,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সাতকানিয়ায় শেষ মুহুর্তে ঈদ বাজারে ক্রেতাদের উপচে-পড়া ভিড়

aমোঃ নাজিম উদ্দিন, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি,বিডিনিউজ রিভিউজঃ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিভিন্ন বিপনী বিতান গুলোতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। রমজানের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ শেষ। সর্বস্তরের ক্রেতাই কোনরকমে শেষ করতে চায় তাদের কেনাকাটা। মধ্যরাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদভারে মুখরিত বিপনী কেন্দ্রগুলো। নির্ঘুম রজনী কাটছে ব্যবসায়ীদের। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দোকান গুলোকে ব্যবসায়ীরা সাধ্যমত পসরা সাজিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড় চোপড়, প্রসাধনী, জুতা-সেন্ডেল ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সমন্বয় ঘটিয়েছেন। দোকানের বাড়তি আকর্ষণ হিসাবে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের মন জয়ের জন্য সংযোজন করেছেন অতিরিক্ত রং বেরংয়ের বিজলী বাতি।
রমজান শুরুর আগে থেকেই কেরানীহাটের নিউ মার্কেট, হক টাওয়ার, সানমুন সিটি ও সাতকানিয়া সদরের মেইন রোড, চিকন গলি, মকবুল সিরাজী মার্কেট ও পি এস টাওয়ারকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। দোকানে দোকানে সাজানো হয়েছে বাহারি শাড়ি, থ্রি পিস, তৈরি পোশাক, জুতা, সেন্ডেল ও প্রসাধন সামগ্রী। তবে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ে জানান, এ বছর সব ধরনের পণ্যের দাম একটু বেশি।
aকেরানীহাটের নিউ মার্কেট, হক টাওয়ার, সানমুন সিটি ও অন্যান্য মার্কেটে ছোট বড় প্রায় ৮৭৫ টি দোকান রয়েছে। সাতকানিয়া সদরের মেইন রোড, চিকন গলি ও অন্যান্য বিপনি কেন্দ্র গুলোতে দোকান রয়েছে প্রায় ৩২০টি। এ সব বিপনিকেন্দ্র ও সড়কের পাশের প্রত্যেক দোকানই শাড়ি, থ্রি পিস, থান কাপড়, তৈরি পোশাক, প্রসাধন সামগ্রী ও স্বর্ণের দোকান। সব দোকানেই রয়েছে নিত্য নতুন ডিজাইনের পোশাক, সেন্ডেল ও প্রসাধনী। কেরানীহাট নিউ মার্কেটের উপহার বস্ত্র বিতানের মালিক মোহাম্মদ আলী বলেন, এবারের রমজানে বিক্রির জন্য ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে থ্রি পিস ও শাড়ি সংগ্রহ করেছি। বিক্রিও ভালো। একই মার্কেটের প্রসাধন সামগ্রীর দোকানদার মোঃ আবু ছালেহ জানান, ঈদ বাজারের জন্য প্রচুর পণ্য সামগ্রী দোকানে রেখেছি। রমজানের আগে থেকেই নারীরা পছন্দের পণ্য কিনছে। তাই বেচা বিক্রিও ভাল হচ্ছে।
কেরানীহাট ও সাতকানিয়া সদরের বিভিন্ন দোকান ঘুরে জানা যায়, কাপড়ের মান ও ডিজাইন ভেদে থ্রি পিস ১০০০ থেকে ১২০০০ হাজার টাকা, সুতি শাড়ি ২৫০ থেকে ৪০০০ টাকা, কাতান ও জামদানি ২০০০ থেকে ১৫০০০ হাজার টাকা, শার্ট ২৫০ থেকে ৩৫০০ হাজার টাকা, জিন্স প্যান্ট ৫০০ থেকে ৩০০০ হাজার টাকা, পাঞ্জাবী ২০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, সেন্ডেল ১২০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার নলুয়া ইউনিয়ন থেকে আসা মো. সাবের হোসেন নিউ মার্কেটে কেনাকাটা শেষ করে মোটর সাইকেলে করে তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সাবের হোসেন জানান, বেশি দোকান ঘুরে দেখতে হয়নি। কয়েকটি দোকান ঘুরে নিজের স্ত্রী ও মেয়েদের পছন্দের কাপড় কিনতে পেরেছি।
সাতকানিয়ার অধিকাংশ কাপড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার ভারতীয় কাতানের পাশাপাশি দেশীয় জামদানির চাহিদা বেশি। থ্রি পিসের মধ্যে লম্বা কামিজ ও চুড়িদার সালোয়ারই বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপশি লিলেনের থান কাপড়েরও চাহিদা রয়েছে।
আবার অনেক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত, পাকিস্তান ও দেশী সুতি কাপড়ের লং থ্রি পিসের চাহিদা খুব বেশি। স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় অনেকেই পোশাকের পাশাপাশি স্বর্ণের অলংকারও কিনছেন। বিভিন্ন দোকানদার ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিগত ঈদ বাজারে ভারতীয় সিরিয়াল ও নায়িকাদের নামে শাড়ি ও থ্রি পিসের নামকরণ করা টাপুরটুপুর, পাখি শাড়ী ও থ্রি-পিচ, ঝিলিক, আশিকি টু, জলপরী, পাগলু আর শিশুদের কুটি পাঞ্জাবী সেট অরণ্য সিংহ রায় বেশ চাহিদা ছিল। কিন্তু এবারে নাম করন খুব একটা হয়নি তবে সাতকানিয়া এলাকার বিপনীগুলোতে স্থানীয়ভাবে কিছু নাম শুনা যাচ্ছে। যেমন মেয়েদের থ্রি-পিসে রয়েছে টু-জি, থ্রি-জি অপরদিকে শিশুদের কুটি পাঞ্জাবী’র নাম দেয়া হয়েছে ফোর-জি ইত্যাদি। সাতকানিয়ার বিভিন্ন দোকান আর বিপনী কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা কাপড় কোনটি তা দেখার যেন প্রয়োজন নেই নাম নিয়ে পাগল পারা ক্রেতারা। সবার মুখে শুধু শুনা যাচ্ছে টু-জি, থ্রি-জি এবং ফোর-জি।

মতামত...