,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

চট্টগ্রামে হাত-পা বাঁধা চবি ছাত্রের লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক,২৪মার্চ, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: চট্টগ্রাম মহানগরের অক্সিজেন শহীদনগর এলাকায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে হাত-পা বাধা বাসার টয়লেট থেকে ওই লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আলাউদ্দিন। তার বাড়ি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেইট এলাকার মদনহাটের হেলাল চৌধুরীর পাড়ায়। আলাউদ্দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা পরিবার ও পুলিশের।
বৃহস্পতিবার বিকেলে লাশ মর্গে পাঠালে তার বাবা শাহ আলম ছেলে আলাউদ্দিনের লাশ শনাক্ত করেন। এসময় তারা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মো. মহসিন জানান, আলাউদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা করেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আলাউদ্দিনের চাচাত ভাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা বিভাগের কর্মচারী আবদুল মান্নান জানান, এক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল আলাউদ্দিনের। প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বছরখানেক আগে ওই নারীর বিয়ে হয়ে যায়। কয়েকমাস আগে তাকে ডিভোর্স দেওয়া হয়। এরপর সৌদি প্রবাসী এক যুবককে বিয়ে করেন ওই নারী। দ্বিতীয় স্বামীর গ্রামের বাড়ি রাউজান উপজেলায় হলেও অক্সিজেন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন ওই নারী। মাঝে মাঝে ওই বাসায় যাতায়াত ছিল আলাউদ্দিনের। গত বুধবার সন্ধ্যায় কথা আছে বলে আলাউদ্দিনকে বিকালে ফোন করেন ওই নারী।
তার (ওই নারী) ফোন পেয়ে প্রতিবেশি জাফরের সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বড়দিঘির পাড় এলাকা পর্যন্ত যান আলাউদ্দিন। চালক জাফর বড়দিঘির পাড় এলাকায় আলাউদ্দিনকে ছেড়ে দিয়ে ফের মদনহাটের দিকে চলে যান। এরপর বায়েজিদ শহীদ নগর এলাকায় যান আলাউদ্দিন। তবে কীভাবে বা কার সঙ্গে শহীদ নগরে ওই নারীর কথিত ভাড়া বাসায় যান তা জানেন না আবুদল মান্নান।
নিহত আলাউদ্দিনের এক স্বজন জানান, ওই নারীর বিয়ের আগে তাকে প্রাইভেট পড়াতেন আলাউদ্দিন। দ্বিতীয় বিয়ের পর ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপরও তার সাথে যোগাযোগ ছিল আলাউদ্দিনের। এদিকে বুধবার রাতে বাসায় না ফেরায় আলাউদ্দিনের মোবাইল ফোনে কল করেন তার মা। কিন’ এসময় তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজি করে গতকাল সকালে ছেলের খুনের সংবাদ পান আলাউদ্দিনের মা-বাবা।
পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার শহীদনগর এলাকার চারতলা বাড়ির তিন তলার একটি খালি ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে আসেন এক যুবক ও এক নারী। বাড়িটির মালিক ফটিকছড়ির বাসিন্দা ওমান প্রবাসী আবু সৈয়দ। কিন’ তত্ত্বাবধায়ক হাসিনা আকতার না থাকায় তাদের ওই বাসাটি দেখানো সম্ভব হয়নি।
পরের দিন বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তিন যুবক ও এক নারী পুনরায় বাসাটি দেখতে আসেন। এসময় তারা বস্তাভর্তি কিছু মালামালও নিয়ে আসেন। ভাড়া নির্ধারণ হওয়ায় তাদের বাসাটি খুলে দেন তত্ত্বাবধায়ক হাসিনা। এরপর ওই বাসায় ঢুকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজে লেগে যান তারা। এক পর্যায়ে আরও মালামাল নিয়ে আসার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে যান তারা।
রাত ১১টার দিকে বাসার দরজা খোলা দেখতে পেয়ে ভেতরে ঢোকেন হাসিনা। কিন’ বাসায় কারও দেখা পাননি তিনি। এক পর্যায়ে টয়লেটের দরজা খুলে হাাসিনা দেখেন এক যুবক হাত-পা বাধা অবস’ায় মেঝেতে পড়ে আছে। এরপর দ্রুত খবর দিলে রাত দেড়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস’ল থেকে পুলিশ ছুরি ও রশি উদ্ধার করেছে বলে জানা গেছে।
পরিবারের ভাষ্য, ওই নারী শহীদ নগর এলাকায় ওমান প্রবাসী আবু সৈয়দের বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেওয়ার কথা বলে দুই যুবকসহ আলাউদ্দিনকে ওই বাসায় ডেকে নিয়ে যান। এরপর রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। খুনের পরিকল্পনা করে আলাউদ্দিনকে শহীদ নগরের বাসায় নিয়ে যান ওই নারী। ঘটনার পর থেকে ওই নারী ও অজ্ঞাত দুই যুবক পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গেছে, দুই ভাইয়ের মধ্যে আলাউদ্দিন বড়। বাবা শাহ আলম এক সময় বিদেশে থাকলেও বর্তমানে বাড়ির কাছে একটি গ্রোসারির দোকান দিয়েছেন।
এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস’তি চলছে বলে জানিয়েছেন বায়েজিদ বোস্তামি থানার ওসি মো. মহসিন। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবু সৈয়দের বাড়ির কেয়ারটেকার হাসিনা আকতারকে আটক করা হলেও তা স্বীকার করেননি ওসি মহসিন।

মতামত...