,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

৪৫ বছর ধরেই নড়বড়ে সাকোঁতেই ভরসা!

শাকিল মুরাদ, শেরপুর,৯ জুলাই, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার হাতিবান্দা ইউনিয়নের হাতিবান্দা গ্রামে ‘মালিঝি নদীর’ উপর স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতু। ওইখানে বিধ্বস্ত সুইচ গেইটের পাশ দিয়ে নির্মিত সংযোগ সেতুর সাথে কাঠ ও বাঁশের সংমিশ্রণে নির্মিত সাঁকোটিও নড়বড়ে ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে এ পথে যাতায়াতকারী ৬ গ্রামের মানুষের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যেই ঘটে দূর্ঘটনা। ৬ গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবী মালিঝি নদীর হাতিবান্দায় একটি সেতু নির্মাণের। এ দাবী এখন গ্রামবাসীদের প্রাণের দাবীতে পরিণত হয়েছে। গ্রামবাসী জানায়, এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার আবেদন-নিবেদনও করা হয়েছে। কিন্তু আজো এ নদীর উপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়নি।

গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে এ নদীর উপর একটি সুইচ গেইট নির্মাণ করা হয়। সুইচ গেইটের পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হয় সংযোগ সেতু। গ্রামের লোকজন বছর খানেক সময় ধরে এ সেতুর উপর দিয়ে পারপার হলেও ১ বছর যেতে না যেতেই পাহাড়ী ঢলে সুইচ গেইট ও সংযোগ সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। পরে গ্রামবাসী ওই সংযোগ সেতুটি জোড়াতালি দিয়ে কোন রকমে যাতায়াত ব্যবস্থা চালু রাখেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ভাবে সাঁকোটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় সেটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ কারণে মিরপাড়া, ধারারপাড়, হাতিবান্দা চকপাড়া, প্রধানপাড়া গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ ওই ভাঙা ও নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এছাড়া এ সেতুর উপর দিয়ে কৃষকদের কৃষিপণ্য, গবাদি পশু ও রিক্সা, ভ্যান বা মোটর সাইকেল যাতায়াত করতে পারে না। যেকোনো সময় সাঁকোটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাকাবাসী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও উন্নয়ন সাধিত হবে।

হাতিবান্দা গ্রামের রিক্সা চালম আব্দুর রহিম (৩২) জানান, এখানে সেতু না থাকায় তার বাড়িতে রিক্সা রাতে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারে না। ফলে প্রতি মাসে ৪’শ টাকা খরচে তার রিক্সা রাতে রাখার জন্য বাড়ির ভাড়া দিতে হয়। হাতিবান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সেলিম মিয়া (১০) জানান, বর্ষা মৌসুম বা পাহাড়ী ঢলের সময় এ নদীটিতে প্রবল ¯্রােত থাকে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সাঁকোটি পার হতে হয়। হাতিবান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরজাহান বেগম বলেন, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। তখন আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিত সংখ্যা কমে যায়।

হাতিবান্দা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দোলা বলেন, আমি নির্বাচিত হওয়ার পরেই গ্রামবাসীর দাবির পেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আবেদন জানিয়েছি। গ্রামবাসীর কষ্ট দূর করতে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণ জরুরী দরকার।

উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন, মালিঝি নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে সেতু নির্মাণ করা হবে।

মতামত...