,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সীতাকুন্ডে পুলিশের ধাওয়ায় ট্রাক উল্টে ফৌজদারহাটে স্কুলছাত্র নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::সীতাকুন্ডে ফৌজদারহাটে পুলিশের চাঁদাবাজির কবল থেকে পালিয়ে যাবার সময় একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে সংঘটিত এ ঘটনায় দুই পথচারীসহ আরো আটজন আহত হয়েছে। এতে জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে দুই পুলিশকে পিটিয়ে আহত করে। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট-বন্দর লিংক রোডের গোলচত্বরে দাঁড়িয়ে ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাঁদা তুলছিলো। এভাবে ঢাকামুখী একটি ড্রাম ট্রাককে (সিলেট ড-১১-০৫৪১) থামার জন্য সংকেত দিলে চাঁদা না দিতে গাড়িচালক স্পিড বাড়িয়ে দিয়ে পালাতে চেষ্টা করেন। এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন পথচারীকে চাপা দিয়ে সড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়ে যায়। এসময় আহত হন ট্রাকের চালক-হেল্পারসহ উপরে থাকা ৪ শ্রমিকও। তবে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় পথচারী স্কুলছাত্র মো. তারেকুল ইসলাম (১৩) ও গাড়ির হেল্পারকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারেক মারা যায়। নিহত তাদের ফৌজদারহাট বাইপাস সড়ক সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকার চায়ের দোকানী মো. আকবর হোসেনের পুত্র এবং মধ্যম সলিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র। এ ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়কে উঠে পুলিশকে ধাওয়া করে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির দুই সদস্য এটিএসআই মোহাম্মদ মুনীর ও কনস্টেবল আবুল কাশেমকে ধরে গণপিটুনি দেয়। এতে তারা আহত হলে পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে ভাটিয়ারীতে বিএসবিএ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায়। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে জনতার সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। শেষে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে জনতা সরে আসে। এদিকে ঘটনার পর দুপুরে ঘটনাস্থল সংলগ্ন তারেকের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা রেহানা আক্তারসহ আত্মীয়-স্বজনরা বুকফাটা আর্তনাদ করছেন। তখনো তারেকের লাশ হাসপাতালে পড়ে আছে। মা রেহানা শুনেছেন যে তার ছেলে তারেকের লাশ কেটে পোস্টমর্টেম করা হচ্ছে। তিনি আহাজারি করতে থাকেন তার ছেলেকে কেটে যেন আর কষ্ট দেওয়া না হয়। তারেকের বিভিন্ন কথা স্মরণ করে বুক চাপড়ে কাঁদছিলেন হতভাগ্য মা।

তারেকের ফুফু রিফা আক্তার ও জেঠিমা শাহানা আক্তার জানান, স্কুলছাত্র তারেক তার বাবার চায়ের দোকানও দেখাশুনা করে থাকে। উক্ত পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিন এখানে দাঁড়িয়ে যানবাহন থেকে টাকা তোলেন। গতকাল মঙ্গলবারও তুলছিলেন। সকাল ৯টার দিকে তারা তারেকের বাবার কাছে চায়ের অর্ডার করলে তারেক চা ও পান নিয়ে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের কাছে যাচ্ছিল। এসময় পুলিশকে টাকা দেওয়ার ভয়ে একটি ড্রাম ট্রাক পালিয়ে যাবার সময় তারেকসহ আরো দুইজনকে চাপা দেয়।

শাহানা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে মিনতি করে বলেন, আপনারা এই চাঁদাবাজি বন্ধ করুন। প্রতিদিন কী করে এক জায়গায় এভাবে চাঁদাবাজি করা হয়? ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মো. আজিজ বলেন, এখানে পুলিশের চাঁদাবাজিটা ওপেন সিক্রেট। সবাই দেখে কিন্তু কেউ কিছু বলে না, ব্যবস্থা নেয় না। আর আমরা দেখলেও তো কোন লাভ নেই। বেশি কিছু বলতে গেলে মিথ্যা মামলা দেবে। শুনছি আজকের ঘটনা নিয়েও গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সরকার বাদি হয়ে মামলা করবে। তাহলে কি যারা নির্যাতিত তারাই মামলা খাবে?
মেম্বার মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, ট্রাক উল্টে গিয়ে ছেলেটি মারা যাবার পর এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু ঘটনা ঘটায়। তবে সে সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। তাই বিস্তারিত জানি না।

মহাসড়কে দাঁড়িয়ে পুলিশের চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সার্জেন্ট মোহাম্মদ নজরুল বলেন, এ রুটে আসার সময় গাড়িগুলো দ্রুতগতিতে আসে। তাই আমরা সেগুলোকে সংকেত দিয়ে গতি কমিয়ে চলতে বলি। এভাবে সংকেত দেওয়ার পর ট্রাকটি উল্টে গেলে পথচারী তারেকসহ কয়েকজন আহত হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার গাড়ি আনতে দেরি হওয়ায় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পরে আহত ছাত্রটি মারা যায়। এখানে চাঁদাবাজির কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

মতামত...