,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সাব মেরিন ক্যাবলে বিদ্যুৎ, আলোয় ফিরছে সন্দ্বীপ

bd news logoসন্দ্বীপ সংবাদ দাতা, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ  সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে সন্দ্বীপে। মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপ উপজেলায় বিদ্যুৎ নিয়ে যেতে সাগরের তলদেশ দিয়ে টানা হবে দীর্ঘ ১৫ কিমি ক্যাবল।দেশে প্রথমবারের মত সাব মেরিন ক্যাবলের এই প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে এ বছর ডিসেম্বরের পূর্বেই  কাজ শুরু হবে এবং ২০১৭ সালে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পাবে সন্দ্বীপবাসী। পাইলট প্রকল্প হিসেবে সন্দ্বীপে সফলভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলে পরবর্তীতে হাতিয়া, কুতুবদিয়াসহ অন্যান্য দ্বীপেও এভাবে বিদ্যুৎ দেয়ার কথা ভাবছে পিডিবি।

জানা গেছে,  আন্তর্জাতিক টেন্ডারের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চলতি বছর জুন মাসের মধ্যে নির্বাচিত ঠিকাদারের সাথে চুক্তি হবে। জাতীয় গ্রিড থেকে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহের নিমিত্তে ১০ সেপ্টেম্বর’২০১৪ তারিখে একনেক বৈঠকে প্রকল্পটির জন্য ১৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

জানা  গেছে,  চট্টগ্রাম অঞ্চল বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সন্দ্বীপে এ ব্যতিক্রমী প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগে নেয়া হয় । পাওয়ার সাব-স্টেশনের জন্য ইতোমধ্যে পূর্ব সন্দ্বীপ হাই স্কুল সংলগ্ন গুপ্তছড়া-সন্দ্বীপ সড়কের পাশে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।  প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। ৮ মার্চ প্রকল্প পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল সন্দ্বীপ গিয়ে সরেজমিন পরিদর্শন  করেছেন।

সন্দ্বীপ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতা বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি তার অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এটি আজ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরে যাচ্ছে সন্দ্বীপবাসী।

জানা গেছে, সীতাকুন্ডের বাকখালী থেকে সন্দ্বীপের বাউরিয়া পর্যন্ত সন্দ্বীপ চ্যানেলে দীর্ঘ ১৫ কি. মি. জুড়ে টানা হবে, সাব মেরিন ক্যাবলএর মাধ্যমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিড থেকে সন্দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।  এর ফলে বদলে যাবে দ্বীপের আর্থ-সামাজিক অবস্থা। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ ন্যূনতম নাগরিক সুবিধাগুলো থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত এলাকার  মানুষ।

 

বর্তমানে ইংল্যান্ড থেকে আমদানীকৃত ২টি জেনারেটরের মাধ্যমে প্রায় ২০০০ গ্রাহককে প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এ বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রতি ইউনিটে ২০ টাকারও বেশি। পুরবী এনার্জি নামে একটি বেসরকারী সোলার প্ল্যান্টও দ্বীপের এনাম নাহার এলাকায় ১ বর্গ কি:মি: জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। এ বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকদের ইউনিট প্রতি ৩৩ টাকা বিল গুনতে হয়।  দ্বীপের প্রত্যন্ত এলাকায় কয়েক হাজার গ্রাহক সোলার প্যানেলের মাধ্যমে কোনমতে আলোর চাহিদা পূরণে চেষ্টা করছে। এ প্যানেল থেকে বর্ষাকালে আলো পেতে নানা ভোগান্তি লেগেই থাকে। এ বিদ্যুৎ দিয়ে ফ্যান চালানো কিংবা অন্যান্য সুবিধা নেয়া কঠিন এবং অস্পষ্ট আলোয় ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ দেয়া হলে  এখানকার প্রায় ৫০/৬০ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। প্রবাসী হাজার হাজার দ্বীপবাসীর প্রেরিত অলস বৈদেশিক মুদ্রায় এখানে ছোট খাটো শিল্প-কারখানা চালু হবে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত দ্বীপের বিভিন্ন স্থানে পর্যটন স্পট সৃষ্টির পাশাপাশি এখানকার মৎস্য ও দুগ্ধজাত শিল্প বিকাশের মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে ব্যাপক সম্ভাবনা সৃষ্টির আশা করা যাচ্ছে।

 

বি এন আর/০০১৬০০৩০০১৩/০০০২০১/পি

মতামত...