,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সরাসরি নৌ-প্রটোকল, ভিসা সহজীকরণ এবং যোগাযোগ বৃদ্ধির আহবান চেম্বার সভাপতি

মায়ানমারের বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের চিটাগাং চেম্বারে মতবিনিময়

cনাছির মীর ,বিডিনিউজ রিভিউজঃ মায়ানমারের রাখাইন স্টেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র চেয়ারম্যান তিন অং উ ’র নেতৃত্বে এক বাণিজ্য প্রতিনিধিদল ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম’র সভাপতিত্বে রাখাইন মিনিস্ট্রি অব কমার্স’র ডাইরেক্টর সো পেং (ঝড়ব চধরহম), সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম, সিটওয়া-তে বাংলাদেশী কনসাল শাহ আলম খোকন, চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ, বান্দরবান চেম্বারের সভাপতি ক্য শৈ হ্লা, বিকেএমইএ’র শওকত ওসমান, বাংলাদেশ-মায়ানমার চেম্বারের সভাপতি এস. এম. নুরুল হক, চেম্বার পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, ফ্রোজেন ফুড’র গোলাম মোস্তফাসহ বিভিন্ন সেক্টরের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এ সময় চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, পরিচালকবৃন্দ জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), মোঃ জহুরুল আলম, হাবিব মহিউদ্দিন, অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ জাহেদুল হক, মোঃ আরিফ ইফতেখার, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মমিনুর রশিদ আমিন, চেম্বারের প্রাক্তন সহ-সভাপতি এস. এম. শফিউল হক, টেকনাফ সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন’র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলকে স্বাগতঃ জানিয়ে চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় উল্লেখ করে বলেন-মায়ানমার হতে আমদানিকৃত পণ্য সারাদেশে বাজারজাত করা সম্ভব হলেও এদেশ থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য মংডু প্রদেশ ব্যতীত অন্যান্য অঞ্চলে বাজারজাতকরণসহ ব্যবসায়ীরা যাওয়ার সুযোগও পাচ্ছেন না। এছাড়া মায়ানমারে প্রবেশের বৈধ ভিসা ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং পদ্ধতি সে দেশে বাজার সম্প্রসারণের প্রধান প্রতিবন্ধকতা বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহজীকরণ ও বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরাসরি নৌ-প্রটোকল, ভিসা সহজীকরণ এবং বর্ডার ট্রেড এগ্রিমেন্টের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনার আহবান জানান। বাংলাদেশের সীমান্তে মিয়ানমারের যে অব্যবহৃত কৃষি জমিতে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ এবং পাইপ লাইন স্থাপন করে সরাসরি প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে ইউরিয়া সার উৎপাদনের মাধ্যমে যৌথভাবে দু’দেশ সমান লাভবান হতে পারে বলে চেম্বার সভাপতি মন্তব্য করেন।

মায়ানমারের রাখাইন স্টেট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র চেয়ারম্যান তিন অং উ বলেন-দু’পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্পর্ক উন্নয়নই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি অত্র অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ও দাবীসমূহ তাদের সরকারের নিকট উত্থাপনের অঙ্গীকার করেন এবং সিটওয়াতে একটি বাণিজ্য প্রতিনিধিদল প্রেরণের জন্য অনুরোধ জানান। এ যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চল সমৃদ্ধ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

রাখাইন মিনিষ্ট্রি অব কমার্স’র ডাইরেক্টর সো পেং রাখাইনের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য চিত্র উপস্থাপন করেন এবং সম্ভাবনাময় খাতে বাংলাদেশী বিনিয়োগ প্রত্যাশা করেন। তাদের সরকার ১০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরাসরি বিনিয়োগের অনুমতি দিচ্ছে উল্লেখ করে ৩০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ রাখাইন শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের আহবান জানান। চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ নুরুন নেওয়াজ সেলিম দু’দেশের মাঝে নতুন নতুন পণ্যের বাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে ভারতের ন্যায় মায়ানমারের সাথেও বর্ডার হাট চালু করার পাশাপাশি দু’দেশের মাঝে নিয়মিত বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ের প্রস্তাব করেন।

বাংলাদেশী কনসাল এন্ড হেড অব মিশন শাহ আলম খোকন বলেন-২০১৩ সালের পর দু’দেশের বাণিজ্য অনেক কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে আবারও নতুনভাবে সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড জোরদার করতে এই সফর অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এবং আস্থার সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার চেম্বার সভাপতি এস. এম. নুরুল হক বলেন-মাছ চাষের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা গ্রহণ করে রাখাইন অনেক বেশী উপকৃত হতে পারে। একইভাবে তা বাংলাদেশের চাহিদা মেটাতে এবং বাংলাদেশ থেকে প্রক্রিয়াজাত করে অন্যান্য দেশে রপ্তানির অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ বাণিজ্য বৃদ্ধিতে বিদ্যমান সমস্যা এবং তা সমাধানের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মতামত...