,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

pm-js3নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজঃ  দেশের হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে ১০ টাকা কেজিতে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে যে কোনও ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, চাল বিতরণসহ হতদরিদ্রদের তালিকা প্রণয়নে কোনো অনিয়ম কিংবা গরমিল সহ্য করা হবে না। অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের ডিলারশিপ বাতিলসহ তালিকা প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংসদ সদস্য ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের স্বস্ব এলাকায় তালিকা যাচাই-বাছাইসহ অনিয়ম খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন তিনি।

বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এদিন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের লিখিত ও সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের প্রশ্নের জবাবে হতদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যতদিন প্রয়োজন হবে ততদিন এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে দেশ থেকে যেভাবে দারিদ্র্য দূর হচ্ছে, মানুষের আর্থিক সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আর কাউকে সাহায্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

তিনি বলেন, প্রতি পাঁচশ’ জন হতদরিদ্র মানুষের জন্য একজন করে ডিলার নিয়োগ করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যানসহ নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হতদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করেন। এই তালিকায় যদি কোনো সক্ষম মানুষের নাম ওঠে অবশ্যই তা বাদ দিতে হবে। এক্ষেত্রে সব এমপি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ করবো— স্বস্ব এলাকায় এসব তালিকা পরীক্ষা করুন। কোনো অনিয়ম কিংবা গরমিল ধরা পড়লে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ টাকা কেজি করে চাল দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। ৯৬ সালের আগে নির্বাচনী বক্তৃতায় আমি ১০ টাকা কেজি চালের কথা বলেছিলাম। তবে ‘৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলাম। মাত্র ৫ বছরে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। ক্ষমতা ছাড়ার সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে আবারও দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে। ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি তখনও দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। পরে আবারও দেশকে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ খাদ্য রফতানির সক্ষমতাও অর্জন করেছে।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখনই দারিদ্র্যবান্ধব কর্মসূচি নেয়। ‘৯৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার সময়ও বিবিসি, বিশ্বব্যাংকসহ অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা বলেছিল— দুই কোটি লোক না খেয়ে মারা যাবে। আমরা বলেছিলাম একটি লোকও না খেয়ে মারা যাবে না। বন্যার সময় এবং পরবর্তী দীর্ঘ ৯ মাস পর্যন্ত আমরা ৫৫ লাখ মানুষের কাছে বিনামূল্যে ২০ কেজি করে চাল পৌঁছে দিয়েছিলাম।’

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মীর শওকত আলী বাদশার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ হতাশা থেকে এখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। দেশের মানুষকে বঞ্চনা থেকে মুক্ত করে তাদের জীবনকে হাসি-খুশিতে ভরে দেওয়া এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। ব্যথার পাথর বুকে চেপে চলছি একটাই লক্ষ্য নিয়ে। তা হচ্ছে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, তাদের ভাগ্যেও পরিবর্তন ঘটানো।

এর আগে লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই নির্বাচিত হয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে তখনই জনগণ বিশেষ করে দরিদ্র্য জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করেছে। আমাদের সরকারের দারিদ্র্য-বান্ধব কর্মসূচি প্রান্তিক জনগণের জন্য নিবেদিত। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে গ্রামীণ জনপদের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিকেজি ১০ টাকা করে কার্ডের মাধ্যমে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম চালু করেছি।’

তিনি জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের জনগোষ্ঠীর জন্য স্থানীয় কমিটির মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে কার্ড প্রদান করে কার্ড প্রতি প্রতিবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর এবং মার্চ-এপ্রিল এই পাঁচ মাস প্রতিমাসে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রির কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচি দীর্ঘ মেয়াদী চলবে। এতে দেশের আড়াই থেকে তিন কোটি লোক উপকৃত হবে এবং দেশের আর কেউ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। এ কর্মসূচির নাম হচ্ছে ‘খাদ্য বান্ধব’ কর্মসূচি এবং এর স্লোগান হচ্ছে ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার জঙ্গী ও সন্ত্রাসবাদ রোধসহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ইতিপূর্বে সন্ত্রাসী, নাশকতা ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীসহ সব অপরাধীদের কর্মকাণ্ড রোধে তাদের অর্থের যোগানদাতা ও অর্থের উৎস সন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সকল প্রকার নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করাসহ নিয়মিতভাবে সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্নস্থানে সন্ত্রাসী হামলা সংক্রান্ত মামলার রহস্য উদ্ঘাটতে সফলতার পরিচয় দিয়েছে। সরকার গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকার ফলে দেশে সন্ত্রাসবাদ এবং জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে দেশের সার্বিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতি হিসেবে জন্মলগ্ন থেকেই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনেতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখাসহ বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপের প্রতিফলনই হচ্ছে আজকের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য পূরণে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রা। এ অভিযাত্রাকে কাঙ্খিত গন্তব্যের পথে এগিয়ে নিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচি, প্রচার ও প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।

মতামত...