,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

‘স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেল একনেকে অনুমোদন পেল

চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন  প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলেktnel ঢাকা থেকে  কক্সবাজার যেতে চট্টগ্রাম শহরের যানজটে আটকা পড়তে হবে না 2০০৮ সালে লালদীঘির ময়দানে সংসদ নির্বাচনের পূর্বে সর্বশেষ জনসভায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিশ্রুতির সাত বছর পর চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের লাইফলাইন খ্যাত কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণে সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেল। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায় এ প্রকল্পটি।
৮ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। চীন সরকারের অর্থায়নে নেভাল একাডেমি পয়েন্টে নির্মাণ হতে যাওয়া এ টানেলের মাধ্যমে সহজেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াত করা গাড়িগুলো আউটার রিং রোড দিয়ে কক্সবাজার অভিমুখে যাতায়াত করতে পারবে। এক সিটিতে দুই শহরের ধারণা নিয়ে বেড়ে উঠবে কর্ণফুলীর ওপারে আরও একটি শহর।
২০১০ সালে প্রকল্প আকারে উত্থাপন হওয়ার পর কর্ণফুলীর টানেল নির্মাণের স’ান ও সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্ট নিয়ে পার হয়ে যায় এক বছর। ২০১২ সালের ডিসেম্বরে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্ট চূড়ান্ত হওয়ার পর স’ান নির্বাচন নিয়ে কেটে যায় আরও দুই বছর। ২০১৪ সালের শেষ দিকে এসে কর্ণফুলীর মোহনায় টানেল নির্মাণে একমত হয় নগরবিদ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পরামর্শক দুই বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা।
এদিকে গতকালের একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ ফ ম মোস্তফা কামাল টানেলকে বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রকল্প আখ্যা দিয়ে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের স্বপ্নের প্রকল্প। এর মাধ্যমে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে যানবাহন যাতায়াত করবে। ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে শেষ হবে ২০২০ সালের জুন মাসে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা।’
প্রকল্পের আওতায় টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার এবং নির্মাণ করা হবে ৫ দশমিক ৬৩ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড। টানেলের পূর্ব প্রান্তে পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক ও পশ্চিমপ্রান্তে (নেভাল অংশ) এক কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়ক নির্মিত হবে। নদীর পানির ১৫০ ফুট নিচ দিয়ে দুই লেন বিশিষ্ট টানেলের শহর প্রান্ত থাকবে নেভাল একাডেমি পয়েন্টে এবং শহরের বাইরের প্রান্ত থাকবে সিইউএফএল পয়েন্টে।
কর্ণফুলী নদীর ওপর বর্তমানে চালু দু’টি ব্রিজের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের চাপ কমানো হবে টানেল নির্মাণের মাধ্যমে। চীনের সাংহাইয়ের আদলে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ ব্যবস’া গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে চট্টগ্রাম শহরের যানজটে আটকা পড়তে হবে না। একইভাবে কক্সবাজার থেকে ঢাকা আসতে চট্টগ্রাম শহরের যানজট এড়িয়ে চলা যাবে। প্রকল্পের আওতায় ৭ হাজার ২০০ বর্গমিটার সার্ভিস সুবিধা, ২৮ দশমিক ৯৬ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন করা হবে। এর মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন বাবদ খরচ দেবে বাংলাদেশ সরকার এবং নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক খরচ বহন করবে চীন।
জানা যায়, চীনের অর্থায়নে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণ করা হবে টানেল। বায়ার্স ক্রেডিটের (কঠিন শর্তের ঋণ) আওতায় এটি নির্মাণ করবে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কোম্পানি (সিসিসিসি)। এই টানেলকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী নদীর ওপারে সরকার গড়ে তুলছে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল।
এর আগে কর্ণফুলী নদীর কোন অংশে টানেল নির্মাণ করা তা নিয়ে সরকারের সেতু বিভাগের তত্ত্বাবধানে যৌথভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করে চীনের সিসিসিসি ও হংকংয়ের অরূপ কনস্ট্রাকশনস। ২০১৩ সালের শেষ দিকে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। আর এরপর থেকে প্রকল্পর সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে সংশোধিত ডিপিপি, পরিকল্পনা কমিশন, প্রি-একনেক ঘুরে গতকাল একনেক সভায় তা অনুমোদিত হয়।
এদিকে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত ২ জানুয়ারি চট্টগ্রামবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে এসে চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের প্রথম টানেল নির্মাণের ঘোষণা দেন। তিনি কর্ণফুলীর মোহনায় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘চীনা অর্থায়নে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের কাজ শুরু হবে চলতি বছরের শেষ দিকে। টানেল নির্মাণের কাজের উদ্বোধন করতে চীনের রাষ্ট্রপতি আসার কথা রয়েছে।’
উল্লেখ্য, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিসিসিসির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। আর জি-টু-জি ভিত্তিতে টানেলটি নির্মাণ প্রস্তাব গত জানুয়ারিতে অনুমোদন করে চীন সরকার। এটি নির্মাণে ঋণ দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক। গত এপ্রিলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়। ২ শতাংশ সুদে টানেল নির্মাণে ৬৫ কোটি ডলার বায়ার্স ক্রেডিট দেবে চীন। এর বাইরে আরও রয়েছে দশমিক ২ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি ও দশমিক ২ শতাংশ ম্যানেজমেন্ট ফি। আর গ্যারান্টি ও অন্যান্য ফি মিলে প্রায় ৪ শতাংশের উপরে সুদ পরিশোধ করবে বাংলাদেশ। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০ বছর। তবে এখনো সরকারের সাথে চীনের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি।

মতামত...