,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

সৌদি আরবে ১১ হাজার কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রীর চুক্তি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২১মে,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ‘বেসামরিক সম্মানসূচক পদক’ প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানী রিয়াদের রয়্যাল কোর্টে সৌদি বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এই পদক দেন।

পদক প্রদানের পর সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। সৌদি আরবের সামরিক সামর্থ্য বাড়ানোর ব্যাপারে ১১ হাজার কোটি ডলারের চুক্তি করে দুই দেশ। এই চুক্তির আওতায় থাকছে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামাদি এবং সেবা, যা সৌদি আরবের নিরাপত্তার সুরক্ষা এবং গালফ অঞ্চলে ইরানের হুমকি থেকে রক্ষায় কাজে লাগানো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্প তার প্রথম আন্তর্জাতিক সফর শুরু করেন সৌদি আরব দিয়ে। শনিবার (২০ মে) স্থানীয় সময় সকালে ঐতিহাসিক সফরে সৌদি আরব পৌঁছেছেন তিনি। রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে ট্রাম্প ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিশেষ প্লেন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’। এ সময় লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সঙ্গে ছিল গার্ড অব অনার। এতে উপস্থিত ছিলেন সৌদি বাদশা ও পবিত্র দুই মসজিদের খাদেম সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ।

বিমানবন্দরে নামার পরপরই রিয়াদে এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদি বাদশার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া পাশেই ছিলেন। সাক্ষাতে দুই নেতা কিছু সময় কথা বলেন। সফরের জন্য বাদশা ট্রাম্পকে বিশেষ অভিনন্দন জানান। আশা প্রকাশ করেন তার যোগদানে রবিবার (২১ মে) থেকে শুরু হতে যাওয়া আরব ইসলামিক-আমেরিকান (এআইএ) সম্মেলন নতুন মাত্রা পাবে। সম্মেলনে দেশগুলোর সঙ্গে নতুন চুক্তি ছাড়াও জঙ্গিবাদ দমন নিয়ে তার দেশের কড়া মনোভাবের কথা তুলে ধরবেন ট্রাম্প। যদিও ইরানকে বাদ দিয়ে, সুন্নি সমর্থিত ৫০ দেশের ইসলামি জোটের সম্মেলনের সফলতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেশ্লষকরা।

নয়দিনের জন্য ট্রাম্প সৌদি আরবসহ বেশ কয়েকটি দেশ সফরে বেরিয়েছেন। সৌদি মধ্যপ্রাচ্যের অপর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের যাবেন ট্রাম্প। ইসরায়েল থেকে ইউরোপের ইতালি ও বেলজিয়ামে তার সফর সূচি রয়েছে। এসব সফরের পরপর আরব, ইসরায়েল ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা বিহীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য সফরটিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসাবে দেখা হচ্ছে। চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প তার গুরুত্বপূর্ণ এ প্রথম বৈদেশিক সফর কোনও বিপর্যয় ছাড়া উতরে যেতে পারলে এটি তার সফলতা বলেই গণ্য হবে।
দেশে একগাদা সমস্যার মুখে ট্রাম্প এ সফরে গেলেন। আমেরিকাকে সর্বাগ্রে রাখার বার্তা দিয়ে তিনি মিত্রদের উদ্বেগ দূর করার চেষ্টার সময় একইসঙ্গে তার পায়ে পায়ে বিরাজ করবে ঘরের সব সমস্যাগুলোও। ট্রাম্পের এফবিআই পরিচালক জেমস কোমিকে বরখাস্ত করার পদক্ষেপ থেকে শুরু করে ফ্লিন-রাশিয়া সম্পর্ক নিয়ে কোমিকে তার তদন্ত বন্ধ করতে বলার কথা প্রকাশ হয়ে যাওয়া এবং এরপর ট্রাম্প-রাশিয়া যোগসাজশ তদন্তে সাবেক এফবিআই প্রধান রবার্ট মুলারের নিয়োগের মত নানা ঘটনায় ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আর কোনও প্রেসিডেন্টই ট্রাম্পের মত এত কেলেঙ্কারি মাথায় নিয়ে প্রথম বৈদেশিক সফরে যাননি। ফলে তার সফরে এ বিষয়গুলো ছায়া ফেলবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র : নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স

মতামত...