,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সৌদি আরবে দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আলোচনা চলছেঃমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি

নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ সৌদি আরবব দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক পাঠাতে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার সৌদি আরব। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি শ্রমিক কাজের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশে। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর ১ থেকে দেড় লক্ষ শ্রমিক বাংলাদেশ থেকে তেল সমৃদ্ধ এই আরব দেশে যেতেন। কিন্তু অনেকটা আকস্মিকভাবে ২০০৯ সাল থেকে শ্রমিক রপ্তানির চিত্র বদলে যায়। মূলত ২০০৮ সালে শ্রমিক রপ্তানির কোটা পূরণ হয়ে যাওয়ার অজুহাতে বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সৌদি আরব।

সৌদি গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশ, নিষেধাজ্ঞার পিছনে ছিলো বাংলাদেশি কিছু সংখ্যক শ্রমিকের অপরাধ কর্মকাণ্ডে (যেমন, চুরি, হত্যা, নোট জালিয়াতি ও বেআইনি ব্যবসায়) জড়ানোর বিষয়। এদিকে গত ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক (গৃহস্থালী কাজের জন্য) নিয়োগের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় সৌদি আরব। এ সময় একজন নারী শ্রমিকের সাথে একজন পুরুষ শ্রমিকও যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়। এরপর বাংলাদেশি শ্রমিকেদের জন্য সৌদি শ্রম বাজারে রপ্তানি আবার শুরু হয়। চলতি মাসের ১০ তারিখ বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের শ্রমিক আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় দেশটির শ্রম ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়। আর এরই সুবাদে আবারো জনশক্তি রপ্তানিতে সৌদি আরবের দ্বার খুলল। এদিকে বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে পুরুষ কর্মী নিতে সৌদি আরব হতে চাহিদাপত্র আসা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি। ১০০-১৫০ জন করে ২টি কোম্পানির কাছ থেকে চাহিদাপত্র এসেছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সৌদিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা করে কম খরচে আমরা দেশটিতে কর্মী পাঠানোর চেষ্টা করছি। রাজধানীর ইস্কাটনে গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় প্রবাসী কল্যাণ ভবনের সভাকক্ষে জর্ডান ও লেবাবন সফরপরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জর্ডান ও লেবাননেও বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠাতে সব ধরনের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে বলে জানান।

জনশক্তি রপ্তানিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সৌদি আরবের শ্রম বাজার উন্মুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ থেকে কাজের সুযোগ পাবে ৫ থেকে ৬ লক্ষ শ্রমিক। তবে বাংলাদেশের উচিত দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে রপ্তানি করা। এছাড়া জেলা শহরগুলোতে শ্রমিকদের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ সেন্টার নির্মাণের দাবিও করেন তারা। সৌদি আরবে বর্তমানে কনস্ট্রাকশন, কৃষি, সেবা, পরিচ্ছন্ন বিভাগে দক্ষ ও অদক্ষ দুই শ্রেণীর শ্রমিকদের চাহিদা আছে। এছাড়া দেশটি বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, নার্স ও শিক্ষক নিতে বিশেষ আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যাওয়া শ্রমিকদের সাড়ে ২৭ শতাংশের গন্তব্য সৌদি আরব। ২০০৭ সালে ২ লক্ষ ৪ হাজার ১১২ জন, ২০০৮ সালে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ১২৪ জন, ২০০৯ সালে ১৪ হাজার ৬৬৬ জন, ২০১০ সালে ৭ হাজার ৬৯ জন, ২০১১ সালে ১৫ হাজার ৩৯ জন, ২০১২ সালে ২১ হাজার ২৩২ জন, ২০১৩ সালে ১২ হাজার ৬৫৪ জন, ২০১৪ সালে ১০ হাজার ৬৫৭ জন, ২০১৫ সালে ৫৮ হাজার ৬৭০ জন এবং চলতি বছর ২০১৬ সালে এখন পর্যন্ত ৬১ হাজার ৯৪৮ জন শ্রমিক রপ্তানি হয়েছে সৌদি আরব। এই একই সময়ে চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি হয়েছে ২০০৭ সালে ৯ হাজার ১১৮ জন, ২০০৮ সালে ৬ হাজার ২৩৪ জন, ২০০৯ সালে ৩০১ জন, ২০১০ সালে ৫৮ জন, ২০১১ সালে ১২০ জন, ২০১২ সালে ১৫৬ জন, ২০১৩ সালে ১০১ জন, ২০১৪ সালে ৩০ জন, ২০১৫ সালে ২১৭ জন এবং চলতি বছর ২০১৬ সালে এখন পর্যন্ত ৪০৭ জন শ্রমিক রপ্তানি হয়েছে। অর্থাৎ ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৩৯০ জন শ্রমিক চট্টগ্রাম থেকে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সেলিম রেজা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে দক্ষ ও অদক্ষ দুই ধরনের কর্মী নিতে আগ্রহী। কর্মীরা নিজ উদ্যোগে, সরাসরি বা রিক্রুইটিং এজেন্সির মাধ্যমে সেখানে যেতে পারবেন। সৌদি আরবে বর্তমানে বেশ কিছু মেগা প্রকল্পে কাজ চলছে। কনস্ট্রাকশন, কৃষি, সেবা, পরিচ্ছন্ন বিভাগে জনবল প্রয়োজন। বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের শ্রমিক নেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে তারা। তাই কোন বিশেষ ক্ষেত্র না সব ধরনের শ্রমিক সেখানে যেতে পারবেন।

চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল আলম মজুমদার বলেন, সৌদি সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের এখনও কিছুই জানানো হয়নি। তবে ২০১৫ সাল থেকে সেখানে কর্মীরা যাচ্ছেন। একজন নারী কর্মীর সাথে একজন পুরুষ কর্মী যেতে পারেন।

বাংলাদেশ এজেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং (বায়রা) চট্টগ্রামের রিজিওনাল স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এমদাদ উল্লাহ বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশিদের জন্য সব ধরনের ভিসা উন্মুক্ত করেছে সেটা বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বাংলাদেশস্থ সৌদি দূতাবাস বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা কোন খরচ ছাড়া যেতে পারবেন বলা হলেও প্রকৃত পক্ষে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা খরচ করে সেই দেশে কাজ করার ভিসা করতে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, চুক্তি অনুয়ায়ী বেতন দেয়া হচ্ছে না। শ্রম আদালতে অভিযোগ করলে ভিসা বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এই বিষয়গুলো সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে দুই পদ্ধতিতে শ্রমিক যেতে পারে। এক. ব্যক্তিগত কাজের জন্য, দুই. ফ্যাক্টরি গুলোতে শ্রমিক হিসাবে। ব্যক্তিগত ভিসা কোন সময় বন্ধ ছিলো না। গাড়ি চালক, গৃহস্থালী কর্মী ও সিকিউরিটি গার্ড হিসাবে কর্মীরা গিয়েছেন। তবে খুব সীমিত। ২০১৫ সাল থেকে ব্যাপকভাবে যাচ্ছেন। এখন যে সুযোগটি এসেছে তা মূলত ফ্যাক্টরিগুলোতে কাজের সুযোগ সৃষ্টি হলো।

সৌদি সরকারের হিসাবে বর্তমানে ৬০ হাজার নারী কর্মীসহ ১৩ লাখের বেশি বাংলাদেশী শ্রমিক কর্মরত আছেন।

মতামত...