,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সীতাকুন্ডে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে ৯ শিশুর মৃত্যু!

নিজস্ব প্রতবেদক, ১৪ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::সীতাকুন্ডে সোনাইছড়ি ত্রিপুরা পল্লীর ৯ শিশু অপচিকিৎসার শিকার হয়ে মারা গেছে। রোগে আক্রান্ত হয়ে দুর্বল হয়ে পড়ার পর তাদেরকে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা হাসপাতালে না নিয়ে অভিভাবকরা বৈদ্যের কাছে ঝাড়ফুঁক দিয়ে তাবিজ ঝুলিয়েছেন গলায়। এতে কোনো উপকার তো হয়ইনি, বরং একপ্রকার বিনা চিকিৎসায় একে একে ৯টি শিশুর মৃত্যু ও অসংখ্য শিশু রোগে আক্রান্ত হয়েছে।

জানা গেছে, সীতাকু–ের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গহীন পাহাড়ের ত্রিপুরা পাড়ায় সম্প্রতি এক ভয়াবহ জ্বরের প্রকোপ বেড়ে যায়। এই জ্বরে ঐ পাহাড়ের ৫৭টি ত্রিপুরা পরিবারের প্রায় সব শিশুই পর্যায়ক্রয়ে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে মারা গেছেও ৯ জন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আরো ৫৬ জন, যা সর্বত্র ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, এই রোগের শুরুতে শিশুরা সর্দিতে আক্রান্ত হয়। পরে জ্বর এবং আক্রান্ত শিশুর শরীরে ছোট ছোট লাল র‌্যাশ উঠে। একপর্যায়ে লাল র‌্যাশগুলো কালো হয়ে শুকানোর সময় শিশুরা শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এদিকে এইভাবে ঐ পাহাড়ে এক সপ্তাহে এতো হতাহতের ঘটনা ঘটলেও এ শিশুরা প্রায় সবাই ছিল সুচিকিৎসা বঞ্চিত। সরেজমিনে ঐ ত্রিপুরা পল্লীতে ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ত্রিপুরা পল্লী পরিদর্শনকালে ঐ এলাকার বাসিন্দারা জানান, শিশুদের জ্বর আসার পর অভিভাবকরা তাদেরকে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাননি। উল্টো তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্থানীয় এক বৈদ্যের কাছে। ঐ বৈদ্য তাদেরকে ঝাড়ফুঁক করে গলায় একটি–দুটি করে তাবিজ ঝুলিয়ে দেন। ফলে রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর গলায় তাবিজ ঝুলছে। এতে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে শিশুগুলো মরতে থাকে। পরিদর্শনকালে নিহত শিশু রুপালী ত্রিপুরার বাবা সুমন ত্রিপুরা বলেন, তারা আদিকাল থেকেই বৈদ্যের কাছে যান। এবারও গিয়েছিলেন। কিন্তু তার তাবিজ ও ঝাড়ফুকের পরও তার মেয়েটি মারা গেছে। একথা স্বীকার করেন আরো কয়েকজন বাসিন্দা। তাছাড়া পরিদর্শনকালেও রোগে আক্রান্ত বহু শিশুর গলায় একাধিক তাবিজ ঝুলতে দেখা গেছে। রুমি ত্রিপুরা, মানিক ত্রিপুরাসহ কয়েকজন শিশুকে হাসপাতালে নেবার সময় তাদের গলায় থাকা তাবিজ বিষয়ে জানতে চাইলে তাদের অভিভাবকরা বলেন, তাবিজ সবাই দিয়েছে। আমরাও দিয়েছিলাম। কিন্তু ভালো হচ্ছে না।

সীতাকুন্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. নুরুল করিম রাশেদ বলেন, ৯ শিশুর মৃত্যুর পরও তাদেরকে চিকিৎসা দিতে হাসপাতালে পাঠাতে পারছিলাম না আমরা। প্রথমে তারা তো ঘর থেকেই বের হতে চায়নি। সবাই গলায় তাবিজ ঝুলিয়ে বসে আছে। অপচিকিৎসা করেই তারা যেন মহাখুশি। ত্রিপুরা বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণেই এত বড় ঘটনা ঘটে গেছে। এখন যাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তারা তো সুস্থ হবার পথে। এতেই বোঝা যাচ্ছে যথাসময়ে চিকিৎসা পেলে অন্য শিশুরাও সুস্থ হয়ে উঠতো। তিনি আরো বলেন, এ শিশুদের কখনও কোনো ধরণের টিকা দেয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ঐ ত্রিপুরা পাড়ায় গত এক সপ্তাহে অজ্ঞাত রোগে ৯ শিশু মারা যায় এবং আরো অন্তত ৫৬ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে। নিহত শিশুরা হলো : তাকিপাত ত্রিপুরা (১২), জানিয়া ত্রিপুরা (৫), প্রকাতি ত্রিপুরা (৬), রমাপতি ত্রিপুরা (৯), কানাইয়া ত্রিপুরা (২), রুপালী ত্রিপুরা (৩), কসমরাই ত্রিপুরা (৮), শিমুল ত্রিপুরা (২) ও হৃদয় (৮)।

মতামত...