন, একশ টাকার বিনিময়ে একজন নার্স সিট থেকে একজন রোগীকে নামিয়ে অন্যজনকে দিয়ে দেয়। তাই নার্স/কর্মচারীদের অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মনোভাব বন্ধ করতে হবে। সেবা গ্রহীতা মোহাম্মদ আবির বলেন, হাসপাতালে দুপুর ১২টার সময় ডাক্তার দেখানোর জন্য গেলেও তিনি দেখেননি।
সাংবাদিক মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, সেবা গ্রহীতারা যেসব বিষয়ে অভিযোগ করেছেন তার অবশ্যই সত্যতা রয়েছে। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এসমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জরুরীভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি আহবান জানান। তাছাড়া হাসপাতালে সিজার সম্পর্কিত কার্যক্রম অচিরেই চালু করার জন্য তিনি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাজী মোঃ বশিরুল আলম বলেন, হাসপাতালের বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আরো উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম খাঁন বলেন, জনবহুল চকরিয়া উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসাবে অত্র হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগীর চাপ রয়েছে। সীমিত বরাদ্দ দিয়ে অতিরিক্ত রোগির সঠিক চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হয়। তাই তিনি সেবা গ্রহীতাদেরকে ছোট-খাট রোগের চিকিৎসা নেওয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাছাড়া হাসপাতালে দালালদের উৎপাত বন্ধে আগামীকাল থেকে পুলিশ পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আবদুস সালাম ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন অভিযোগের শান্তিপূর্ণ জবাব দিয়ে বলেন, ৫ লক্ষাধিক জনসংখ্যার একমাত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্র চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ বেডের এই হাসপাতালে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ থেকে ১২০ জন রোগি থাকে। সীমিত সংখ্যক নার্স, সার্ভিস স্টাফ ও সরঞ্জাম দিয়ে সকলকে খুশি করা কঠিন। তবে হাসপাতালের সকলেই অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদানের চেষ্টা করে বলেই রোগিদের সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি বলেন, সেবাগ্রহীতাদের কেউ কেউ অনেক সময় সন্তুষ্ট হয়ে নার্সদের ২০-৫০ টাকা দিয়ে যায়। কিন্তু বাইরে গিয়ে আবার সেই টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাজী মৌলভী মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, হাসপাতালের আগের অবস্থা অনেক নাজুক ছিল। সার্বক্ষনিক নজরদারি করে হাসপাতালে সেবার মান বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আজকে যে সব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, এগুলো শিগগরই যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার; স্বাস্থ্য বান্ধব সরকার। সরকারের ভিশন ২০২১ এর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ তথা মানুষের জীবন মানের উন্নয়ন। সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে যারা স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসে তাদের একটি বড় অংশ হতদরিদ্র শ্রেণির মানুষ। তাদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে টাকা আদায় করা কখনোই কাম্য হতে পারেনা। তিনি বলেন, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে, আশা করা যায় কিছুদিনের মধ্যেই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

মতামত...