,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সাতকানিয়ায় মেয়র প্রাথীদের স্ত্রীরাই বেশী সম্পদশালী

satkনিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম, ১৩ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):: সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে প্রাথীদের তুলনায় তাদের স্ত্রীরাই বেশী সম্পদশালী।  আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের চেয়ে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেশি। আর বিএনপির  মেয়র প্রার্থী রফিকুল আলম ৫০ লাখ টাকা স্ত্রীর কাছ থেকে ধার নিয়েছেন। তবে তাঁদের দুজনের স্ত্রী গৃহিনী। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় তাঁরা এ তথ্য উল্লেখ করেছেন ।
সাতকানিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের ও বিএনপির রফিকুল আলমের মধ্যে। নির্বাচন কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামায় এই দুই প্রার্থীই নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হলফনামাগুলোতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়েরের চেয়ে তাঁর স্ত্রীর সম্পদ বেশি। বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী রফিকুল আলমের নিজের সম্পদ বেশি হলেও স্ত্রী ও ব্যাংকের কাছে তাঁর ধারদেনা রয়েছে। হলফনামায় দুজনই তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলে দাবি করেছেন।
বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম হলফনামায় উল্লেখ করেছেন, তিনি কৃষি জমি ও বাড়ি ভাড়া থেকে বছরে ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ১৬৫ টাকা আয় করেন। এর মধ্যে কৃষি জমি থেকে আয় হয় পাঁচ হাজার টাকা। আয়ের বাকিটা আসে বাড়ি ভাড়া থেকে। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে সাতকানিয়ায় ১২ শতক কৃষি জমি, পাঁচ তলা বাণিজ্যিক ভবন, চট্টগ্রাম নগরের কাটাপাহাড় লেনে একটি বিপণিবিতানের ৩০ শতাংশ মালিকানা এবং ঘাটফরহাদ বেগে হাজি ভিলা নামের ছয় তলা বিশিষ্ট একটি ভবন। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে তাঁর নগদ তিন লাখ টাকা রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার ৪৯০ টাকা জমা আছে। এ ছাড়া তাঁর ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা দামের একটি গাড়ি, এক লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার রয়েছে। তিনি স্ত্রীর সম্পদ বিবরণীর জায়গায় প্রযোজ্য নয় শব্দটি উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০ লাখ, আইএফআইসি ব্যাংক, লালদীঘির পূর্বপাড় শাখা থেকে ১৭ লাখ ৯ হাজার ৮৭৫ টাকা ও মোহাম্মদ ইসলাম নামের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে তিন লাখ টাকাসহ মোট ৭০ লাখ নয় হাজার ৮৭৫ টাকা ঋণ করেছেন। নির্বাচনে তিনি দুই লাখ টাকা ব্যয় করবেন বলে জানান। এই টাকা তাঁর নিজের আয় থেকেই সংগ্রহ করবেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন তিনি।
স্ত্রীর কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা ধার নেওয়া প্রসঙ্গে, জানতে চাইলে রফিকুল আলম বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম কে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ব্যবসা করেছি। বিদেশ থাকাকালীন সময়ে স্ত্রীর নামে ব্যাংকে টাকা পাঠাতাম। পরে ওই টাকা দিয়ে স্ত্রীর নামে জমি কিনেছি। ওই জমি বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া গেছে ওই টাকাই স্ত্রী আমাকে ধার হিসেবে দিয়েছেন।’
আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ জোবায়ের ব্যবসা থেকে বছরে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লায় গ্রিন ডট এন্টারপ্রাইজ নামের একটি মুদ্রন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। পাশাপাশি তিনি আগ্রাবাদের সাউথপয়েন্ট হাসপাতালের পরিচালক ও সাতকানিয়া উপজেলায় এলপি গ্যাস মজুতের প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন উইংয়ের স্বত্বাধিকারী। তাঁর অস্থাবর সম্পদ হিসেবে আছে নগদ ২০ হাজার টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর কাছে ৩০ হাজার টাকা । নিজের নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫৬ হাজার ছয় শ টাকা আছে। তাঁর স্ত্রীর নামে ব্যাংকে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার আছে। তাঁর স্থাবর সম্পদের মধ্যে দেড় শতক পৈতৃক জমিও রয়েছে। তিনি ব্যক্তিগত আয়, উপহার ও ধার করে পাওয়া তিন লাখ টাকা নির্বাচনে ব্যয় করবেন বলে উল্লেখ করেছেন।
তাঁর  স্ত্রীর সম্পদের ব্যাপারে জানতে চাইলে মোহাম্মদ জোবায়ের  বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম কে বলেন, ‘ব্যবসা করে যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে নিতে হয়। নিজের বেশি সঞ্চয় নেই। স্ত্রীর নামে ৩০ লাখ টাকার যে সঞ্চয়পত্র রয়েছে তা তিনি তাঁর ব্যবসায়ী বাবার কাছ থেকে পেয়েছেন। আগামী ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

মতামত...