,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

১৭ জঙ্গির লাশ নিচ্ছে না পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার, বিডিনিউজ রিভিউজঃ রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ, শোলাকিয়ায় হামলা এবং কল্যাণপুরের ঘটনায় নিহত ১৭ জঙ্গির লাশ নিচ্ছে না পরিবার। সুরতহাল, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ নমুনা আলামত সংগ্রহের পর লাশ ঘিরে সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেও নিহতদের স্বজনরা লাশ নেওয়ার ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। মরদেহগুলো পড়ে রয়েছে হাসপাতালের হিমঘরে। অনেকে এরই মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জানিয়েছে, তারা এমন সন্তানের লাশ নিতে চান না। যারা ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করতে পারে তাদের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে চান না।

আইন প্রয়োগকারি সংস্থার সূত্রে প্রকাশ,  রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁ ও শোলাকিয়ায় হামলা এবং কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা এই তিনটি জঙ্গি তৎপরতার ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে যোগসাজশ ছিল। গুলশানে জঙ্গি হামলার ঘটনা কল্যাণপুরে বসে পর্যবেক্ষণ করছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নুরুল ইসলাম ওরফে মারজান। এমনকি গুলশানের হামলাকারীরা ঘটনার পর নিহত কয়েকজনের ছবি তার কাছে পাঠিয়েছিল। এ ছাড়া শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরে নিহত কয়েকজনের সঙ্গে হলি আর্টিসানে নিহত জঙ্গিদের যোগাযোগ ছিল। গাইবান্ধায় প্রশিক্ষণ শেষে একটি গ্রুপকে দায়িত্ব দেওয়া হয় গুলশানে হামলা চালাতে। পরে আরেকটি গ্রুপকে পাঠানো হয় শোলাকিয়ায়। এই তিন ঘটনার নেপথ্যে যারা ছিলেন তাদের অধিকাংশকে শনাক্ত করেছেন গোয়েন্দারা। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে আশাবাদী তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, গুলশানের ঘটনায় যারা অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে তাদের ব্যাপারে কিছু তথ্য পেয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। মারজান ছাড়াও সহায়তাকারীদের ব্যাপারে অনেক ক্লু মিলেছে। মারজানের আশ্রয়দাতাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল গতকাল শুক্রবার ২৬ আগস্টও বলেছেন, গুলশানের ঘটনার মূল হোতাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যে কোনো সময় তাদের গ্রেফতার করা হতে পারে।

কল্যাণপুরে অপারেশন স্টর্ম-২৬-এ ৯ জঙ্গি নিহত হয়। তাদের মধ্যে আটজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলো আবদুল্লাহ, আবু হাকিম নাঈম, তাজ-উল-হক রাশিক, আকিফুজ্জামান, সাজাদ রউফ অর্ক, জুবায়ের হোসেন, মতিয়ার রহমান ও তারেক। তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে। এরই মধ্যে তাদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করেছে তদন্ত সংস্থা। গুলশানে হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ছয়জন নিহত হয়েছে। ময়নাতদন্ত, ভিসেরা আলামত সংগ্রহ শেষে তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। শোলাকিয়ার ঘটনায় জঙ্গি আবির রহমান ও অজ্ঞাত আরেকজনের লাশ মর্গে রয়েছে। আরও কিছু দিন অপেক্ষার পর লাশ কেউ না নিলে তা বেওয়ারিশ লাশ হিসাবে  আঞ্জুমান মুফিদুলের কাছে তুলে দেওয়া হবে।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, জেএমবির এমন অনেক সদস্যকেও পাওয়া গেছে যাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ত্যাজ্য করা হয়েছে। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হবেন_ এমন আশঙ্কায় জেএমবি সদস্যের লাশ তাদের স্বজনরা গ্রহণ করছেন না। গুলশান, শোলাকিয়া ও কল্যাণপুরের ঘটনার পর নিহত অনেকের পরিবারের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যোগাযোগ করেছে। নিহত অনেকের স্বজন সন্তানের কর্মকাণ্ডের জন্য ঘৃণা ও ক্ষোভে লাশ গ্রহণ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

 

মতামত...