,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

১৬ জানুয়ারী মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দিবস পালনের দাবিঃমুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের

941

নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্টগ্রাম,১৩, জানুয়ারি (বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকম):বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র ট্রাস্টের নেতারা বলেছেন,  ১৯৭২ সালের ১৬ জানুয়ারি তৎকালীন সরকার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, বিভিন্ন আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে জাতীয় শোক দিবস পালন করেছিল। শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সমাবেশে বক্তব্যও দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। কিন্তু এর পর থেকে এ দিবসটি আর পালিত হচ্ছে না। ফলে দেশের শ্রেষ্ঠ এই সব সন্তানকে জাতি ভুলতে বসেছে। তাই প্রতিবছর ১৬ জানুয়ারী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা-আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ দিবস পালনের জন্য সরকারে প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরে মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্রের নেতারা।

সংগঠনের মহাসচিব ফাহিমউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব ও সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন হয়েছি। তারা আজ বিস্মৃতির অতল তলে হারিয়ে যেতে বসেছেন। সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ ছাড়া আর কয়জন বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাকে জাতি স্মরণ করে? মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে। এই সব আন্দোলনে (ভাষা আন্দোলনে শহীদদের ছাড়া) শহীদরাও বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে। আর যাদের আত্মত্যাগ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চালানো সম্ভব ছিল না সেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদরা চরম অবহেলার শিকার। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের কোনো তালিকা আজও প্রণীত হয়নি। ’৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার একটি তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়ে আংশিক তালিকা প্রণয়ন করেছিল। বিএনপি সরকার তা স্থগিত করে দেয়। বর্তমান সরকার আর কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না আমাদের জানা নেই। এটা সত্য যে,  যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি সেখানে সব ধরনের শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করা খুবই কঠিন।
কিন্তু আমরা হতাশ নই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মতো কঠিন কাজ যে সরকার সম্পন্ন করতে পারছে সে সরকারের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সব তথ্য বের করা কঠিন হবে না। মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র সরকারের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই এই কাজ শুরু করেছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রের কর্মীরা গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, আশ্রয়দাতা, প্রত্যক্ষদর্শী, যুদ্ধে নির্যাতিত, গণহত্যার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে তা কেন্দ্রের নিজস্ব  ওয়েবসাইটে আপলোড করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ১৬ জানুয়ারি এই দিবসটি যদি দেশব্যাপী উদযাপন করা হয়ে তবে সরকারের কাজ সহজতর হবে বলে আমরা মনে করি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির পর এক ঘণ্টা সময় নিয়ে শহীদদের নিয়ে আলোচনা করা বাধ্যতামূলক করা হলে শহীদদের তালিকা উঠে আসবে। সংবাদ সম্মেলনে এই দিবসটি পালনের জন্য সরকারসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন শক্তির প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান। এসময় সংগঠনের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মতামত...