,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে শুরু করে সব সার্ভিস অনলাইনে আনা হবে : পলক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ২০২১ সাল নাগাদ কোনো সার্ভিস বা লেনদেন আর ফিজিক্যালি অফিসগুলোতে গিয়ে ধর্ণা দিতে হবে না। ঘরে বসে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে ফিংগার টিপসে আমরা প্রয়োজনীয় সেবাগুলো দিয়ে দিতে চাই। আমাদের ই–গর্ভনেন্স হবে পেপার লেস এবং ট্রান্সজেকশন হবে ক্যাশ লেস। আমরা সে উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে কল সেন্টার ও মোবাইল অ্যাপস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আইসিটি ডিভিশন থেকে সারা বাংলাদেশে প্রায় ৫ হাজার ২৭২ টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছি। প্রত্যেকটি সিটি কর্পোরেশনে একের পর এক সার্ভিস অটোমেশন করে যাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে শুরু করে সকল ধরনের সার্ভিস অনলাইনে আনা হবে। এজন্য বিভিন্ন প্রজেক্ট চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে হোল্ডিং ট্যাক্সসহ যত ধরনের অটোমেশন আছে প্রত্যেকটি সেবা খুব অল্প সময়ের মধ্যে আমরা আইসিটি ডিভিশন থেকে অটোমেটেড করব।

বাংলাদেশে ই–গভর্নেন্স পেপার লেস এবং ট্রান্সজেকশন ক্যাশ লেস হবে জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সকল লেনদেনকে ক্যাশ লেস করে ফেলতে চাই। ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশকে এমন ডিজিটালের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাই যেখানে দেশটি হবে পেপারলেস এবং ক্যাশ লেস। অর্থাৎ সরকারি সেবায় কোনো লালফিতার দৌরাত্ম্য থাকবে না বা বাইরে জিম্মি করে কোনো দুর্নীতি করার সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি কোনো লেনদেন অর্থাৎ ইউটিলিটি সার্ভিস থেকে শুরু করে ট্যাক্স কালেকশনসহ সব কালেকশন আমরা অনলাইনে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের ন্যাশনাল পেমেন্ট তৈরি করার কাজে হাত দিয়েছি। আমরা ন্যাশনাল ডিজিটাল ওয়ালেট করব। সে ডিজিটালাইজেশনের কাজ চট্টগ্রাম থেকে শুরু করব।

চট্টগ্রামের মানুষের দুর্ভোগকে ডেভেলপমেন্ট পেইন আখ্যায়িত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ উন্নয়ন বেদনায় আছে। আরও উন্নয়ন হবে। আর এ উন্নয়ন পাওয়ার জন্য বেদনা সহ্য করতে হবে। এটি হচ্ছে ডেভেলপমেন্ট পেইন।

প্রতিমন্ত্রী পলক আরো বলেন, চট্টগ্রামে ধনী লোক বেশি। অ্যাপল ফোন ব্যবহার করে বেশি। জেনারেলি আমাদের অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারী বেশি। অ্যাপল ফোনও অনেকে ব্যবহার করে। যত আইটি জায়ান্ট আছে তাদের বাংলাদেশে আগ্রহী করে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। চেষ্টা করছি অ্যাপল ফোনের রেজিস্ট্রেশন যাতে বাংলাদেশের নাম নিয়ে করা যায়, বাংলাদেশকে যেন কনসিডার করে। আগে ফেসবুক বাংলাদেশকে কনসিডার করত না। গুগল ট্রান্সলেটর অফলাইনে ছিল না। এগুলো সব সমঝোতার মাধ্যমে একের পর এক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

চট্টগ্রামের জন্য তিনটি অনুমোদিত প্রকল্পের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা তিনটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। একটি হাইটেক পার্ক ১৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে, আরেকটি শেখ কামাল আইসিটি ট্রেনিং সেন্টার ৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে, অপরটি সফটওয়্যার টেকনোলজি সেন্টার। সিটি করপোরেশনের একটি ভবন পাঁচতলা ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করব, যেখানে ২৫–৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অর্থ রেডি আছে। অর্থাৎ ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিজিটাল ইকোনমিক হাব হিসেবে চট্টগ্রামকে গড়ে তুলব। যেখানে দু–তিন বছরের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি তরুণ–তরুণীর কর্মসংস্থান হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মাটি সারা বিশ্বের কাছে পরিচিত। এটি হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। এটি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। এটিকে সিলিকন সিটিতে রূপান্তর করতে চাই। চট্টগ্রামকে আইসিটি শিল্পনগরী হিসেবে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করতে চাই আইসিটি বিভাগ। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে ডিজিটাল ও স্মার্ট সিটি হিসেবে আইসিটি বিভাগ গড়বে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পলক আরো বলেন, আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন বাংলাদেশে বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং সেক্টরের ব্যবসা ঢাকায় শুরু হয়েছিল সাত–আট বছর আগে। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কল সেন্টারের লাইসেন্স প্রদানের মাধ্যমে নতুন একটি জব সেক্টর উন্মুক্ত করেছিলেন তরুণদের জন্য। চট্টগ্রামেরই একজন তরুণ, আমার অত্যন্ত প্রিয় মেজবা ভাই সাহসিকতার সঙ্গে চট্টগ্রামের মাটিতে হ্যালো ওয়ার্ল্ডের যাত্রা শুরু করেছিলেন আট বছর আগে। আজ সেই হ্যালো ওয়ার্ল্ড কিন্তু চট্টগ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ব অঙ্গনে চট্টগ্রামের নাম সুপরিচিত করেছে। বিশ্বে চট্টগ্রামকে দ্বিতীয় ডেসটিনেশনে পরিণত করেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় চারটি পিলার দিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথমটা হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট। এ লক্ষ্যে আইসিটি বিষয়কে পাঠ্য বইয়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সারা দেশে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করছি। চসিকের ১৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ল্যাব করেছি মেয়রের অনুরোধে। চট্টগ্রামে জেলায় আছে ৮০টি ল্যাব। দ্বিতীয়টা হচ্ছে কানেকটিভিটি। ছয় দফায় ৭৮ হাজার টাকা (প্রতি এমবিপিএস) থেকে কমিয়ে ৬২৫ টাকায় নামিয়ে আনা এবং সরকারের ২০০ রকম সেবা ইন্টারনেটে নিশ্চিত করায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৮ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। উপজেলা পর্যন্ত আমরা ফাইবার অপটিক ক্যাবল নিয়েছি। ২০১৮ সালের মধ্যে সকল ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, দু–এক বছরের মধ্যে ইন্টারনেটের গতি বাড়বে, দাম কমবে। প্রতিবছরই কিছু না কিছু দাম কমছে ইন্টারনেটের। এখন যেমন ক্যাবল টিভির লাইন বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে ফাইবার অপটিক ক্যাবলও ডোর টু ডোর চলে যাবে। দেশে সাড়ে তিন কোটি থ্রি জি ব্যবহারকারী এবং ফোর জি চালু হলে তাও দ্রশুত সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন পলক। আইসিটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য আছে জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইসিটি খাতে আমরা ২০ লাখ তরুণ–তরুণীর কর্মসংস্থান করব। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিটি জেলায় জেলায় হাইটেক পার্ক হবে। প্রথম পর্যায়ে ২৮টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে চুয়েটে দেশের প্রথম আইসিটি বিজনেস সেন্টার স্থাপন করতে যাচ্ছি।

সভায় এ সময় সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, কর্পোরেশনের কর্মকর্তা–কর্মচারী ছাড়াও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...