,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সাতকানিয়ায় দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তোড়-জোড়

upeনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম,  দেশব্যাপী ইউপি নির্বাচন তোড়জোর চলছে। চট্টগ্রামের আলোচিত উপজেলার মধ্যে সাতকানিয়াতেও নির্বাচনের হাওয়া বইছে। যদিও এ উপজেলায় নির্বাচন আরো কয়েক মাস বাকি। তবুও দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ইউনিয়নের তিনটি পদে দলীয় প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নিজেদের অনুকূলে নৌকায় ভিড়াতে এবারে প্রার্থীদের আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৪ জুন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত না হলেও মাঠে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় পারিবারিক, সামাজিক ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ছুটছেন দিন-রাত। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দিবসকে উপলক্ষে করে দোয়া, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সাঁটানো পোস্টার ও ডিজিটাল ব্যানার শোভা পাচ্ছে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে। গ্রামের চায়ের দোকান, হাটবাজার, অফিস আদালতসহ সর্বত্র চলছে এলাকার চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা। তবে আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যানার ও পোস্টারের মাধ্যমে যেভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন অন্য কোন দলের কোন প্রার্থীর পক্ষে এরকম প্রচারণা দেখা যায় নি।

এর কারণ হিসাবে অন্যান্য দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা বলছেন, মামলার হয়রানি থেকে বাঁচার জন্য এখনও দলের প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন না। তবে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত অংশ গ্রহণ করছেন তারা। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জামায়াত-বিএনপির সমর্থিত সম্ভাব্য অনেক চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থী তাদের রাজনীতির খোলশ বদলে আওয়ামী লীগের নৌকায় উঠতে জোর চেষ্টা করছেন। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের উর্ধ্বতন নেতাদের ম্যানেজ করে ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে- ১ নম্বর চরতি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে আগ্রহী মোস্তাকিম চৌধুরী, মাঈনুদ্দিন চৌধুরী, মমতাজ উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন খান, সোহেল মোহাম্মদ মনজুর। বর্তমান চেয়ারম্যান রেজাউল করিম (জামায়াত সমর্থিত) কারাগারে থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। ২ নম্বর খাগরিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগরে প্রার্থী হিসেবে মো. জসিম উদ্দিন, আকতার হোসেন, রাশেদ আজগর চৌধুরী সুজা, হাসান মাহমুদ ও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে হারুনুর রশিদের নাম আলোচনায় আসছে।

৩ নম্বর নলুয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকে আগ্রহী তসলিমা আক্তার, কামাল উদ্দিন, আ জ ম সেলিম, এটিএম সাইফুল আলম ও কৃষ্ণ কান্তি দত্ত। প্রতীক না থাকলেও জামায়াতের পক্ষে দিদারুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শাহ আলম নির্বাচন করবে বলে শোনা যাচ্ছে। ৪ নম্বর কাঞ্চনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পক্ষে রমজান আলী, নুরুল আলম, মুখলেছ উদ্দিন জাকের ও মিজানুর রহমান মারুফ প্রার্থী হওয়ার জন্য তোড়-জোড় করছেন। এক সময় জামায়াতের শক্ত অবস্থান থাকলেও এবারে এই ইউনিয়নে বিএনপির মোরশেদুল আলম নির্বাচনের মাঠে থাকবে বলে আওয়াজ উঠেছে।

সাতকানিয়ার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন পাঁচ নম্বর আমিলাইশ। দীর্ঘদিন ধরে এই ইউনিয়ে চেয়ারম্যান পদে আছেন সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী। সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন হওয়ার পর এলাকার কোন উন্নয়ন না হওয়ায় সমালোচনা তাঁকে নিয়ে। সংখ্যালঘুদের ভূমি দখল করে নিজ নামে বাজার গড়ে তোলা, শঙ্খ নদীর ভাঙ্গনে ছোট এই ইউনিয়টির বড় একটি অংশ বিলীন হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া, নদী ভাঙ্গন রোধ প্রকল্পের অর্থ আতœসাৎ, এলজিএসপির টাকা আতœসাৎ, ভিজিপি কার্ডের মাধ্যমে চাল বরাদ্দে অনিয়ম, এক-এগারোর সময়ে নিজেকে সংষ্কারপন্থী হিসেবে উপস্থাপনসহ শত শত অভিযোগ বর্তমান চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

এছাড়া এসএল এন্টারপ্রাইজ নামে সরওয়ার ও তার সহোদর লেয়াকতের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের কয়েকটি ব্যাংকের শাখা থেকে কয়েক কোটি টাকা খেলাপির ঘটনায় মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে ইউসিবিএল ব্যাংকের প্রায় পাঁচ কোটি টাকার খেলাপির ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে দু’টি মামলা দায়ের হয়েছে চট্টগ্রামের অর্থঋণ ও মহানগর আদালতে।

তবে এসব বিষয় অস্বিকার করে সরওয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান এলাকার লোকজন আমার উপর সন্তুষ্ট তাই তারা আমাকে আবার চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়। ইউনিয়নবাসীর মতামত নিয়ে আমি প্রার্থী হয়েছি।

এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউর রহমান। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পার না হওয়া, মাটি কাটার শ্রমিক শাহেদ হত্যার ঘটনায় জড়িত, ডলু খালে বালুর ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় তাকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মানতে নারাজ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দের অভিযোগ জিয়াউর রহমান প্রার্থী হলে দলের ইমেজ নষ্ট হবে।

এক্ষেত্রে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ এই ইউনিয়নকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে শরীক করাতে দলীয় প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম আখতারুজ্জামানকে। সাতকানিয়া কলেজ ছাত্র লীগের সাবেক এই নেতা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়িক পরিবারের সন্তান। হিলমিলি শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের প্রতিষ্ঠাতা আখতারুজ্জামান বর্তমানে আমিলাইষ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি, হিলমিলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও হাজী আজগর আলী মিয়াজী ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্বচ্ছ ইমেজের কারণে এবারে নৌকা তার অনুকূলে ভিড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগসহ এলাকার সচেতন জনগণ। দলেরহাই কমান্ডও তার পক্ষে রয়েছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্পাদক আবদুল করিম, সাবেক চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান ও শামসুল ইসলাম নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেতে আগ্রহী। জামায়াতের পক্ষের প্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ আবুল হাশেম’র নামও আসছে।

৬নম্বর এওচিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাহমুদুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের পক্ষে মো. আবু ছালেহ, মাহাবুবুল হক চৌধুরী জুয়েল, হাজী দেলোয়ার হোসেন, নুরুল হক চৌধুরী, বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ডা. আইয়ুব আলী চৌধুরী আগ্রহী বলে জানা গেছে। ৭ নম্বর মাদার্শা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে রিদুয়ানুল হক, নজরুল ইসলাম সিকদার, আহাম্মদুর রহমান চৌধুরী, আ.ন.ম সেলিম, বিএনপির জামাল হোসেন প্রার্থী হতে আগ্রহী। ৮নম্বর ঢেমশা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে, রমজান আলী মো. সাইফুল্লাহ, আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান জনি, কামাল উদ্দিন আহমেদ, মো. রিদুয়ান উদ্দিন, এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন, আবদুল মজিদ, জামায়াতের পক্ষে নুরুল আলম মনোনয়ন পেতে চেষ্টা করছেন।

৯নম্বর পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে আবু তাহের জিন্নাহ, ফরিদুল ইসলাম, মাহমুদুর রহমান, স্বতন্ত্র হিসেবে, সরওয়ার কামাল নির্বাচনে আসতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ১০ নম্বর কেঁওচিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের হয়ে মো. মনির আহমদ, ওসমান গণি সিকদার, মাহবুবুর রহমান, মাস্টার মো. ইউনুচ, ওসমান আলী, জসিম উদ্দিন, শামশুল ইসলাম, আবু সালেহ শান, মোহাম্মদ ফেরদৌস, মো. সেলিম, নুর হোসেন ফোরক কোম্পানি মনোনয়ন পেতে জোর তদবির করছেন।

১১ নম্বর কালিয়াইশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের পক্ষে মাস্টার মো. মহিউদ্দিন, মো. আবু ছালেহ, হাকিম আলী, হাফেজ আহমদ, বাবর আহমদ বাবু, দেলোয়ার হোসেন, বিএনপির পক্ষে সাব্বির আহমদ ওসমানি এবং এলডিপি’র পক্ষে হোসেন উদ্দিন আহমদ ভ’ট্টো নির্বাচন করতে আগ্রহী বলে জানা গেছে। ১২ নম্বর ধর্মপুর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ পেতে এম ইলিয়াছ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন হিরু, আ স ম ইদ্রিছ, মনজুর কামাল চৌধুরী, মফজল আহমদ চৌধুরী এলাকায় প্রচারণা শুরু করেছেন।

১৩ নম্বর বাজালিয়া ইউনিয়নে আওয়ীমী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে রফিক আহমদ চৌধুরী, শহিদুল্লাহ চৌধুরী, নরুল আমিন সিকদার চেষ্টা করছেন। ১৪ নম্বর পুরানগড় ইউনিয়নে নৌকায় উঠতে চেষ্টা করছেন রাশেদ হোসেন সিকদার দুলু, মাহবুব সিকদার, এ.এইচ.এম আজাদ চৌধুরী। আওয়ীমী লীগের মনোনয়ন পেতে ১৫নম্বর ছদাহা ইউনিয়নে খানে আলম মিন্টু, মোরশাদ হোসেন চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম ও কুতুব উদ্দিন তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এলডিপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আসতে চায় জসিম উদ্দিন

১৬ নম্বর সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নে নৌকা পেতে চেষ্টা করছেন মো. সেলিম উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, মাস্টার ফোরক আহমদ, এস এম আজিজ, জাবেদুর রশিদ। ১৭ নম্বর সোনাকানিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোয়ন পেতে আগ্রহী আবু তাহের মাস্টার, ইরফানুল করিম চৌধুরী, মো. জসিম উদ্দিন, নুর আহমদ, সেলিম উদ্দিন। সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বার ও সাধারণ মেম্বার নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় প্রতীক না থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা কিছুটা কম।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের বেঁধে দেয়া সময় চলতি বছরের ৪ জুন ষষ্ঠধাপে সাতকানিয়া উপজেলার ১৭ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি।

বি এন আর/০০১৬০০২০২৮/০০০২০০/এস

মতামত...