,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সীতাকুন্ডের জঙ্গল ছলিমপুরের ত্রাস মশিউর ১৬ অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস মশিউর বাহিনীর প্রধানকে ১৬ আগ্নেয়াস্ত্র ও কাতুর্জসহ গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার ভোররাতে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল বস্তি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আটক হয়েছে তার অন্যতম সহযোগী মো. রফিকও। তবে ঘটনার সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে বিষপান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে মশিউর। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

র‌্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুন্ডে দুর্গম জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ের ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ ৩০ মামলার আসামি কাজী মশিউর রহমানকে গ্রেপ্তারে সোমবার ভোর ৪টার দিকে সলিমপুর ছিন্নমূল বস্তি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চট্টগ্রাম র‌্যাব–৭ এর একটি দল। তারা যখন মশিউরের আস্তানা ঘিরে ফেলে তাকে গ্রেপ্তারে এগিয়ে যেতে থাকেন তখন গ্রেপ্তারের আশংকায় মশিউর বিষপান করে রক্ষা পেতে চেষ্টা চালায়। এ সময় অসুস্থ হয়ে পড়লেও র‌্যাব তাকে এবং তার অন্যতম সহযোগী ৮ মামলার আসামি মো. রফিককে গ্রেপ্তার করে। পরে মশিউরকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিষ ধৌত করে তাকে আশংকামুক্ত করেন।

র‌্যাব–৭ চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান বলেন, জঙ্গল সলিমপুরের মশিউর বাহিনীর প্রধান কাজী মশিউর রহমানকে গ্রেপ্তারে সোমবার ভোর চারটার দিকে আমরা সীতাকুন্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে সে বিষ খাওয়ার নাটক করে। কিন্তু আমরা সহযোগী রফিকসহ তাকে গ্রেপ্তার করি। এসময় তার আস্তানা থেকে ১টি ৭.৬৫ বিদেশি পিস্তল ও ২ রাউন্ড গুলি, ১০টি ওয়ান শ্যুটার গান, ৫টি এলসিবিএল (১ নলা বন্ধুক) ও ২৪ রাউন্ড ১২ বোরের কার্তুজসহ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিষপান করায় ঘটনাস্থল থেকে মশিউরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসায় সে আশংকামুক্ত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের হবে। গ্রেপ্তারকৃত মশিউর খুলনা জেলার ফুলতলা থানার পাইগ্রামের কাজী হাসান আলীর পুত্র এবং তার সহযোগী রফিক চট্টগ্রামের সাতকানিয়া মৌলভীপাড়ার বাবধোনা গ্রামের মো. শফিকের পুত্র। তবে তারা দু’জনই বর্তমানে সীতাকুন্ডে জঙ্গলসলিমপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মশিউর সীতাকুন্ডে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘসময় ধরে ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে আসছে। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে সে ও তার বাহিনী কমপক্ষে ৭শ একর সরকারি পাহাড় দখল ও কেটে প্লট আকারে বিক্রি করে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছে। তার এলাকায় ২০ হাজারের বেশি ঘর–বাড়ি রয়েছে। এসব ঘর–বাড়ি থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলে মশিউরের লোকজন। আর এসব অবৈধ টাকার ভাগ বিভিন্ন দপ্তরে নিয়মিত যাওয়ায় খুন, ধর্ষণ, অপহরণসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয়ে তার বিরুদ্ধে অন্তত ৩০টি মামলা থাকলেও সে ছিলো ধরা ছোঁয়ার বাইরে। নির্বিচারে পাহাড় কর্তন করে তার অঘোষিত রাজত্বে একের এক ঘর–বাড়ি নির্মাণ করতে থাকায় গত ২০ জুলাই পাহাড় ধসে দুই পরিবারের ৫ জন নারী–পূরুষ নিহত হলে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান এসব অবৈধ দখল উচ্ছেদে উদ্যোগী হন। তিনি তাৎক্ষণিক নির্দেশে মশিউরের রাজত্ব জঙ্গল সলিমপুরের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নও করে দেন। এরপর বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে সেখানে অভিযানের যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করলেও মশিউর বাহিনী উচ্ছেদ ঠেকাতে নানান কৌশল শুরু করে।

এমনকি আইন–শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী সেখানে অভিযান পরিচালনা করলে তার অবৈধ অস্ত্র কাজে লাগিয়ে তাদের উপর হামলা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধসহ নৈরাজ্য সৃষ্টির পরিকল্পনা করে। যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী জানতে পারার পর কয়েক ঘণ্টা আগে অভিযান বাতিল করেন জেলা প্রশাসক। এসব ঘটনায় আইন–শৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর সামর্থ নিয়েও সর্বত্র নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এতদিন মশিউর নিরাপদেই অবস্থান করছিলো এলাকায়। তবে শেষ পর্যন্ত গতকাল সোমবার ভোরে র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্য দিয়ে জেলা প্রশাসক জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি পাহাড় দখল মুক্ত করার যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তার পথ অনেকটাই সুগম হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সীতাকুন্ড থানার ওসি মো. ইফতেখার হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে সীতাকুন্ড থানায় ৬টির মত মামলা আছে। এগুলোতে সে জামিনেও আছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানা ও আদালতে অন্য মামলাগুলো। সেগুলোর অবস্থা তিনি জানেন না। ওসি আরো বলেন, মশিউরকে জঙ্গল সলিমপুরের ত্রাস বা আতংক বলা হলেও এবং অনেক মামলা থাকলেও এবারই প্রথম সে এত অস্ত্রশস্ত্রসহ ধরা পড়ল। তবে র‌্যাব এখনো তাকে সীতাকুন্ড থানায় নিয়ে আসেনি অথবা তাকে কিছু আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি বলে উল্লেখ করেন।

মতামত...