,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

হাতে ফুল, বুকে কালো ব্যাচ, মুখে দাবিঃ রায়ের বাজারে মানুষের ঢল

114নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা, ১৪ডিসেম্বর,বিডি নিউজ রিভিউজঃঘাসের ডগায় জমে আছে হেমন্তের ভোরের শিশির। তেমন শীত নেই। তবু হালকা শীতছোঁয়া সকালে আড়মোড়া ভাঙেনি অনেকের। রাজধানীর রাস্তাজুড়ে প্রায় নিরবতা। তবে শ্রদ্ধা জানানোর প্রয়াস নিয়ে ল্কশ-কোটি মানুষ ছুটে এসেছেন রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। আজ এখানকার চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর অসংখ্য মানুষ এসেছেন। সবার লক্ষ্য একটাই। একাত্তরের এই দিনে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা জানানো।

প্রতিবছরই শ্রদ্ধা জানানো হয়, তবে এবার আনন্দটা একটু বেশি। কিছুদিন আগেই মৃত্যুদণ্ড হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের। সেই রেশ যেন সবার চোখেমুখে ছড়িয়ে আছে। সবাই যেন বলতে এসেছে, ‘তোমরা এবার শান্তিতে ঘুমাও, তোমাদের হত্যার বিচার আমরা করছি।’

রোববার দিবাগত মধ্যরাত থেকেই রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নির্মিত শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে নানা বয়সের মানুষ আসতে থাকে। রাত ১২টা এক মিনিটে স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে ফুল দিয়ে ও মোমবাতি জ্বালিয়ে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। এ সময় অসংখ্য মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হয় স্মৃতিসৌধ চত্বর।

রায়েরবাজারে আবার শ্রদ্ধা জানানোর পর্ব শুরু হয় সোমবার সকাল ৮টা থেকে। ফুলে ফুলে ঢেকে যায় স্মৃতিসৌধের বেদি। সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে শমী কায়সার, ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী, সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেনের ছেলে তৌহীদ রেজা নূর প্রমুখ। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রায়েরবাজারে জনতার স্রোত বাড়তে থাকে স্মৃতিসৌধ চত্বরের দক্ষিণ পাশে বিশালাকার ডিজিটাল প্রিন্টে মুক্তিযুদ্ধের ছবি ও সংবাদপত্রের কাটিং প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। উত্তর পাশে বসানো হয় বুদ্ধিজীবীদের প্রতিকৃতি। বধ্যভূমিতে পড়ে থাকা বুদ্ধিজীবীদের আদলে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করে খেলাঘর আসর।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা শিক্ষার্থী  আলম বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। বাঙালিকে মেধাশূন্য করার চক্রান্ত করার অংশ হিসেবে যারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে সেইসব কুলাঙ্গার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবি জানাই।’

তার মতো একই দাবি করেন কামাল। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে তা আমি দেখিনি। একাত্তরের চেতনা ধারণ করে আমরা এসেছি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মিরপুর স্মৃতিসৌধে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ করা গেছে। বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের পুরো এলাকাজুড়ে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান।

 

মতামত...