,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

হাজার খুনেও অনুতপ্ত নয় সোহেল রানা

rana-plaza harano drনিজস্ব প্রতিবেদক,বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, ২৪ এপ্রিল ২০১৩ সালের । সকাল ৯টার দিকে কেঁপে ওঠে ১৬ কোটি বাংলাদেশির বুক। স্মরণকালের বড় বিপর্যয় নামে ঢাকার সাভারে। ধসে পড়ে বেশ ক’টি পোশাক কারখানার বহুতল ভবন রানা প্লাজা। আর তাতে চাপা পড়ে শত শত মানুষ। নিভে যায় সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এমন বহু মানুষের জীবন প্রদীপ, পঙ্গু হয়ে যান পরিবারকে স্বপ্ন দেখাতে থাকা আরও বহুজন।

rana -rana-plazaধসের ঘটনায় অনুতপ্ত নয় সোহেল রানা । তিন বছর পূর্ণ হল সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনার। মরদেহের মিছিল তৈরি করা এবং আহত-নিহত কয়েক হাজার পোশাক শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবনে অভিশাপ বয়ে আনা ছাড়াও দেশের অর্থনীতিতে চরম ক্ষতিকর প্রভাব ফেলেছে আলোচিত ওই ধসের ঘটনা ।

ধ্বংসযজ্ঞ বয়ে আনা এতোসব ঘটনার জন্য মূলত দায়ী রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা। যে ওন্যর জায়গা  জবর দখল করে অবৈধ ও অপরিকল্পিত বহুতল ভবন রানা প্লাজা নামের মৃতু ফাঁদ১১২৭ জন  শ্রমিককের মৃত্যু ও  প্রতিবন্ধি অসহনীয় জীবনের দিকে ঠেলে দেন আরো হাজারো শ্রমিকের জীবন। ধসে পড়ার আশঙ্কা সত্বেও ভবনটি পরিত্যক্ত বা সংস্কার করা হয়নি। এমনকি ঘটনার দিন জোর করে কাজ করতে বাধ্যও করা হয়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে অবস্থিত পাঁচটি পোশাক কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিককে।

Rana plazaআজ ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল। রানা প্লাজা ধসের তিন বছর। এই তিন বছরেও শনাক্ত হয়নি ১০৩টি মরদেহের পরিচয়।শেষ বিদায় দিতে পারে নি অনেকে।

কিন্তু সেই সোহেল রানা এতো বড় ও হাজারো জিবন হরণের মতো  অপকর্ম করেও নেই কোন অনুশোচনা।

বিশেষ ক্ষমতা আইন, অস্ত্র মামলা এবং দুদকের মামলাসহ মোট ছয়টি মামলায় গ্রেফতার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি থাকা রানাকে পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সূত্রগুলো এমনটিই জানিয়েছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় ধসে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা।  এতে চাপা পড়ে এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ১১৭৫ জন, আহত হন সহস্রাধিক পোশাক শ্রমিক।

আহতদের বেশিরভাগই এখন প্রতিবন্ধিত্ব নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন। জীবিতদের মধ্যে অনেকে দিনযাপন করছেন মানসিক ভারসাম্যহীনতা নিয়ে।

 পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কারাগারের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ‘যার কারণে এতো মানুষ মারা গেলেন, সেই সোহেল রানাকে দেখে মনেই হয় না যে- তিনি অনুতপ্ত। অপরাধ করার পরে কারাগারে এসে অনেকেই ভালো মানুষ হয়ে বের হন। তাদের দেখে বোঝা যায়, তারা অনুতপ্ত। কিন্তু রানা কখনো তার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনাও করেননি, ভালোও হননি’।

সোহেল রানা অন্যান্য হাজতির মতোই আটক রয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা ১০/১৫ দিন পর পর সাক্ষাতের সুযোগ পান।

কারা কর্মকর্তারা আরো বলেন, ‘রানা প্লাজার মালিকের হাতে-পায়ে ডাণ্ডা-বেড়ি নেই। কিন্তু তাকে কখনো নামাজ পড়তেও দেখিনি’।

 

মতামত...