,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

স্বাস্থ্যসেবায় এপিক হেলথ কেয়ারের ১ বছর

hনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  ডাক্তারের নির্দেশ মত টেস্টের জন্য কোনো এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলেন, কিন’ সেখানে হয় এমআরআই অথবা সিটি স্ক্যান মেশিন নেই। আশাহত হয়ে তখন আরেক জায়গায় ছুটলেন। চট্টগ্রামের প্রায় সব ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর চিত্রই এমন। এক ছাদের নিচে নেই সব ধরনের সেবা। একটিতে আছে তো আরেকটি নেই। তবে এপিক হেলথ কেয়ার’এ যারা গিয়েছেন নিঃসন্দেহে সন’ষ্ট হয়েছেন সবাই। কারণ নগরবাসীকে বিশ্বমানের স্বাস’্যসেবা দিতে সব টেস্টের নিশ্চয়তাই আছে এখানে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একেবারে সামনেই এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ভবনটির সাত তলা পর্যন্তই বিভিন্ন ধরনের টেস্টের যন্ত্রপাতি। প্রয়োজনে যে টেস্টের জন্যই যান না কেন, কাউকেই ফিরতে হবে না। আছে মানসম্মত সেবার নিশ্চয়তাও।

সোমবার ১০ আক্টোবর প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্ণ হলো এপিক হেলথ কেয়ার সেন্টারের। পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিশেষায়িত যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ও ডাক্তারের সমন্বয়ে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর যাত্রা শুরু করেছিলো এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নগরবাসীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে এর অবস’ান চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের সামনেই। যাতে হাসপাতাল থেকে বেরোলেই পৌঁছে যেতে পারেন প্রয়োজনে।

শুধু আপনিই যে গেলেন তা নয়, প্রয়োজনে আপনাকেই তারা নিয়ে যাবেন। চলাফেরায় অক্ষম রোগীদেরকে চমেক থেকে অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে ল্যাব পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার সুব্যবস’া রেখেছে এপিক। এছাড়া এর বহুতল ভবনের প্রত্যেক ফ্লোরেই আছে হেলপ ডেস্ক। কোনো রোগী একা আসলেও নিচতলার অভ্যর্থনা থেকে শুরু করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে এপিক থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠা পর্যন্তও পান সব সহযোগিতাই।

নগরীর আর কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমআরআই মেশিন না থাকলেও এপিকে থ্রি-তেসলা এমআরআই মেশিনের সাহায্যে পরীক্ষার ব্যবস’া আছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম এমআরআই মেশিন এপিকেরই। এপিকের পর ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে এ মেশিন আনা হয়। তবে ১৫ কোটি টাকা দিয়ে আনা এ মেশিনে ভর্তুকিমূল্যে অন্য সব মেশিনের মতই সমান ফি’তে এমআরআই পরীক্ষা করা হয়।

নগরীতে সর্বাধিক সংখ্যক ৭৫ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক একমাত্র এপিকেই আছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ৪’শ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে এপিক। যা কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রথমবারের মত আয়োজন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এই সেমিনারে ভারতের ‘মেডান্টা-দ্য মেডাসিটি’ হসপিটালের ইউরোলজি অ্যান্ড নেফ্রোলজি এর ডা. নরমাদা প্রসাদ গুপ্ত, কার্ডিওলজি এর ডা. বলবীর সিং এবং নিউরোলজি কনসালটেন্ট ডা. রত্নদীপ বোস তাদের আর্টিকেল উপস’াপন করেন। এর মধ্যে আবার ডা. নরমাদা ও ডা. বলবীর ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘পদ্মশ্রী’ খেতাব পাওয়া।

গলাকাটা ডাক্তারি পরীক্ষার এই যুগে ‘শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যেই এপিকের যাত্রা নয়’ জানালেন ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর টি এম হান্নান। তিনি জানালেন, ‘গত এক বছরে বেশ কিছু ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গরীব ও দুঃস’দের ফ্রি চেকআপ সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া চমেক থেকে প্রায়ই অভিভাবকহীন আর আন্ডার প্রিভিলেজড রোগীদের বিনামূল্যে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া। সবসময়ই করা হয়ে থাকে।’

তবে গ্রামীণ জনপদে চিকিৎসা সেবায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে এপিক। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে সেবা না নিয়ে পল্লী গ্রামে প্রায়ই পল্লী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন গ্রামবাসী। যার কারণে প্রায়ই জটিল রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়।
তাই নগর ও জেলার বিভিন্ন স’ানের ১০টি পয়েন্টে প্রায় সাড়ে তিনশ পল্লী চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান। যাতে জরুরি মুহূর্তে নিজেদের কাছে ধরে না রেখে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে পাঠান।

শুধু সেবা দিয়ে যাওয়াই এর লক্ষ্য হলেও সেবাদানকারী কর্মীদেরও মূল্যায়ন করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। দক্ষতা, সততা ও আনুগত্যে শ্রেষ্ঠ কর্মীদের পুরষ্কৃত করে প্রতিষ্ঠানটি। ‘যাদের কারণে আমরা সেবা দিতে পারছি, তাদের মূল্যায়ন তো করতেই হবে। তাদের জন্যই আমরা বিশ্বমানের সেবা দিতে পারছি।’ বললেন ডিরেক্টর টি এম হান্নান। প্রতিষ্ঠানটির ১৫টি বিভাগের শ্রেষ্ঠ ১৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকেও সোমবার পুরস্কৃত করেন তারা।

প্রতিষ্ঠানটির এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার সকালে একটি র‍্যালি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রদক্ষিণ করে আবার এর সামনে এসে শেষ হয়। পরে কেক কেটে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অনুষ্ঠানে উপসি’ত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস’াপনা পরিচালক এস এম আবু সুফিয়ান, সভাপতি এস এম লোকমান কবির, পরিচালক আনোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক টি এম হান্নান, মো. জসিম উদ্দিন এবং ডা. এনামুল হক নাদিম। এছাড়া আরো উপসি’ত ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক এবং চেম্বার অব কর্মার্সের সভাপতি মাহবুবুল হক।

মতামত...