,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সোনার বাংলা গড়ার কারিগর শিক্ষকরাইঃ প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি ‘সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চাই’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সোনার বাংলা গড়ার কারিগর শিক্ষকরাই।

আর সোনার মানুষ হতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘লেখাপড়া শিখতেই হবে, মনোযোগ দিতেই হবে। বইগুলো সাজিয়ে রাখার জন্য নয়।’ এজন্য শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে বলেন।

দেশকে এগিয়ে নিতে, ভবিষ্যতের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে, নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস ২০১৬’ এর উদ্বোধন উপলক্ষে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বক্তব্য রাখছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘আর্ন্তজাতিক স্বাক্ষরতা দিবস ২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

এবারের ‘আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস’র স্লোগান ‘অতীতকে জানবো, আগামীকে গড়বো’। ১৯৬৮ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বইগুলো পড়তে হবে, মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। জ্ঞান অর্জন করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে আরো উন্নত জীবন-যাপন করা যায় এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়।’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে হবে, বাঙালির ত্যাগের ইতিহাস জানতে হবে। বিশ্ব সভায় আমরা মাথা উঁচু করে চলবো, সেভাবে আজকের শিশুদের আগামীর জন্য গড়ে উঠতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা একটা মহান পেশায় আছেন। জাতির পিতা প্রায়ই বলতেন, সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার মানুষ চাই। সে সোনার মানুষ গড়ার কারিগর আপনারাই।’

তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরাই তো ভবিষ্যতের মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, বিজ্ঞানী, শিল্পী, সাহিত্যিক, বড় বড় চাকরিজীবী হবে। কাজেই সে হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’

খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু লেখাপড়া করলে হবে না। ছেলেমেয়েদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতি চর্চারও প্রয়োজন আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতি আজ আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’ নেতৃত্ব তৈরিতে বিদ্যালয়গুলোতে স্টুডেন্টস লিডার্স কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে এবং তাদের প্রশিক্ষণের জন্য কক্সবাজারে স্টুডেন্টস লিডারশিপ ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে।

বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে নিরক্ষর মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সরকারের পাশাপাশি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা সরকারে এসে দেখেছি স্বাক্ষরতা হার মাত্র ৪৫ ভাগ। আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপে সে সরকারের সময় আমরা স্বাক্ষরতার হার ৬৫ ভাগে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছিলাম।

পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে আমাদের সব উদ্যোগ বন্ধ করে দেয়। ২০০৯ সালে আমরা আবার ক্ষমতায় এসে দেখলাম স্বাক্ষরতার হার ৪৪ ভাগে নেমে এসেছে। আমরা আবার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেই। এখন স্বাক্ষরতার হার ৭১ ভাগে উন্নীত হয়েছে।

ছাত্রদের পড়াশোনায় আরো এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেয়েরা শিক্ষায় এগিয়ে গেছে, ছেলেদের এগিয়ে আসতে হবে। তবে সমতা আসতে হবে।’

বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি, বৃত্তি, মিড ডে মিল চালু, শিক্ষক নিয়োগ, বেতন বৃদ্ধি নতুন বিদ্যালয় নির্মাণসহ শিক্ষার বিস্তারে বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তিনি।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তা, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে ঝরেপড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অভিভাবকদের ভার লাগব করে দিচ্ছি। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ করে দিচ্ছি।’

দুর্গম এলাকায় আবাসিক স্কুল নির্মাণ এবং বেকারত্ব হ্রাসে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ আসিফ-উজ-জামান, উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক রুহুল আমিন সরকার।

অনুষ্ঠানে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভার বার্তা পড়ে শোনান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনেস্কোর একজন প্রতিনিধি।

বার্তায় ইরিনা বোকোভা বলেন, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরমুক্ত করার ক্ষেত্রে পৃথিবী অনেকে এগিয়েছে। তবে এটা যথেষ্ট নয়। আরো এগুতে হবে।

দারিদ্র্যমুক্ত টেকসই পৃথিবীর গঠনে শিক্ষা, স্বাক্ষরতা জ্ঞান খুবই প্রয়োজন। এবারের ‘আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস’র স্লোগান ‘অতীতকে জানবো, আগামীকে গড়বো’।

মতামত...