,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সারাদেশের হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়ার হুমকি নার্সদের দাবি না মানলে

aনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃঢাকা,স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বাংলাদেশ নার্সেস ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ইসমত আরা পারভীন বলেছেন, আপনি চাকরি খেলেও ভয় করি না, নার্সদের দাবি না মানলে দেশের সকল হাসপাতাল বন্ধ করে দেয়া হবে।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দাবি আদায়ে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর সাত বছর পূর্বের ঘোষণা বাস্তবায়নসহ নার্স সমাজের বিরাজমান সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ নার্সেস ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ মানববন্ধন করা হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে ইসমত আরা পারভীন বলেন, ‘মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর খুবই আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন ওনাকে ধিক্কার জানাই, ওনার পদত্যাগ চাই।’

তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘অনেকদিন বেকার নার্সরা রাস্তায় বসে আছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল- আসলে তোমরা কি চাও। তোমাদের আমি কি উপকার করতে পারি। তোমরা আসো আমাদের সাথে আলোচনা করো।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘ওনাকে (স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে) ফোন দিলে উনি ওনার ফোনটা ওয়াইফকে (স্ত্রী) ধরিয়ে দেন। আমি আমার নার্সদের ব্যাপারে বারবার কথা বলেছি, উনি একবারও কর্ণপাত করেননি। উনি আছেন শুধু বদলি বাণিজ্য করার জন্য।’

নার্সদের দপ্তরে আমলারা বদলি বাণিজ্য করে খাচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে তিনি আরো বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা আপনারা নার্সদের দপ্তরে যান, গেলে দেখতে পারবেন- আমলারা কিভাবে বদলি বাণিজ্য করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে নার্স সংগঠনের এই নেতা বলেন, ‘নার্সদের জন্য প্রধানমন্ত্রী আছে। নার্সরা প্রধানমন্ত্রীর বাসার সামনে গিয়ে বসবে। প্রধানমন্ত্রী তাদের এক অনুষ্ঠানে পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০১৪ সালে আরো ১০ হাজার নার্স নিয়োগের ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পর দুই বছর অতিবাহিত হলেও আজও ঘোষণার বাস্তবায় হচ্ছে না। নার্সিংয়ে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেয়ার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সব করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। মহাখালিতে নার্স ভবন করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। জায়গা পেয়েছি। কিন্তু ভবন তৈরি এখনো হয়নি।’

ইসমত আরা বলেন, ‘দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যদা নার্সদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যদা দেয়ার কথা বললেও নার্সরা আজও প্রথম শ্রেণির পদমর্যদা পায়নি।’ তবে তিনি আশাবাদি প্রধানমন্ত্রী নার্সদের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করবেন।

এই মানববন্ধন থেকে নার্সরা নয় দফা দাবি তুলেছে। একই সাথে সামনে আরো দুইদিনে কর্মসূচি দিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২৪ এপ্রিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং ২৯ এপ্রিল মহাসমোবেশের মাধ্যমে বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তাদের নয় দফা দাবির মধ্যে প্রথমেই রয়েছে, ২৮ মার্চ পিএসসির দেয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে পূর্বের মতো ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ বাস্তবায়ন। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ১০ হাজার পদ সৃষ্টিসহ সকল শূন্য পদে ৮৯ শতাংশ ডিপ্লোমা ও ১১ শতাংশ বেসিক বিএসসি থেকে নিয়োগ দিতে হবে। এরপরই এসেছে তাদের প্রথম শ্রেণির পদমর্যদা বিষয়টি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নার্সেস ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের সভাপতি হাসনা বেগম, মহাসচিব জসিম উদ্দিন বাদশা, স্টাফ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হোসেন মিলনসহ বাংলাদেশ ডিপ্লোমা বেকার নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ বেসিক গ্রাজুয়েট নার্সেস সোসাইটির নেতারা।

 

মতামত...