,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

১৬ রোহিঙ্গার এইডস শনাক্ত!

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত ১৬ রোগী পেয়েছেন চিকিৎসকেরা। ইতোমধ্যে ১৬ রোহিঙ্গাকে এইডস রোগে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একটি জায়গায় আলাদাভাবে রাখা হয়েছে। ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শরণার্থীর মাঝে নিয়মিত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে এই ১৬ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

রবিবার রাতে জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, ১৬ রোহিঙ্গা শরণার্থীর শরীরে এইডস রোগ শনাক্ত করা গেছে। তারা সবাই নতুন এসেছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চিকিৎসাসেবা দেয়ার মাধ্যমে এইডস রোগ শনাক্ত করা হয়। তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, তাদের বয়স কত, কয়জন নারী–পুরুষের এইডস শনাক্ত হয়েছে এসব বলতে তিনি রাজি হননি।

তবে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আগামীকাল (আজ সোমবার) বিকাল ৪ টায় এক প্রেস বিফ্রিংয়ের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে এতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি জানান।

গত ২৫ আগস্টের পর সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে ঢুকেছে রোহিঙ্গারা। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকেরা। অসুস্থ হয়ে অনেকেই বাংলাদেশে ঢুকেছে। এছাড়া আহত ও অসুস্থ রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শনাক্ত করা গেছে, যারা সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত। হাম, যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস বি ও সি এমনকি এইচআইভি/এইডসে আক্রান্ত রোগীও পেয়েছেন চিকিৎসকেরা। গত ১৫ সেপ্টেম্বরও এইডস রোগে একজনকে শনাক্ত করেছিল চিকিৎসক।

পোলিও, যক্ষ্মা ও হামের মতো সংক্রমণ রোগের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা এইচআইভি/এইডস ঝুঁকিতে রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানান। তাঁরা বলেন, মিয়ানমারে বাংলাদেশের চেয়ে এইচআইভি–আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে অরক্ষিত যৌনাচার রয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা নারীদের অনেকে যৌন হয়রানির শিকার। এই জনগোষ্ঠী চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত।

কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন মো. আবদুস সালাম বলেন, বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শিশু অপুষ্টির শিকার। তাদের অনেকে হাম, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ম্যালেরিয়া, ব্রঙ্কিউলাইটিসসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। টেকনাফ ও উখিয়ার সব রোহিঙ্গা শিশুকে হাম ও পোলিও টিকা দেওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও আশপাশের লোকজনের মাঝে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে সরকার। ঝুঁকিপূর্ণ এই সংক্রামক রোগের প্রার্দুভাব ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টিকা কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক কক্সবাজারে কলেরার টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা.আবুল কালাম আজাদও তার সফরসঙ্গী হওয়ার কথা রয়েছে। বি এন আর, ৯ অক্টোবর ১৭।

মতামত...