,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় পুলিশের গুলিতে ১০ হত আহত ৩৫

aনিজস্ব প্রতিবেদক,  বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা,  সারাদেশে নির্বাচনী সহিংসতায় পুলিশের গুলিতে ১০ হত আহত ৩৫ ।

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ধানীসাফা ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের  সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার রাতে সাপা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ফল ঘোষণা নিয়ে পুলিশ-বিজিবির গুলিতে এই নিহতের ঘটনা ঘটেছে।

 

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এরা হলেন শাহাদত (৩০), সোহেল (২৫), বেলাল (৩০), সোলায়মান (২০) ও  কামরুল মৃধা (২৫)।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ধনীসাফা ইউনিয়নের কলেজ কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু ওই কেন্দ্রের আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোপন সূত্রে খবর পান যে তিনি পরাজিত হতে যাচ্ছেন।

 

এ খবর শোনার পর তার সমর্থকরা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমর্থকদের অনেক বোঝানোর পরেও তারা শ্লোগান দিতে থাকেন এবং ইট পাটকেল ছুড়েন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা গুলি ছোঁড়ে এবং ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা যান।

 


নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে ১ জন নিহত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলা সদর ইউনিয়নে পুলিশের গুলিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর ভাই নিহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার ইউনিয়নের আধাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।

 

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহতের নাম- আবু কাউসার। তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের ভাই।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জেলার খালিয়াজুরী সদরের আধাউড়া কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে গণনা শুরু হয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের সমর্থকরা জোর করে ভোটকেন্দ্রের ভেতর প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ কারণে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

 

প্রথমে পুলিশ এক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। পরে পরিবেশ উতপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এ সময় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী গোলাম আবু ইসহাকের ভাই কাউসার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

 

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ আবু নাসের জানান, ভোটকেন্দ্রে গোলযোগের সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।

 

ঝালকাঠিতে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রার্থীর ভাই নিহত

ঝালকাঠিতে নির্বাচনী সহিংসতায় আবুল কাশেম সিকদার (৫৫) নামে এক ইউপি সদস্য প্রার্থীর ভাই নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

নিহত আবুল ইউপি সদস্য প্রার্থী চুন্নু সিকদারের ভাই। নিহতের ছেলে সোহাগ সিকদার এ অভিযোগ করেন।

 

মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের কালিয়ান্দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইউপি সদস্য প্রার্থী সজীব হোসেনের সমর্থকরা দলবল দিয়ে জাল ভোট দিচ্ছিল। এতে বাঁধা দেন চুন্নু সিকদারের সমর্থকরা।

 

এমন সময় সজীব হোসেনের সমর্থকরা লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালান চুন্নু সিকদারের সমর্থকদের ওপরে। তাদের হামলায় আবুল কাশেম গুরত্বর আহত হলে পরে তাকে ঘটনাস্থাল থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আরো ৮ জনের মতো আহত হয়েছেন।

 

টেকনাফে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর ভাইসহ দুইজনের মৃত্যু

কক্সবাজার জেলার সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

 

মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীদ্বীপ ও সাবরাং এলাকায় পৃথক এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

সংঘর্ষে নিহত দুইজন হলেন শাহপরীরদ্বীপ ৭নং ওয়ার্ডের মাঝের পাড়ার মোহাম্মদ দুদু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শফিক এবং সাবরাং এলাকার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী নুর হোসেন মেম্বারের আপন ভাই আব্দুল গফুর।

 

টেকনাফের একাধিক সূত্র মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করলেও আইন-শৃংখলা বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় সূত্র গুলো মতে, শাহপরীরদ্বীপের ৭নং ওয়ার্ডে দুই মেম্বার প্রার্থী নুরুল আমিন ও সেলিম উল্লাহ মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশও এই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ওই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মাঝের পাড়ার দুদু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ শফিক মারা যান।

 

সূত্র আরো জানয়, ভোট গণনাকালে নুরুল আমিন বেসরকারিভাবে মেম্বার নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষ প্রার্থী সেলিম উল্লাহ মেম্বারের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে যান।

 

ওই কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল নিশ্চিত হওয়া না গেলেও একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, নুরুল আমিন ৯৪৯ ভোট ও প্রতিদ্বন্ধি সেলিম উলস্নাহ মেম্বার ৯৪৫ ভোট পান। ৪ ভোটের এই ব্যবধানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ শুরু হয়।

 

অন্যদিকে সাবরাং ইউনিয়নের সাবরাং মণ্ডলপাড়া কেন্দ্রের ফলাফল কেন্দ্রে ঘোষণা না করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী ও যুবলীগ নেতা নুর হোসেনের সমর্থকরা ব্যারিকেড দিয়ে কেন্দ্রেই ফলাফল ঘোষণার দাবি জানান।

 

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র জানিয়েছেন, ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি চালালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নুর হোসেনের আপন ভাই আব্দুল গফুর গুরুতর আহত হন। তাকে টেকনাফ হাসপাতাল হয়ে কক্সবাজার আনার পথে মারা যান।

 

সূত্র আরো জানায়, এই ঘটনায় আরো অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

বি এন আর/০০১৬০০৩০০২৩/০০০৩৭৩/এস

 

মতামত...