,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সীতাকুণ্ডে কলেজ শিক্ষককে পেটালো ছাত্রলীগ নেতা, প্রতিবাদে ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি, বিডিনিউজ রিভিউজঃ সীতাকুণ্ডে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে মোহাম্মদ মোরশেদ নামের এক কলেজ শিক্ষককে মারধরসহ এক মহিলা শিক্ষিকাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এই ঘটনাটি ঘটে। কলেজের ১ম বর্ষের ছাত্র শুভ’র নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্য এস এম ইকবাল। শুভ কলেজ ছাত্রলীগ নেতা বলে জানা গেছে।
শিক্ষক মারধরের প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত ছাত্রদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কলেজের সকল ক্লাসের পাঠদান গতকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে শিক্ষকরা। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা হয়েছে।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মো. সিরাজ মিয়া  বলেন, কলেজে শিক্ষককে মারধর ও শিক্ষিকাকে লাঞ্চনার ঘটনায় তিনি কলেজে অবস্থান নেন। এই সময় ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম ইকবাল বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগের ছেলেরা একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। শিক্ষকরা তা মিটিয়ে ফেলেন। এরই রেশ ধরে কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র শুভসহ কয়েকজন ছাত্র ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মোরশেদকে মারধর করে এবং কলেজের এক মহিলা শিক্ষিকাকে লাঞ্চিত করে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে চলে যায়। এরই প্রতিবাদে কলেজের সকল শিক্ষকরা এ ঘটনার সুষ্ঠু সামাধান না হওয়া পর্যন্ত বুধবার (আজ) থেকে সকল ক্লাসের পাঠদান থেকে বিরত থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেন।
কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ মোরশেদ বলেন, শুভ বহিরাগত ছাত্র শাওনসহ একটি ছেলেকে মারার চেষ্টা করে। এই সময় তারা বাঁচার জন্য ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের রুমে আশ্রয় নেয়। শুভ তাদের মারতে চাইলে কলেজের সকল শিক্ষক তাকে বাঁধা দেয়। এই সময় তারা মহিলা শিক্ষিকাদের লাঞ্চনা করে। শিক্ষিকাদের লাঞ্চনা করার সময় তিনি ও অন্যান্য শিক্ষকরা এগিয়ে গেলে তারা শিক্ষকদের ওপর হাত তুলে। এই ধরনের ঘটনা বিরল বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, আগে জানতাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন সমস্যা হলে শিক্ষকরা এগিয়ে গেলে তা বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্ররা শিক্ষকদের সম্মান করে ওই স্থান থেকে চলে যায়। কিন্তু গতকালের ঘটনাটি ঠিক তার উল্টো ঘটে। এই ঘটনায় আজ বুধবার থেকে সকল ক্লাস ও পরীক্ষা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মারধরের প্রতিবাদে সকল শিক্ষক কালো বেইজ ধারণ করবেন বলে জানানো হয়। দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কলেজর সকল শিক্ষক পাঠদান থেকে বিরত থাকবেন বলেও জানান তিনি।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইফতেখার হাসান জানান, ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধে এক পক্ষ পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্চিত করেছে বলে শুনেছি। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে এখনো কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহেদ চৌধুরী ফারুক বলেন, যারা শিক্ষককে মারধর করে তারা কখনো ছাত্রলীগের নেতা হতে পারে না। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়া হলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মতামত...