,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

১৬৯৩ গার্মেন্ট বন্ধ দুই বছরে

ঢাকা  ১ ডিসেম্বর (বিডি নিউজ রিভিউজ):দেশে রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস তৈরী পোশাকশিল্পে সংকট কাটছে না কিছুতেই। একের পর এক দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এ শিল্পের উদ্যোক্তারাও আছেন সংকটে। অনেকেই কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে গত দুই বছরে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পারায় পোশাকশিল্পের ১,৬৯৩টির বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত কারখানা ৫০০-এর অধিক এবং এর বাইরে ছোট-মাঝারি মিলে হাজারের অধিক হবে।এতে চাকরি হারিয়েছে কয়েক লাখ শ্রমিক। ফলে সংকুচিত হচ্ছে পোশাক খাতসংশ্লিষ্ট অন্য শিল্পে  কর্মসংস্থানের সুযোগ। নতুন কারখানা চালুর হারও কমেছে। পোশাক কারখানা মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সূত্রে প্রকাশ, রানা প্লাজা ধস, হরতাল-অবরোধ, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর বিদেশি হত্যাকাণ্ডের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের পোশাক খাতবিরোধী প্রচারণায় অনেক ক্রেতা এ দেশ থেকে ভিয়েতনামে চলে গেছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কারণে অনেকেই বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তা ছাড়া কমপ্লায়েন্ট ইস্যুতে ক্রেতারা এখন কঠোর হওয়ায় বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা জানান, বড়  কারখানাগুলো এ প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে গেলেও ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো তা পারছে না। এ ছাড়া পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাস না পাওয়া এবং এর মূল্য বৃদ্ধিতে অনেকেই চাপ নিতে পারেছে না বলে মন্তব্য করেন তারা। আগে বড় কারখানাগুলো বেশি করে পোশাকের অর্ডার নিয়ে তা অন্য কারখানায় সাব-কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে করিয়ে নিতো। কিন্তু রানা প্লাজার দুর্ঘটনার পর এখন বড় ক্রেতারা কারখানাগুলোর পরিবেশ ও মান যাচাই করে তবেই অর্ডার দেন। আর এ ক্রেতারা শেয়ার্ড বিল্ডিংয়ে অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ছোট কারখানাগুলো কাজ না পেয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএর ও বিকেএমইএ তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে নিবন্ধিত পোশাক কারখানা ৫ হাজার ৯৯৯টি। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে নিবন্ধিত কারখানা ৫ হাজার ১৪৫টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৮৫৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯৩টিই বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে সচল কারখানার সংখ্যা ৪ হাজার ৩০৬টি। এর মধ্যে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে রুগ্‌ণ কারখানা প্রায় ৪৩৯টি। কারখানাগুলোর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে বন্ধ হয়েছে ১ হাজার ৫৪৪টি আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে  ১৪৯টি কারখানা। আর বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে ২০ শতাংশ হচ্ছে শিফট হওয়া এবং ৪০ শতাংশ শেয়ার্ড বিল্ডিং কারখানা। বাকিগুলো সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করা কারখানা। পাশাপাশি নতুন কারখানা চালুর হার কমে আসছে। ১৩ সালে ১৪০টি, ১২ সালে ২০০টি। আর ১৪ সালে নতুন কারখানা হয়েছে ৮০টি। অর্থাৎ নতুন করে বিনিয়োগ হচ্ছে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ২০১০-১১ অর্থবছরে দেশে পোশাক কারখানা ছিল ৫ হাজার ১৫০টি। ২০১১-১২ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪০০টি। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ৮৭৬টি। কিন্তু ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২২২। বর্তমানে এ খাতে শ্রমিকের সংখ্যা ৪০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে বিজিএমইএর তথ্যে জানা যায়।

garments15 ( বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম )

 

 

মতামত...