,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সিঙ্গাপুরে আলোচনা ও আতংকে বাংলাদেশীরা

aনাছির মীর, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ সিঙ্গাপুরে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি বাংলাদেশিরা।বাঙ্গালীরা এখন আলোচনা ও আতংকের মধ্যে আছেন। গুপ্তহত্যা ও জঙ্গি তৎপরতার পরিকল্পনার অভিযোগে সম্প্রতি আট বাংলাদেশিকে আটকের পর সে দেশে এ অবস্থার সৃষ্টি হয় ।কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মীরা  একসঙ্গে কথা বললেই সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে তাদের।

এ অবস্থায় বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মস্থলে বা আশপাশে একসঙ্গে বসে গল্প গুজব না করতে দেয়ালে নোটিশ টাংগানো হয়েছে।

এতে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলাদেশিরা। অনেকে এ ধরনের আচরণকে অবমাননাকর বলেও মনে করছেন। তাই চরম উৎকণ্ঠায় সময় আছেন এসব শ্রমিক।

জানা যায়, মাত্র কয়েক মাস আগে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয় সিঙ্গাপুর।

 এপ্রিলের শেষে একই অভিযোগে আটজনকে আটক করার পর বাংলাদেশিদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাচ্ছে সিঙ্গাপুর।

 গুটি কয়েক দুষ্টের অপকর্মের কারনে বলির পাঁঠা হতে হচ্ছে সিঙ্গাপুরে প্রবাসি প্রায় দেড় লক্ষাধিক বাংলাদেশিকে। এরমধ্যে সবচেযে বেশি অবমাননার শিকার হচ্ছেন বাংলাদেশি মুসলমানরা।

সিঙ্গাপুরে প্রবেশের আগে আর বের হওয়ার সময় সব বিদেশির জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট বাধ্যতামূলক করে ইতিমধ্যেই সিঙ্গাপুরের ইমিগ্রেশন সিস্টেমে কঠোর নিরাপত্তার বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।

 সিঙ্গাপুরের ভিসা ইস্যুর ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অফিসারদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি পড়তে হয়।

সিঙ্গাপুরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে বলা হয়, সম্প্রতি আটক আট বাংলাদেশির কয়েকজন দীর্ঘ ৮-১০ বছর ধরে সিঙ্গাপুরে বসবাস করে আসছে এবং আটকের সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, বোমা তৈরির এবং স্নাইপার রাইফেল ব্যবহারের নিয়মাবলী এবং বাংলাদেশের সরকারি ও উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার তালিকা জব্দ করা হয়।

জঙ্গি সংগঠন আইএসের আদলে গঠিত ইসলামিক স্টেট অব বাংলাদেশ (আইএসবি) এর মূল টার্গেট ছিলো বাংলাদেশের বিভিন্ন উচ্চ-পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা।

এই সংগঠনের কর্মীরা  তাদের পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাদেশে ফিরে সেই সব কর্মকর্তাদের হত্যা করার পরিকল্পনা করছিলো বলেও জানায় সে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে সিঙ্গাপুরের অভ্যন্তরে এই জঙ্গিদের হামলার কোনো পরিকল্পনার আলামত না পেলেও ভবিষ্যতে যে কারো প্ররোচনায় তারা দেশটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াত বলে মনে করছে সিঙ্গাপুর।

তাই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার স্বার্থে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ  এবং সংগঠনের মূল উৎপাটন করে তাদের সহযোগিতা প্রদানকারী সবাইকে বিচারের মুখোমুখি করতেই তাদের বিরুদ্ধে আটকাদেশ দেওয়া হয়েছে।

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন‍ার মাহবুব উজ জামান জানান, গত এপ্রিলে ১৩ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। এরমধ্যে ৫জনকে ২৯ এপ্রিল বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। আর ৮জনকে আটকাদেশ দিয়ে তাদের  জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

মতামত...