,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

স্ত্রীর নগ্ন ছবি ও কটূক্তি নিয়ে নাস্তানাবুদ ট্রাম্প

aআন্তর্জাতিক ডেস্ক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ ঘোর সংকটে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। একদিকে স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পের নগ্ন ছবি প্রকাশ, অন্যদিকে নিহত আমেরিকান মুসলিম সেনার মাকে নিয়ে নিজের কটূক্তি- দুইয়ে মিলে সমালোচনা আর নিন্দার ঠোকরে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন তিনি।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য ফার্স্ট লেডি ও ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার কিছু নগ্ন ছবি প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট। প্রায় ২০ বছরের পুরোনো এসব ছবি সম্পর্কে অনেকের জানা ছিল না। মেলানিয়া মডেল ছিলেন, তার বিবস্ত্র ছবি আছে- এমন তথ্য আগে থাকলেও তা নিয়ে খুব বেশি সমালোচনার ঢেউ ওঠেনি। কিন্তু এবার ঢেউ আর থামানো যায়নি, বরং তা সুনামি হয়ে উঠেছে।

মেলানিয়ার বিবস্ত্র ছবি প্রকাশের খবরের শুরুতে বলা হয়েছে, এই হলো ভাবি ফার্স্ট লেডি এবং তার পাশে সেকেন্ড লেডি। এই ছবিটি ১৯৯৬ সালে জানুয়ারি মাসে ফ্রান্সের ম্যাক্স ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে ছাপা হয়। ভেতরে ছিল আরো নগ্ন ছবি, যা দেখে নিউ ইয়র্কবাসীর অনেকের চোখ লজ্জা পেয়েছে! নিউ ইয়র্কবাসীর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট। সেখানে অধিকাংশই তাকে ভর্ৎসনা করেছেন। তবে অনেকে ‘হতেই পারে’ ধাঁচের বক্তব্য দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা হওয়ার তিন বছর আগে ১৯৯৫ সালে ম্যানহাটানে একটি ফটোসেশনে ছবিগুলো তোলা হয়। যা ছাপা হয় ফ্রান্সের সমকামীদের পত্রিকা ম্যাক্স ম্যাগাজিনে। তখন মেলানিয়ার বয়স ছিল ২৫ বছর।

সমকামিতার স্টাইলে ছবিগুলো তোলা। ছবি তোলেন ফরাসি আলোচিত্রী অ্যালি দ্য ব্যাসেভিল। নিউ ইয়র্ক পোস্ট ছবিগুলোর শিরোনাম দিয়েছে ‘গার্ল অন গার্ল’ অর্থাৎ নারীর ওপর নারী। ছবিতে স্লোভেনীয় নারী মেলানিয়ার সঙ্গে ছিলেন স্ক্যানডিনেভিয়ান মডেল এমা এরিকসন।

মেলানিয়ার এসব ছবি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল সমাজে ‘ছিঃ ছিঃ’ পড়ে যাওয়ার অবস্থা। তবে ট্রাম্প মনে করেন, ইউরোপীয় ম্যাগাজিনের জন্য তোলা এসব ছবি ফ্যাশনে খুব ব্যবহার করা হয়। তার কথার অর্থ দাঁড়ায়, এতে দোষের কি!

অন্যদিকে ইরাক যুদ্ধের সময় ২০০৪ সালে নিহত এক সেনাসদস্যের মাকে নিয়ে মন্তব্য করায় এখন নিজ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতার নিন্দা কুড়াতে হচ্ছে ট্রাম্পকে। যেখানে ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে নেতারা তাকে পরামর্শ দেবেন, তার সমর্থনে মাঠ চষে বেড়াবেন, সেখানে উল্টো তার নিন্দা করছেন তারা।

সিনেটর ম্যাককেইন সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য রিপাবলিকান পার্টিকে উপস্থাপন করে না। তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি সম্মানিত কাউকে নিয়ে কটূক্তি করবেন, তা হতে পারে না।

খিজির খান ও গাজালা খানের ছেলে হুমায়ুন খান ইরাক আগ্রাসনের সময় নিহত হন। তাকে ‘গোল্ড স্টার’ মর্যাদায় দাফন করা হয়। ফিলাডেলফিয়ায় ডেমোক্রেটিক পার্টির জাতীয় কনভেনশনে গাজালা খান কথা না বলায় তার বিরুদ্ধে কটূক্তি করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি রীতিমতো গরম হয়ে ওঠে। ট্রাম্পকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে খান পরিবার। কিন্তু ট্রাম্প নিজের অবস্থানে অটল আছেন। যতই অটল থাকুন না কেন, স্ত্রীর নগ্ন ছবি ও কটূক্তির মাসুল তাকে গুনতেই হচ্ছে- এটি অনুমেয়।

এদিকে রিপাবলিকান পার্টি ত্যাগ করেছেন জেব বুশের শীর্ষ উপদেষ্টা স্যালি ব্রাডশ। তিনি ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদে অযোগ্য হিসেবে অভিহিত করে দল ত্যাগ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভোট দেবেন হিলারিকে। ট্রাম্প এ নির্বাচনে জিততে পারবেন না।

এ ছাড়া রিপাবলিকান পার্টির আরো কয়েকজন নেতা ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। এখন সব দিক থেকেই যেন নাস্তানাবুদ হচ্ছেন ট্রাম্প।

 

মতামত...