,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

স্বামী খুনের মামলায় অন্তসত্বা স্ত্রীকে রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ

111নিজস্ব প্রতিবেদক , চট্টগ্রাম , বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম::  রাজধানী ঢাকাতে আততীয়দের গুলিতে নিহত স্বামী খুনের ঘটনায় তার অন্ত:সত্বা স্ত্রীকে পুলিশী রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন নিহত ওবায়দুল হাসানের স্ত্রী শিক্ষানবিশ আইনজীবী খাদিজা আকতার সোনিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া জানান, খুনের ৮মাস হয়ে গেলেও পুলিশ প্রকৃত খুনিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অথচ আমাকে খুনি বানাতে সব রকম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার কাজ দীর্ঘায়িত করে ওবায়দুলের সম্পদ ছিনিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে একটি চক্র। ওবায়দুল হক খুন হওয়ার পরই তার ঔরসজাত সন্তানকে খুনের পরিকল্পনা করে চক্রটি। তাতে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিতভাবে আমাকে খুনের মামলায় জড়াতে পুলিশ ও চক্রটি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় টেলিভিশনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রচার করছে।

সোনিয়া বলেন, খুনের কাজে ব্যবহৃত মটর সাইকেল, অস্ত্র, ওবায়দুলের ল্যাপটপ, মোবাইল সেট ও নগদ টাকা ৮ মাসেও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়ার পিতা নুরুল আবসার চৌধুরী, মা ছালেহা বেগম, বড় ভাই দেলোয়ার হোসাইন ও ফুফু মমতাজ বেগমসহ অন্যান্য স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

111aসোনিয়া মা বাবা বলেন, ওবায়দুল হাসান খুন হওয়ার প্রায় ১৬ দিন পর মেয়ের বড় ভাসুর শেখ আহম্মদ ও ওবায়দুলের ফুফাত ভাই নেছার আহমদ আমাদের আলকরণস্থ বাসায় গিয়ে সোনিয়ার গর্ভপাত ঘটানোর জন্য আমাদের প্রস্তাব দেয়। এর পর থেকে বেশ কয়েকবার সোনিয়ার গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য তারা চাপ প্রয়োগ করে ব্যর্থ হন। অসুস্থ্য সোনিয়া হাসপাতাল থেকে রিলিজ বাসায় ফেরার পথে নগরীর লাভলেইন মোড়ে ডিবি পুলিশ নিয়ে হাজির হন শেখ আহম্মদ। সেখানে শেখ আহম্মদের উপস্থিতিতেই ডিবি পুলিশ সোনিয়াকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে যায়। ডিবি পুলিশ জোরপূর্বক সোনিয়ার কাছ থেকে ওবায়দুল হাসানের খুনের সাথে সোনিয়া জড়িত আছে এমন বক্তব্য দেয়ানোর জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে। সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। ওই সময় অন্তঃসত্বাবস্থায় দুইমাস হাজতবাস করার পর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।

সংবাদ সম্মেলনে সোনিয়া কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বলেন, যে এলাকায় ওবায়দুল খুন হন, ওই এলাকাটি সিসি ক্যামরায় নিয়ন্ত্রিত, ওবায়দুল খুন হওয়ার সময় সিসি ক্যামরায় ধারণকৃত ভিডিও রেকর্ড জব্দপূর্বক আদালতে জমা দেয়া হয়নি কেন? খুনিরা ওবায়দুলের নিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ, মোবাইল, ব্যাগ ও খুনের কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে ব্যর্থতা কেন ? এগুলো উদ্ধারের ব্যাপারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমস্ত প্রযুক্তি অকেজো হয়ে গেছে ? কিলার টিমের সেই লিডার রুবেলকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি কেন? আমাকে ওবায়দুল হকের স্মৃতিছাড়া করতে এত পরিকল্পনা কেন ? ওবায়দুলের মূল খুনি, খুনের কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র, খুয়ে যাওয়া ল্যাপটপ, মোবাইল ডিবি পুলিশ উদ্ধার না করে এতকিছু অপূর্ণতা সত্বেও আদালতে অভিযোগপত্র দেয়ার জন্য তড়িগড়ি করছেন কেন। “তা হলে কী ! আমি কী আজ সেই ২১ আগস্টের আরেক জজ মিয়া। অসহায় আর্তনাদ ও অসহায় আর্তসমর্পণ করে ন্যায়ভাবে আসামী হয়ে চুপ থাকতে হবে”!

সোনিয়া বলেন, গর্ভে থাকা ওই শিশুটির বাবা বেঁচে নেই বলে কি শিশুটি পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করা পাপ! কেন তাকে গর্ভে তিন মাস বয়সেই হত্যার এত আয়োজন! এর মূল রহস্যটা কোথায়? ওবায়দুলের ব্যাংক ব্যালেন্স, স্বাক্ষরকৃত চেক বই, এফডিআরএর কাগজপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার সব কিছু আমার কাছ থেকে শেখ আহাম্মদ ছিনিয়ে নেন। আমার বিয়ের কাবিননামা লুকিয়ে ফেলেন। ঘরের সকল চাবি-পত্র সোনিয়ার কাছ থেকে কেঁড়ে নেন। ভাইয়ের খুনের বিচার না চেয়ে মামলার কাজ দীর্ঘায়িত আর সম্পদ লুটে মেতে উঠলেন কেন?

উল্লেখ্য গত বছরের ২৬ জুন ওবায়দুল হাসান রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় রিকশা যোগে বসুন্ধরা সিটির সামনে থেকে কলাবাগন থানাধীন ভূতের গলি সার্কুলার রোডস্থ বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১২টার দিকে কলাবাগানের ১০৩ সার্কুলার রোডস্থ সেলিম মিয়ার বাড়ির সামনে ৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি মটর সাইকেল যোগে এসে রিক্সার গতিরোধ করে এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ব্যাগসহ ১টি ল্যাপটপ, ২টি মোবাইল সেট ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এসময় ওবায়দুলের কপালে গুলি করে তারা।

পরে রিক্সা চালক জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় লোকজন ওবায়দুলকে কলাবাগন থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে পুলিশ ঢাকা মেডিকেলে পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে মারা যায়। নিহত ওবায়দুল হাসান শ্রমও কর্মসংস্থান মন্ত্রী ও শিল্পপতি নূরুল ইসলাম বিএসসি’র ভাগিনা । ঘটনার দিন রাতে রাজধানীর পান্থপথে অবস্থিত বসুন্ধরা সিটিতে নুরুল ইসলাম বিএসসির মালিকানাধীন সানোয়ারা গ্রুপের সাবজিরো আইসক্রিম পার্লারের থেকে বাসায় ফেরার পথে খুন হন। সেখানে তিনি ম্যানেজার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।

 

বিএনআর/১৬২৯/০০১৭/সি

মতামত...