,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সাতকানিয়ায় সন্ত্রাসী হামলা গুড়িয়ে দিল দোকান

aমো. নাজিম উদ্দিন, দক্ষিন চট্টগ্রাম  সংবাদদাতা, বিডিনিউজ রিভিউজঃ সাতকানিয়ায় এক নীরিহ দোকানদারের দোকান ঘর গুড়িয়ে ছিয়েছে সন্ত্রাসীরা। দীর্ঘ ১শত ২০ বছরেরও পুর্ব থেকে দখলীয় লেয়াকত আলী খাঁনের দোকান ঘর স্থানীয় ভূমিদস্যু ইছহাক মিয়া ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে দিনে দূপুরে ফিল্মি ষ্টাইলে দোকান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহষ্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার সময় উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব কাটগড় খাঁন বাড়ি এলাকায়।
জানা যায়, মৃত আমিন খানের ছেলে লেয়াকত আলী খাঁন তাঁর পূর্ব পুরুষ থেকে প্রাপ্ত দোকানটি চালিয়ে আসছিল। কয়েক বছর আগে দোকানে শিশুদের খেলনাসহ প্রশিক্ষন বাই-সাইকেল ভাড়া দিয়ে লেয়াকত সংসার চালাতেন। পরবতীর্তে তাঁর আর্থিক অবস্থার অবনতির কারনে সকাল বিকেল চা এবং রুটি বিক্রি করতেন। লেয়াকতের আগে দোকানটি তাঁর পিতা আমিন খাঁন চালাতেন বলে দোকানের নামানুসারে এলাকার নাম আমিন খাঁনের দোকান মোড় হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। গত বছর দু’য়েক আগে লেয়াকত খাঁনের প্রতিবেশী ভূমিদস্যু ইছহাক মিয়া দোকানের পাশে নিজস্ব জায়গায় একটি স’মিল স্থাপন করেন। স’মিল স্থাপনের পর থেকে মিলের চোরাই কাঠ মজুদের জন্য দোকান ছেড়ে দিয়ে জায়গাটি খালি করতে লেয়াকত খাঁনকে চাপ দিতে থাকেন ইছহাক। লেয়াকত ও তাঁর পরিবার ইছহাকের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বৃহষ্পতিবার বহিরাগত ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে দরিদ্র লেয়াকতের দোকান ভেঙ্গে মাটির সাথে গুড়িয়ে দেন।
লেয়াকতের ভাতিজা শাহাদাত হোসেন রোকন জানান, আমি বাড়ির একটু দূরে জমিতে সার দিচ্ছিলাম এ সময় দেখলাম ১৫/২০ শসস্ত্র লোক নিয়ে আওয়া¥লীগ নেতা মহিউদ্দিন মাষ্টারের বাড়ির দিকে থেকে বের হয়ে উত্তর দিকে আসে। তিনি আরো বলেন, ১৫/২০ জনের বহিরাগত লোকদের প্রত্যেকের হাতে ছিল লম্বা দা’, কিরিচ, কন্তা ও হকিষ্টিক। এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাউসার খাঁন ও নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমরা উত্তর কালিয়াইশ হাসপাতাল মোড়ে চা’খেতে আসলে বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় আমার চাচার দোকান সন্ত্রাসীরা ভাংচুর করছে আমরা দৌঁড়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ১৫/২০ জনের বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী দোকান ভাংচুর করছে।
এ ঘটনায় লেয়াকত আলী খাঁন বাদী হয়ে সাতকানিয়া একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সাতকানিয়া থানার এসআই প্রিয় লালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শীঘ্রই মামলা রুজু করা হবে, জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিনের কারো দখলীয় জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে হলে বেশ কিছু আইনী প্রক্রিয়া রয়েছে। বেআইনীভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় জায়গা দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কালিয়াইশ ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাফেজ আহমদ বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজের জন্য আমি নিন্দা জানাচ্ছি। সাথে সাথে এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি।
অপরদিকে অভিযুক্ত ইছহাকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লেয়াকত আমার স’মিলের জায়গা ধীরে ধীরে দখল করার চেষ্টা করলে আমি প্রথমে বাঁধা দিই। বাঁধা অমান্য করে দখল অব্যাহত রাখলে আমি আমার ভাগিনাসহ অন্যান্যদের নিয়ে দোকান ভেঙ্গে দিই।

মতামত...