,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সীমান্ত রক্ষায় আসছে বিজিবির ‘এয়ার উইং

ঢাকা,০৬ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম)::পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘এয়ার উইং’ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

রোববার দুপুরে বিজিবি সদর দপ্তরে ৫ ডিসেম্বর বিজিবি মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের ৩ বছর উপলক্ষে ‘গত তিন বছরে বিজিবির অর্জিত সফলতা’ শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘এয়ার উইংয়ের জন্য ৩টি হেলিকপ্টার চাওয়া হলে দুইটি দিতে রাজি হয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। তবে আমরা আশা করি তিনটিই পাব।’

জঙ্গি দমনের ব্যাপারে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘আমাদের দেশের সীমান্তকে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না।’

এ সময় তিনি তার তিন বছরের দায়িত্বকালে সফলতা ও উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালনের মূল কর্মস্থল বর্ডার অপারেশন পোস্টসমূহের (বিওপি) উন্নয়ন অংশ হিসেবে ৩৩৩টি বিওপিতে সোলার প্যানেল স্থাপন, ২৯টি বিওপিতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, বিদ্যুৎ রয়েছে এমন বিওপিতে রঙিন টেলিভিশন ও ডিপ ফ্রিজ সরবরাহসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

তার দায়িত্বকালে বিজিবির সিপাহী হতে সুবেদার-মেজর পর্যন্ত মূল বেতনের ৩০ শতাংশ সীমান্ত ভাতা চালু হয়েছে, অগ্রিম বেতনসহ দুই মাসের ছুটি প্রদান ও রেশন সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘চোরাচালান তল্লাশির কাজে ডগ স্কোয়াড গঠন করা হয়েছে। আধুনিক স্ক্যানার মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের সন্তানদের জন্য ছাত্রীনিবাস স্থাপন করেছি, যেখানে ১৫৬ জন ছাত্রী থাকতে পারবে। সকল খরচ বহন করবে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।’

তিনি জানান, তার দায়িত্বকালে বিজিবি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে। অবসরে যাওয়ার পর যাতে তারা বিভিন্ন কাজে যুক্ত হতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিজিবির ডিজি আরও বলেন, ‘৪৮ জন খেতাবপ্রাপ্ত জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের বসতবাড়ি করে দিয়েছি। মোবাইল সেবার মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন সৈনিক যেকোনো স্থান থেকে এ সুবিধা নিতে পারবেন। একটি বার্তা পাঠালেই আমাদের এখান থেকে কল করে জানানো হবে কোন রোগের জন্য কোন ওষুধ খেতে হবে।’

৭৪০ কিলোমিটার ক্রসলাইনে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছে জানিয়ে এ সময় তিনি বলেন, ‘সীমান্তে আমাদের যেসব সৈন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, সাথে সাথে অ্যাকশন নিয়েছি। আমার দায়িত্বকালে শতাধিক সৈন্যের অভিযোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনটি হাসপাতালসহ চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও টেলিমেডিসিনের অগ্রগতি বিষয়েও উল্লেখ করেন বিজিবি মহাপরিচালক।

সীমান্ত হত্যাই সম্মেলনে বেশি গুরুত্ব পাবে:

আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সম্মেলনে সীমান্ত হত্যার বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

বাংলাদেশের সীমান্ত বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মাহপরিচালক পর্যায়ের এ সীমান্ত সম্মেলন আগামী ২২ থেকে ২৭ ডিসেম্বর পিলখানায় অনুষ্ঠিত হবে।

আজিজ আহমেদ বলেন, ‘এবারের সীমান্ত সম্মেলনে আলোচনায় সীমান্ত হত্যাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এছাড়া মাদক, চোরাচালান ও ফেলানীর সর্বশেষ ইস্যুও আলোচনার শীর্ষে থাকবে।’

সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও সেটা গত তিন বছরে করতে না পারায় নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিজি বলেন, ‘গত বছর সীমান্তে ৪০ জন নিহত হয়েছিলো, এবার তা কমে ৩৩-এ দাঁড়িয়েছে। হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে না পারলেও তা কমেছে।’

মতামত...