,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

হাটহাজারীতে পানিসম্পদ মন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলা

হাটহাজারী সংবাদদাতা, ৩১ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলা সদরে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল মাহমুদ এমপি’র গাড়িবহরে ইট–পাটকেল নিক্ষেপ এবং জুতো প্রদর্শন করেছে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। গতকাল বেলা ১টার দিকে হাটহাজারী উপজেলা সদরের বাস স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মন্ত্রী উপজেলা মিলনায়তনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তার গাড়িবহরে হামলার শিকার হন। এ সময় মন্ত্রীর গাড়িবহরে দুজন মহিলা এমপি ও একজন সাবেক সেনাপ্রধান ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তারা ছিলেন। তাৎক্ষণিক পুলিশি হস্তক্ষেপে হামলাকারীরা পালিয়ে গেলেও হামলায় কেউ হতাহত হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ হাটহাজারী সদরে অবস্থান নেয়। ‘দেশের কোথাও বন্যা হয়নি’ মর্মে পত্র–পত্রিকায় দেওয়া মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। তবে সভা শেষে মন্ত্রী সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘পত্রিকায় আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে।

জানা গেছে, হাটহাজারী চেয়ারম্যান সমিতি হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বন্যা বা জলাবদ্ধতার কবল থেকে হাটহাজারীবাসীকে রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে। সভায় ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি প্রধান অতিথি ছিলেন। এ সভাকে কেন্দ্র করে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর অনুসারীরা সকাল থেকে হাটহাজারী কলেজে অবস্থান নেয়। মন্ত্রী হাটহাজারীতে প্রবেশের আধাঘণ্টা পূর্বে মিছিল বের করে মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর অনুসারী আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। মিছিলে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি হাটহাজারী উপজেলার সম্মুখ হয়ে হাটহাজারী কলেজ গেইট দিয়ে বাসস্টেশন জিরো পয়েন্টে গিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। ছাত্রলীগ নেতা সাকেরিয়া চৌধুরী সাগর সঞ্চালনায় উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুর রহমান রাসেলের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মঞ্জু । উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মো. আজম উদ্দিন, তসলিম হায়দার, সাঈদুল হক খোকন, নিয়াজ মোরশেদ, গিয়াস মেহেদি, খোরশেদ মেহেদি, ফরিদ উদ্দিন, হানিফ, জাবেদ, মিজানুর রহমান, ইমরানুল হক মুন্না, অরুণ চৌধুরী, েেহলাল উদ্দিন, আবু বক্কর, আরফাত উদ্দিনসহ দুই শতাধিক নেতাকর্মী। এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজার নেতৃত্বে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। বেলা প্রায় ১টার দিকে নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল বহরযুক্ত মন্ত্রীর গাড়ীবহর বাসস্টেশন গোল চত্বর (জিরো পয়েন্ট) অতিক্রম করার সময় বিক্ষোভকারীদের কয়েকজন আকস্মিক মন্ত্রীর গাড়িবহরের অগ্রভাগে থাকা মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে। এসময় বিক্ষোভকারীদের অনেককে হাতে জুতো নিয়ে মন্ত্রীর গাড়িবহর লক্ষ্য করে জুতো প্রদর্শন করতে দেখা যায়। তখন কর্তব্যরত পুলিশ ইট–পাটকেল নিক্ষেপকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যাওয়াতে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় যানবাহনের কোন ক্ষয়ক্ষতি বা কেউ হতাহত হয়নি। মন্ত্রীর গাড়িবহরে সাবিহা মুছা এমপি, ফিরোজা বেগম চিনু এমপি, সাবেক সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম. হারুন–অর–রশিদ ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার উননেছা শিউলী ছিলেন। ঘটনার পরপর অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স হাটহাজারী সদরে এসে অবস্থান নেয়।

হাটহাজারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, পুলিশের তাৎক্ষনিক সতর্ক তৎপরতায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এদিকে মন্ত্রীর গাড়ি বহর বাস স্টেশন জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করে অনুষ্ঠানস্থলে চলে গেলে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। মিছিলে জেলা আওয়ামীলীগ নেতা আলহাজ্ব মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী মজ্ঞু নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি বাস স্টেশন থেকে শুরু হয়ে কলেজ গেট কাচারী সড়ক বাজার হয়ে পুনরায় বাস স্টেশন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল থেকে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন আপত্তিকর শ্লোগান দেয়া হয় বলে সুত্র জানিয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে উত্তরজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাকেরিয়া চৌধুরী সাগর, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আরিফুর রহমান রাসেল, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. আজম উদ্দিন, তসলিম হায়দার, গিয়াস মেহেদি ও সাঈদুল হক খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এরা সবাই চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালামের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশের কোথাও বন্যা হয়নি’ মর্মে পত্রপত্রিকায় দেওয়া মন্ত্রীর বক্তব্য তামাশাপূর্ণ যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। অথচ মন্ত্রীর নিজ গ্রাম গুমানমর্দনসহ হাটহাজারীর বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। তাই আমরা তার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছি। মন্ত্রীর গাড়িবহর দেখে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের কেউ কেউ প্রতিবাদ জানিয়ে পাথর নিক্ষেপ করেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মশিউদ্দৌলা রেজা সাংবাদিকদের জানান, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। সমাবেশস্থলের অদূরে হঠাৎ কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল কর্মী গাড়ীবহরে পাথর নিক্ষেপ করে। আমরা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।’
সভাশেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘পত্রিকায় আমার বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। হাটাহাজারী, কক্সবাজারসহ কিছু এলাকায় বন্যা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।’ তবে তিনি হাটহাজারীতে বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে কোন মন্তব্য করেননি।

হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বন্যা বা জলাবদ্ধতার কবল থেকে হাটহাজারীবাসীকে রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা হাটহাজারী চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবিহা মুছা এমপি, ফিরোজা বেগম চিনু এমপি, সাবেক সেনা প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম. হারুন–অর–রশিদ, হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জসিমউদ্দিন শাহ, জেলা আওয়ামীলীগ নেতা শাহনেওয়াজ চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানশেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এমপি উপজেলার আওতাধীন ১৪টি ইউনিয়নে ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার কৃষি সামগ্রীসহ মোট ১৪ টি পাওয়ার টিলার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেন। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টি.আর) প্রকল্পের আওতায় কৃষক ক্লাবের মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় হাটহাজারীর উপজেলায় এসব পাওয়ার টিলার বিতরণ করা হয়। ৫ জন গ্রুপকে একটি করে পাওয়ার টিলার দেওয়া হয়।

মতামত...