,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

স্বপ্নের ওয়াটার পার্ক প্রকল্প ফাইলবন্দি

চট্টগ্রাম নভেম্বর ২৯ চট্টগ্রাম নগরের ভেতর প্রায় ১৪ একর আয়তনের আগ্রাবাদ ডেবা বিশাল এক জলাধার। রেলওয়ের মালিকানাধীন এই জলাধারকে ২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার ডিজাইন করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্র হিসেবে । কিন’ দীর্ঘ আট বছরেও চট্টগ্রামের কোনো সংস’া তা নিয়ে কোনো প্রকল্প তৈরি করেনি এমনকি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপেও উন্নয়নের কোনো লক্ষ্যমাত্রা সি’র করেনি। ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে রয়েছে স্বপ্নের ওয়াটার পার্ক প্রকল্পটি।

ব্রিটিশ আমলে আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় গড়ে তোলা বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন বিশাল এ ডেবাটি যুগ যুগ ধরে অযত্ন অবহেলায় পড়ে রয়েছে। ডেবার চারপাশ ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শতাধিক বস্তি। আর বস্তিবাসীদের ব্যবহার্য পানির উৎস এই ডেবাতে চলে মাছের চাষ। ডেবার পাড়ে গড়ে উঠেছে চট্টগ্রামের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক ওর্য়াল্ড ট্রেড সেন্টার। তৎকালীন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহ মুহম্মদ আখতার উদ্দিন আগ্রাবাদ ডেবাকে কেন্দ্র করে নিয়েছিলেন বিশেষ প্রকল্প এবং একটি ডিজাইনও এঁকেছিলেন। তৎকালীন সময়ে সিডিএ’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী শাহ মুহম্মদ আখতার উদ্দিন বলেছিলেন, ‘চট্টগ্রামে ওয়াটার বেইজড কোনো বিনোদন কেন্দ্র নেই। নগরীর প্রানকেন্দ্রে  এ ঐতিহাসিক জলাধারকে সংরক্ষণ করতেই সিডিএ বিশেষ এ প্রকল্প গ্রহণ করছে।’
ডেবার চারপাশে পায়ে হাঁটার পথ, এক কোণায় একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার নির্মাণ , সেই টাওয়ারের বিপরীত পাশে একটি বহুতল ভবন  ডেবার চারপাশে পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চত করা। নগরীতে আমেরিকার মতো টুইন টাওয়ার নির্মাণ করা না গেলেও ডেবার দুই পাড়ে  একটি হবে পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, অপরটি গ্র্যান্ড প্লাজা। দীঘির দক্ষিণ-পূর্ব কোণে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটি এবং উত্তর-পশ্চিম কোণে শেখ মুজিব রোডের গা ঘেঁষে নির্মাণ করা হবে বহুতল ভবন বিশিষ্ট গ্র্যান্ড প্লাজা। গ্র্যান্ডপ্লাজার বিভিন্ন ফ্লোরে দোকান, শো-রুম, অডিটরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, রেস্টুরেন্ট, কফিশপ থাকবে। তবে এখানে কোনো খুচরা দোকান থাকবে না।
অপরদিকে পর্যবেক্ষণ টাওয়ারটিতে অফিস, ছোটো দোকান, সেমিনার কক্ষ ও কফিশপ থাকবে। এর মাধ্যমে টাওয়ারের উপরে বসে কফি খেতে খেতে মানুষ পুরো শহরকে এক পলকে অবলোকন করার সুযোগ পাবে। টাওয়ারের একদিকে পাহাড় এবং অপরদিকে নদী ও সমুদ্র যেকোনো মানুষকে আকর্ষণ করবে।
ডেবার পশ্চিম পাড়ে আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোডের পাশে একটি কনসার্ট স্পেস নির্মাণ করা হবে এবং উত্তর-পশ্চিম কোণের মসজিদটিকে আরো আধুনিকায়ন করা হবে। ডেবার চারপাশে গড়ে তোলা হবে হাঁটার ব্যবস’া। দক্ষিণপাড়ে থাকবে বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকান ও শিশুদের খেলার বিভিন্ন রাইড, পূর্ব পাড়ে হাঁটার ব্যবস’া এবং শিশুদের বিভিন্ন রাইড। উত্তর পাড়ে হাঁটার ব্যবস’া ছাড়াও রয়েছে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার। রেলওয়ের জায়গায় এ বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হবে বলে ডেবার উত্তর-পশ্চিম কোণে রেলওয়ের একটি যাদুঘর তৈরি করা হবে। তবে ডেবার ভেতরের অংশে থাকবে বোট সার্ভিস। প্যাডেল আকারের বোটগুলো পর্যটকরা নিজেরাই চালাতে পারবে। তবে কোনো অবস’াতেই ডেবার পানিতে মাছ চাষ করা হবে না।
নগর পরিকল্পনাবিদরা কি বলেন?
ড্যাপ প্রণেতা ও বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ স’পতি জেরিনা হোসেন বলেন, ‘নগরীর ভেতরের সৌন্দর্যকে উপভোগ্য করতে রাস্তা থেকে ডেবাটি দেখা যায় এমন করেই ২০০৭ সালে ড্যাপ তৈরির সময় করা হয়েছিল। এটি বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী বিনোদনের খোরাক পাবে এবং নগরীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যাবে। কিন’ কেন যে এটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না।‘
অপরদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স’পতি এ কে এম রেজাউল করিম বলেন, ‘শুধু নান্দনিকতা নয়, নগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদাপূর্বক এবং নগরীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে এধরনের ওয়াটার রিজার্ভারগুলোকে সংরক্ষণ করতে হবে। যেমনিভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন লালদীঘিকে সংরক্ষণ করেছে।’
পরিকল্পনাবিদদের মতে, আগ্রাবাদ হোটেল, হোটেল সেন্ট মার্টিনসহ আন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলোতে আসা বিদেশীরা অতি সহজে আগ্রাবাদ ডেবার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে। টিকেট পদ্ধতিতে যে কেউ ডেবায় প্রবেশের সুবিধা পাবে এবং এটা পর্যটন শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কে করবে এই আধুনিকায়নের কাজ?
২০০৭ সালে সিডিএ ডিজাইন করলেও এখন তা বাস্তবায়ন করতে নারাজ সিডিএ। এবিষয়ে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কাজ করে সিটি করপোরেশন। এলক্ষ্যে সিটি করপোরেশন প্রকল্প তৈরি করে বাস্তবায়ন করতে পারে, প্রয়োজনে আমরা কারিগরি সহায়তা দেবো।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগ্রাবাদ ডেবা ছাড়াও পাহাড়তলীতে রেলওয়ের জোড় ডেবা, বলুয়ার দীঘি ও আসকার দীঘির মতো জলাধারগুলোতে রক্ষায় এগিয়ে আসা যেতে পারে।’

মতামত...