,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

স্বপ্নপূরণের ফাইনাল আজ টাইগারদের

a9ক্রীড়া প্রতিবেদক বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা,  ফাইনাল! বাংলাদেশের ক্রিকেটে কালে-ভদ্রে আসে এমন উপলক্ষ।বাংলাদেশ শিবিরের সব সদস্যেই প্রাণচঞ্চল,হাসিমাখা মুখ মাশরাফি, মুশফিকদের। এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার আনন্দ আর রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যায় তাদের মন ।

এমন মহারণের আগে আনন্দ আর রোমাঞ্চের আড়ালে তাই থাকে উদ্বেগ আর বাড়তি চাপও। তাসকিন-সৌম্য-নাসিরদের চাঞ্চল্য, সেই চাপ প্রশমনে নিজেদের যথাযম্ভব নির্ভার রাখার চেষ্টারই অংশ।
ম্যাচের টিকিট হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ। টিকিটির জন্য হাহাকার চারদিকে, টিকিটপ্রত্যাশীদের চাপে রীতিমতো হুলস্থুল কানড ইউনাইটেড কমার্শিয়াল (ইউসিবি) ব্যাংকে।

আসলে আজকের ফাইনালের উত্তেজনায় কাপছে গোটা দেশ।

টাইগার ক্রিকেটাররা সেই আচ থেকে রক্ষা পান কি করে?

দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা যেমন বললেন, ‘আমাদের এ ম্যাচ নিয়ে আবেগ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ আমরা সব সময় এমন সুযোগ পাই না। তার ওপর দেশের মাটিতে খেলা হচ্ছে। তাই এটা খুব স্বাভাবিক। নিয়ন্ত্রণ করাটা কঠিন। আমরা চেষ্টা করছি, যত স্বাভাবিক থাকা যায়। স্বাভাবিক থেকেই খেলতে চাই।’

মাশরাফি অবশ্য প্রতিপক্ষ ভারতকে নিরুঙ্কুশ ‘ফেভারিট’ বলে দিয়ে কিছুটা চাপমুক্ত থাকতে চাইলেন। তবে তার চোখে কিন্তু খেলে গেল এশিয়া কাপের শিরোপাটা স্বগর্ভে উঁচিয়ে ধরার স্বপ্ন। স্বপ্নটা গোটা দেশেরই, দেশবাসী-সমর্থকদেরও।

‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ একটা বারুদের গন্ধও ভেসে বেড়াচ্ছে আকাশে-বাতাসে।

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সেই হারের প্রতিশোধ। ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে জয়ের পরও যে আগুন নেভেনি পুরোপুরি। বরং এবারের এশিয়া কাপে দুই দলের প্রথম দেখায় বাংলাদেশের হারে সেটা জ্বলে উঠেছে আরো দাউদাউ করে। শিরোপার সঙ্গে ফাইনাল মঞ্চে এখন সবকিছুর প্রতিশোধ চাই, এমন মন্ত্রেই বুদ হয়ে আছেন সমর্থকরা!
মাশরাফির অবশ্য এই প্রতিশোধ-প্রতিঘাত বিষয়টাতেই জোর আপত্তি। ওসব ভুলে নিজেদের খেলাতেই মনোযোগী হতে চান টাইগার দলপতি। ওই প্রসঙ্গ টেনে দলকে তাতিয়ে তোলার কোনো প্রয়োজনই দেখছেন তিনি। তার মতে, দলকে অনুপ্রাণিত করার আরো অনেক পথ আছে। মাশরাফি নিজেই অবশ্য এই দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা, তার প্রতিটি কথাই বাড়তি আত্মবিশ্বাসের হাওয়া বইয়ে দেয় শিবিরে। ওয়ানডের পর টি২০ ক্রিকেটেও লেগেছে সেই হাওয়া। দিনবদলের হাওয়া।
কিন্তু ভারত মহাশক্তিধর। টি২০ ক্রিকেটে নাম্বার ওয়ান দল। এবারের এশিয়া কাপেও ধোনি অ্যান্ড কোং খেলছে ‘সেরা’র মতোই।
লিগ পর্বের প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে এসেছে তারা। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠেয় টি২০ বিশ্বকাপের আগে আজ সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পরুক, এমনটা চায় না তারা। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ‘পরিচালক’ রবি শান্ত্রী। এরই ফাঁকে মিরপুরে শনিবারের অনুশীলনে বেশ আত্মবিশ্বাসীই দেখাল রোহিত-কোহলি-রায়নাদের।
লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে দুর্বল আরব আমিরাতের বিপক্ষে রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা ক্রিকেটারদের কিছুটা বাজিয়ে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। ভুবনেশ্বর, হরভজন- নেগীরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণও রেখেছেন ওই ম্যাচে। তবে ফাইনালের মঞ্চে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে না হেঁটে সেরা একাদশটাই মাঠে নামাবে ভারত। তাই দুরন্ত ছন্দে থাকা বাঁ-হাতি পেসার আশীষ নেহেরা আর মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান সুরেশ রায়না আজ আবার ফিরছেন মাঠে। বাঁ-হাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ান তো ফিরেছেন আগের ম্যাচেই।
দুরন্ত ছন্দে ভারত, ধোনি ব্রিগেড আজ মাঠে নামছে পুরো শক্তি নিয়েই। সবমিলিয়ে ফেভারিট তকমাটা প্রতিপক্ষের গায়ে লাগিয়ে দিয়ে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ বলে কিছুটা নির্ভারই থাকতে চাইলেন মাশরাফি। তবে ভারতকে যে কোনোরকম ছাড় দেয়া হবে না, সেটা পরিষ্কার করেই বললেন তিনি, ‘পরিষ্কারভাবেই ভারত ফেভারিট। ম্যাচটা তো র‌্যাংকিংয়ের এক নাম্বারের বিপক্ষে দশ নাম্বারের খেলা। আমাদের অবশ্য আত্মবিশ্বাস আছে। যদিও মুস্তাফিজকে মিস করছি আমরা, ও থাকলে ফাইনালে অনেক সুবিধা হতো। তবে আমরা লড়ব। এরপর যা হওয়ার তা হবে।’
অধিনায়কের থেকে শুরু করে লড়াইয়ের এই মানসিকতা ছড়িয়ে গেছে গোটা টাইগার শিবিরেই। মিরপুরে শনিবার টাইগারদের ঘাম ঝরানো অনুশীলনও চলেছে সেই মানসিকতাকে মন্ত্র মেনেই। জয়-পরাজয়ের হিসাব দূরে সরিয়ে রেখে সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে। মুস্তাফিজের ইনজুরিতে হঠাৎ করেই এশিয়া কাপের দলে ফেরা তারকা ওপেনার তামিম ইকবাল যেমন আগেই বলে রেখেছেন, ‘প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক, আমরা যদি নিজেদের মতো খেলতে পারি, তাহলে যে কোনো দলকেই হারাতে পারি।’
২০১২ সালে প্রথমবার এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলেছিল বাংলাদেশ। মাত্র দুটি রানের জন্য সেবার আরাধ্য শিরোপাটা টাইগারদের হাত ফসকে বেরিয়ে গিয়েছিল। সেই পাকিস্তানকে উড়িয়েই আরো একবার ফাইনালে তারা। এবার স্বপ্ন পূরণের পালা! সেই স্বপ্ন পূরণে কিংবা আরো একবার স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে না চাইলে নিজেদের সেরাটা খেলার বিকল্প পথ খোলা নেই তামিম-মুশফিক-সাকিবদের সামনে।
একদিনের বিরতি দিয়েই টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে উড়ে যেতে হবে মাশরাফিদের। সেখানে কোনোরকম অনুশীলন ছাড়াই নেমে পড়তে হবে মাঠের লড়াইয়ে। সেই লড়াইয়ের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জুগিয়ে নেয়ার মঞ্চ এই ফাইনাল। এশিয়া কাপের ফাইনাল, স্বপ্নপূরণের ফাইনাল!

বি এন আর/০০১৬০০৩০০৬/০০০৮৮/পি

মতামত...