,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে গণতন্ত্রও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে

cনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও সাংবাদিকদের উপর হামলাকারি দুষ্কৃতিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতনদের যথাযথ হস্তক্ষেপ চেয়েছেন চট্টগ্রামের পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেস ক্লাবের সামনে ‘পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রাম’-এর উদ্যোগে একটি ‘প্রতিবাদী পেশাজীবী সমাবেশ’ থেকে এমন দাবি জানিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পেশার নেতৃবৃন্দ বলেছেন, প্রেস ক্লাব জাতীয় সম্পদ। এর নিরাপত্তা রক্ষা করা সবারই দায়িত্ব।
বক্তারা বলেন, দেশের মানুষ প্রেস ক্লাবকেই তাদের মনের ভাষা প্রকাশের, দাবি প্রকাশের নিরাপদ ঠিকানা মনে করে। এই নিরাপদ ঠিকানার নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের গণতন্ত্রও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
প্রতিবাদি পেশাজীবী সমাবেশটিতে উপস্থিত হয়ে একাÍতা প্রকাশ করে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত চেয়ারম্যান এম এ সালাম হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা জনগণের বন্ধু, জাতির বিবেক। তাদের নিরাপত্তা দিতে সরকার বদ্ধ পরিকর। যারাই এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হবেন, শান্তির বিপক্ষে দাঁড়াবেন, নিরাপত্তাহীন পরিবেশ তৈরিতে আগ্রাসী হয়ে ওঠবেন, তাদের বিরুদ্ধে শান্তিকামী মানুষ, গণমাধ্যম বান্ধব দেশবাসী সচেতন রয়েছেন।
বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও পেশাজীবী নেতা প্রফেসর মুহাম্মদ ইদ্রিস আলীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) সভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, চট্টগ্রাম এর সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এম এ সালাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এম কফিল উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, সাবেক সভাপতি ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক আবু সুফিয়ান, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আলী আব্বাস, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র সহ সভাপতি শহীদ উল আলম, যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, শ্রমিক লীগের কেন্দ্রিয় যুগ্ম সম্পাদক শফর আলী, সিইউজের সাবেক সভাপতি অঞ্জন কুমার সেন, এম নাসিরুল হক, মোশতাক আহমদ, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, বিএফইউজে’র নির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি)’র কেন্দ্রীয় সদস্য ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমদ চৌধুরী, জš§াষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ গীতা শিক্ষা কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক অ্যাডভোকেট তপন কান্তি দাশ, মহানগর জš§াষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাজল কান্তি দত্ত, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, ওয়ার্ড কাউন্সিলর গিয়াসউদ্দিন, চট্টগ্রাম ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইয়াকুব সিরাজউদদৌলা, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির (বাকশিস) কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সুকুমার দত্ত, সাংবাদিক হাউজিং কো-অপারেটিভ সোসাইটির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আজাদ, টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিইউজের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম, প্রেস ক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ শুকলাল দাশ, গাজী টিভি’র ব্যুরো প্রধান অনিন্দ্য টিটু, টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে দেওয়ান মাকসুদ আহমদ, সম্মিলিত আবৃত্তি জোটের সাধারণ সম্পাদক ফারুক তাহের, সম্মিলিত শিল্পী সমাজের সাধঅরণ সম্পাদক ফরিদ বঙ্গবাসী, রিহাবের পক্ষে প্রচার সেল আহ্বায়ক গাফফার নিয়াজী, কারিকা’র বিশেষ প্রতিনিধি যুবনেতা সাইফুল ইসলাম, যুবলীগের জাবেদুল আলম সুমন, বাংলাদেশ এক্সট্রা মোহরা নকলনবিস এসোসিয়েশনের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের মহাসচিব কামাল উদ্দিন, শিল্পী সাজ্জাদ তপু, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী সুরজিত দত্ত সৈকত, সংবাদপত্র কম্পিউটার অপারেটর এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কায়েস চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু গবেষণা ও সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আসিফ ইকবাল, তরুণ লেখক আহসান আল কুতুবী প্রমুখ।
এছাড়াও সমাবেশে মুঠোফোনে সংহতি জানান রাউজান পৌর মেয়র ও কেন্দ্রীয় জš§াষ্টমী উদযাপন পরিষদ সভাপতি দেবাশীষ পালিত, বাকশিস সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক বেনু কুমার দে, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ লকিতুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক অঞ্চল চৌধুরী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রেস ক্লাবে হামলাকালে আক্রান্ত সিইউজের অর্থ সম্পাদক উজ্জ্বল ধর, বাংলানিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রমেন দাশগুপ্ত ও সুপ্রভাত বাংলাদেশের আলোকচিত্রী সাংবাদিক হেলালউদ্দিন সিকদার, সিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নির্মল চন্দ্র দাশ, নাজিমউদ্দিন শ্যামল, সাবেক অর্থ সম্পাদক নুর উদ্দিন আহমদ, দৈনিক পূর্বকোণ ইউনিটের উপ-প্রধান রোকসারুল ইসলাম, প্রিয় চট্টগ্রাম ইউনিট প্রধান আবদুর রউফ পাটোয়ারী প্রমুখ।
সমাবেশে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম কফিলউদ্দিন চৌধুরী প্রেস ক্লাবে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে পেশাজীবী সাংবাদিকদের আন্দোলনে আইনজীবীদের পক্ষে একাÍতা জানান।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার বলেন, ‘প্রেসক্লাব ধর্ম-বর্ণ কিংবা কোন সংগঠনের প্রতিপক্ষ নয়। প্রেস ক্লাবের নিরাপত্তা রক্ষাও সবারই দায়িত্ব।’
বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ সভাপতি আইইবি, চট্টগ্রাম-এর সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ হারুন সাংবাদিকদের উপর ও প্রেস ক্লাবে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আইইবি ও বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের পক্ষ থেকে সংহতি জানান।
সনাতনী সম্প্রদায় নেতা শ্রীশ্রী জš§াষ্টমী উদযাপরি পরিষদের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার বলেন, ‘সনাতনী সম্প্রদায় গণমাধ্যম বান্ধব। গণমাধ্যম তথা সাংবাদিকরা সবসময় শ্রেণি ও ধর্ম বৈষম্যের বিরুদ্ধেই সোচ্চার দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রেস ক্লাবে ও সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাটি তাই দুঃখজনক।’
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) সভাপতি ও আয়োজক সংগঠন পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘প্রেস ক্লাব সাংবাদিকদের কাছে মসজিদ আর মন্দির, কিংবা নিজের ঘরের মতই পবিত্র। সাংবাদিকরা সর্বমানবের, মানবিকতার জন্য কাজ করেন। কোন ধর্ম বা গোষ্ঠীর সাথে সাংবাদিকদের কোন বিরোধ নেই। তাই প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবারই দায়িত্ব।’

মতামত...