,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সিএমপি’র সহায়তায় স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ওদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৩মে,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: ওরা ত্রিশ জন কখনো ভাবেনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে। মাদক সেবন ও মাদক বিক্রিতেই পার করেছে বছরের পর বছর। মাদক বিক্রির অপরাধে অনেকেই জেল কেটেছে একাধিকবার। তারা এখন স্বপ্ন দেখছে নতুন জীবনের। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ তাদের প্রতি বাড়িয়ে দিয়েছে সহযোগিতার হাত – করেছে পূনর্বাসন। মাদকের ব্যবসা ছেড়ে কেউ করছে চাকুরি আবার কেউ খুলে বসেছে ছোটখাটো দোকান। একসময় পুলিশের ভয়ে আতংকিত থাকলেও পুলিশই এখন তাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু ।

কহিনুরের স্বামী মারা যায় নয় বছর আগে। মাদক বিক্রি করায় ছিল তাঁর পেশা। এর মধ্যে মাদক বিক্রি করার অপরাধে পুলিশ তাকে একবার জেলেও পাঠায়। দীর্ঘদিন মাদক বিক্রি করলেও কহিনুর এখন ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনে। চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের সহায়তায় কহিনুর জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এখন আর মাদক বিক্রি করেনা। কহিনুর একা নয়। তার মতো মাদকসেবী ও বিক্রেতা ৩০ নারী-পুরুষকে স্বাভাবিক জীবনে পুনর্বাসনে অর্থ সহায়তা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে পুলিশ।

সোমবার কমিউনিটি পুলিশিং সপ্তাহের শেষ দিনে তিনজনকে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পুলিশের উদ্যোগে ব্যবস্থা করা চাকরির নিয়োগপত্র এবং বাকিদের হাতে অর্থ সহায়তার চেক তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান।
কহিনুর বলেন, খুলশী থানা থেকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। এ টাকা দিয়ে ছোটখাটো একটি মুদির দোকান খুলেছি। গতকাল (সোমবার) আর বিশ হাজার টাকা একটি চেক দিয়েছে। আমি এখন অনেক সুখে আছি।
হালিশহর নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল। দুই ছেলে এক মেয়ের জনক সাইফুল ছিলেন মাদকসেবী, পাশাপাশি বিক্রেতাও।

দুইবার জেল খাটার পর নিজেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় ছিলেন। বেকার সাইফুলের কর্মসংস্থান করে দিতে তার পাশেও দাঁড়িয়েছে পুলিশ।

সাইফুল জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে মাদক সেবন করতেন তিনি। প্রথমে গাঁজা সেবন করলেও পরে হেরোইন, ইয়াবায় আসক্ত হয়ে পড়েন।“সন্তানরা বড় হতে থাকলেও মাদক সেবন ছাড়তে পারিনি।”

মাদক সেবনের পাশাপাশি বিক্রির সাথেও জড়িয়ে পড়ার কথা জানিয়ে সাইফুল বলেন, ২০১৪ সালের শেষ দিকে ইয়াবাসহ প্রথম পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ছয়মাস কারাগারে ছিলাম। এরপর গত বছর রমজানেও গ্রেপ্তার হয়েছিলাম।

“প্রায় দেড়মাস কারাভোগের পরও মাদক সেবন ছাড়তে পারিনি।” আগে ব্যবসা ছাড়লেও সম্প্রতি মাদক সেবনও ছেড়ে দেন সাইফুল। নগরীতে ‘হাই বিজ লিমিটেড’ নামে একটি পোশাক কারখানায় ফিনিশিং হেলপার পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে সাইফুলকে।

চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানার ৩০ মাদকসেবী ও বিক্রেতার মধ্যে ২৭ জনকে পুনর্বাসনের জন্য ২০ হাজার টাকা নগদ এবং বাকি তিনজনকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।

মাদক ব্যবসায়ী খালেদা বেগম। আট মামলার আসামি খালেদা বর্তমানে মাদক ব্যবসা ছেড়ে মুদি দোকান পরিচালনা করছেন। তার ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে তাকে দেওয়া হয় ২০ হাজার টাকার চেক।

খালেদা জানান, তিনি এবং তার বড় মেয়ে দুইজনই মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। বিভিন্ন সময় পুলিশ তার বাসায় অভিযান চালালেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে প্রতিবারাই পলাতক হিসেবে তাকে আসামি করা হয়েছে। আট মামলার আসামি খালেদার ছেলে জেল খেটেছে চারবার।

খালেদার দাবি তার ছেলে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত না হলেও তাকে ও মেয়েকে বাঁচাতে ছেলে পুলিশের কাছে ধরা দিয়েছেন প্রতিবার।

খালেদা বলেন, “আমার স্বামী প্রায় ১৭ বছর ধরে অসুস্থ অবস্থায় বাসায়। আর মেয়ের স্বামী হত্যা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর তারা এ ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন।”

মাদক ছেড়ে পুলিশের সহযোগিতায় যারা মাদক ছেড়েছে তারা হলেন, পাহাড়তলির বেলাল হোসেন,শওকত আলির ছেলে বাবুল, আকবরশাহ থানার কালির হাটের সনিয়া বেগম, নিউ শহীদ লেনের বেবি আক্তার, হালিশহরের মিয়া চৌধুরী বাড়ির শাহাদাতা হোসেন, সাইফুল ইসলাম, কোতোয়ালির নার্গিস বেগম, মুন্নিবেগম, সালমা আক্তার, মরিয়ম, লাকি বেগম, বাকলিয়ার মো. হারুন, চকবাজারের মিজানুর রহমান তুহিন, বেলাল, সদরঘাটের আবদুল মজিদ, পাঁচলাইশের জাহেদা আক্তার, লায়লা বেগম, চান্দগাঁও থানা এলাকার নিলুফার বেগম, খুলশীর মো. নাছির, কহিনুর বেগম, বায়েজিদের শাহনাজ বেগম শানু, খালেদা বেগম, বন্দর থানা এলাকার মো. জাফর, জাহেদুল ইসলাম, ইপিজেড থানার ছেনোয়ারা বেগম, পতেঙ্গার মো. আরিফ, ফখরুল ইসলাম, কর্ণফুলীর নজরুল ইসলাম ও আবদু ছবুর।

চট্টগ্রাম মহানগর কমিউনিটি পুলিশের আহ্বায়ক ও দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেকের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্টানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহার।

বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি কুসুম দেওয়ান, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, প্যানেল মেয়র হাসান মাহমুদ হাসনি, কমিউনিটি পুলিশের আহ্বায়ক অহীদ সিরাজ স্বপন।

মতামত...