,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সাতকানিয়ায় আওয়ামীলীগের ২ গ্রুপের সংঘর্ষ আহত ২৫

মোঃ নাজিম উদ্দিন,সাতকানিয়া,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের গণসমাবেশের বাইরে আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ–প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও চট্টগ্রাম–১৫ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ড. আবু রেজা নদভীর গ্রুপের মধ্যে শনিবার বিকালে উপজেলার কেরানীহাটে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, ইট–পাটকেল ও সেন্ডেল ছোঁড়াছুঁড়ির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের ও সমাবেশে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। এসময় কেরানীহাটের আতংকিত ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেয়। অন্যদিকে সমাবেশে আগত নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়লে তারাও দিগবিদিক ছুেটাছুটি করতে থাকেন। পরে পুলিশ ও সমাবেশের মঞ্চে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা জানায়, শনিবার আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাতকানিয়ার কেরানীহাটে আগমনকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে কেরানীহাট হক টাওয়ার চত্ত্বরে এক গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিকাল বেলা থেকে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশস্থলে উপস্থিত হতে থাকে। প্রথমে আমিনুল ইসলামের সমর্থনে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মো. মোরশেদ সিকদারের নেতৃত্বে আমিনুল ইসলামের প্লে–কার্ড বহন করে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে, তাঁর পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকেন। এসময় মঞ্চে উপস্থিত আমিনুল ইসলাম তাঁর আসন থেকে উঠে মাইকের স্পিকার নিয়ে মোরশেদকে তাঁর (আমিন) নামে শ্লোগান দিতে নিষেধ করেন। এর কিছুক্ষণ পর আবু রেজা নদভীর পক্ষে তাঁর সমর্থক মুজিবুর রহমান বাদশার নেতৃত্বে মাথায় নদভীর নাম ও নৌকা প্রতীক সম্বলিত কাগুজে টুপি দিয়ে সমাবেশের পূর্ব পার্শ্বে মহাসড়কে আসেন।

জানা যায়, আবু রেজা নদভীর সমর্থকদের পরিকল্পনা ছিল ওবায়দুল কাদের আসলেই তাঁর সাথে মিছিল সহকারে সমাবেশে প্রবেশ করবে। কিন্তু এর মধ্যে ওবায়দুল কাদেরের আগে দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দীন আহমদ একটি কালো জিপে করে সমাবেশে আসলে নদভীর সমর্থকরা তাঁকে ওবায়দুল কাদের মনে করে মিছিল দিয়ে মোসলেম উদ্দীনের সাথে সমাবেশেস্থলে ঢুকে নদভীর পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকে। পূর্ব থেকে সমাবেশে প্রবেশ করা আমিনুল ইসলামের সমর্থকরাও তাঁর নামে পাল্টা শ্লোগান দিতে শুরু করে। এতে উভয়ের সমর্থকরা তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি করতে করতে সমাবেশের বাইরে চলে আসে। সমাবেশের বাইরে এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে ইট–পাটকেল ও সেন্ডেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় গ্রুপ ও সমাবেশে আসা নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়। আহতরা হলেন, বিদ্যুৎ বড়–য়া (৪৪), তরিকুল ইসলাম (২১), মুজিবুর রহমান বাদশা (৩৩), সৈয়দ আলম (৩২), মো. রিদুয়ান (২০), মো. আজাদ (২০), মো. লিটন (২৩), মো. ইমরান (২২), মো. ফেরদৌস (২৪), তকি উদ্দীন (১৯), আমিনুল ইসলাম আরফাত (১৯) ও মো. আজিম (৩৫)। আহতদের কেরানীহাটের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, সাতকানিয়ার ইতিহাসে এত বড় সমাবেশ অতীতে কোন দল করতে পারেনি। এত বড় একটি দলের সমাবেশে কে আগে, কে পরে বসবে এটা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে ধাক্কা–ধাক্কি হতেই পারে। তবে, সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়াতে ধরে নিতে হবে, কোন গন্ড গোলই হয়নি।

সাংসদ আবু রেজা নদভী বলেন, আওয়ামীলীগের বিশাল সমাবেশ হয়েছে, তাতে আমি একমত। তবে সেখানে আমাদের প্রচেষ্টা ছিল বেশি। কিছুটা গ–গোল হলেও আমরা চেয়েছি, শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ হোক। তাঁদের (আমিনুল ইসলাম) লোকজন যেভাবে করেছে এতে আমাদের লোকজনও ক্ষিপ্ত হলে মার্ডার হওয়ার আশংকা ছিল। আমি তাদের নিষেধ করায় খারাপ কোন কিছু হয়নি। তবে গ–গোলে ছাত্রলীগের কিছু ছেলে আহত হয়েছে।

সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম.এ মোতালেব সিআইপি বলেন, এমপি নদভী ও কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে অনাকাক্সিক্ষতভাবে আমাদের সমাবেশের বাইরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে সমাবেশের কোন ক্ষতি হয়নি এবং সাতকানিয়ার ইতিহাসে শান্তিপূর্ণভাবে আওয়ামীলীগের এতবড় সমাবেশ আমরা সম্পন্ন করেছি।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল হোসেন বলেন, আওয়ামীলীগের সমাবেশে প্রচুর লোকের সমাবেশ ঘটেছে। মঞ্চের দু’ পাশে দু’ পক্ষেরই মিছিল এসেছিল। এসময় দু’ পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, পরে কয়েকটি ইট–পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আসলে মূল ঘটনা হচ্ছে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। তবে কোন পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, সবাইতো আওয়ামীলীগের লোক, কাদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে তা বুঝতে পারিনি।
দোহাজারী : চন্দনাইশ সংবাদদাতা জানান, চন্দনাইশ উপজেলা আ. লীগের সমাবেশে আসার পথে দোহাজারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দু’ গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষে ১০ জনের অধিক আহত হয়। আহতদেরকে দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়।

শনিবার উপজেলা আ. লীগের সমাবেশে আসার পথে দোহাজারী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে আ. লীগের দু’ গ্রুপের মধ্যে সংর্ঘষে চাগাচর এলাকার আহমদ ছিদ্দিকের ছেলে মো. সোহেল (২৯), সাইফুল ইসলামের ছেলে নাঈম উদ্দীন (২৭), মৃত আবদুল আজিজের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মুজাফ্ফর আহমদের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম (২১), ছিদ্দিক আহমদের ছেলে মো. রুবেল (২৫), মৃত শহর আলীর ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩৫), মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে কামাল উদ্দীন (২৭), রহিম সিকদারের ছেলে মো. আজম (২৫), রবি চানের ছেলে মামুন (২৫), মেম্বার নুরুন নবীর ছেলে মো. আকতার (২৫), দোহাজারীর মৃত নাছির উদ্দীনের ছেলে মো. সুমন (২৮) সহ ১০ জনের অধিক আহত হয়। আহতদের দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা ও ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরী হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান এবং তাদেরকে শান্ত থাকার জন্য বলেন।

মতামত...