,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

হঠাৎ দেশের রাজনৈতিক আঙনে আলোচনায় কারামুক্ত মান্না

নিজস্ব প্রতিবেদক, ২৬ ডিসেম্বর,বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: হঠাৎ দেশের রাজনৈতিক আঙনে আলোচনায় কারামুক্ত সাবেক ছাত্র নেতা ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর সেখানেই তাকে দেখতে যাচ্ছেন বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদরা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের পাশাপাশি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানও হাসপাতালে গিয়ে তাকে দেখে এসেছেন।

প্রকাশ, গত ২০১৫ সালে বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির সঙ্গে মান্নার টেলিফোন আলাপের দুটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ হয়। কথোপকথনের মধ্যে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ে লাশ ফেলার কথাও বলেন তিনি।
ওই সূত্র ধরে সেনা বিদ্রোহে উসকানি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মান্নাকে আটক করা হয়। এর পর গত ১৮ ডিসেম্বর জামিনে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। আর এখন সেখানেই লাইন ধরেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। এর মধ্যে গত শুক্রবার ফুল হাতে হাসপাতালে মান্নাকে দেখতে যান সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সেখানে প্রায় আধা ঘণ্টা পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন সাবেক এই ২ ছাত্রনেতা।
মান্নার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেওয়ার এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের উপাচার্য কামরুল হাসানকে ফোন করে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আমরা একসঙ্গে রাজনীতি করেছি। রাজনীতির বাইরেও একটা সম্পর্ক থাকে। গতকালই আসতে চেয়েছি, নির্বাচনের (নারায়ণগঞ্জ সিটি ভোট) কারণে পারিনি। আজ প্রোগ্রাম ছিল, শেষ করে চলে এসেছি।
জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)তে মান্না ও আওয়ামী ছাত্রলীগের নেতা কাদের ছাত্র রাজনীতির করেছেন।
শনিবার মান্নাকে দেখে আসার পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমি রাজনীতি করি, মান্নাকে দেখতে যাওয়া আমার নৈতিক দায়িত্ব। আমি লোক দেখানোর জন্য কোনো কাজ করি না, আমি কাজ করি মন থেকে। মান্না যে তার হাত ধরেই রাজনীতিতে এসেছিলেন, সে কথাও মনে করিয়ে দেন তিনি। একই দিনে মান্নাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে বাসদের খালেকুজ্জামান বলেন, জেলখানা থেকে বেরিয়ে এসেছে, অসুস্থ; তাই দেখতে গেলাম। এটা একেবারেই সৌজন্য।
এর আগে শনিবার সকালে মান্নাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা.জাফরউল্লাহ চৌধুরীও গিয়েছিলেন হাসপাতালে। মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ২১ মাস মিথ্যা মামলায় কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন মান্না। তিনি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা। কারাগার থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুনে তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেন, তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আশা করি তিনি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন, দেশের মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করবেন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর আওয়ামী লীগে সংস্কারপন্থী হিসেবে পরিচিতি পান মাহমুদুর রহমান মান্না। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে পদ হারালে তিনি নাগরিক ঐক্য নামে নতুন দল গড়েন। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তি ঘিরে উত্তাপের মধ্যে ২০১৫ সালের শুরুতে গণফোরামের ড. কামাল হোসেন ও আ স ম আবদুর রবকে নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে তৃতীয় একটি রাজনৈতিক জোট গঠনের চেষ্টা শুরু করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) আপত্তিতে বিষয়টি আর এগোয়নি।

মতামত...