,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ পালন করবে আওয়ামী লীগ

নাছির মীর,৪ জানুয়ারী, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম:: আগামীকাল ঐতিহাসিক ৫ জানুয়ারি, ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’। বালাদেশের রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজ থেকে ৩ বছর আগে ২০১৪ সালের এই দিন অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামীলীগ বিজয়ী হয় এবং তৃতীয়বারের মত সরকার গঠন করে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি মনে করছে, একাত্তরে যে চেতনা এবং রাজনৈতিক শপথে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটেছিল সেই চেতনা এবং মুক্তিযুদ্ধের সমগ্র অর্জন বিলীন করার আকাশ সমান ষড়যন্ত্র থেকেও জাতি রক্ষা পায় এদিন। জাতীয় জীবনে এ দিনটি গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রে এক অবিস্মরণীয় দিন। দিবসটিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন ‘ গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করবে। এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে জাতীয় সংসদে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাশ হয়। তখনকার প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও তার শরিক জোটগুলো এরপর থেকেই নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দেলন শুরু করে। এর পর গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশেষ করে ভয়াল নাশকতা, ধ্বংসযজ্ঞ, নৃশংসভাবে মানুষ হত্যা, লাগাতার অবরোধ-হরতালের নামে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়ে পুরো দেশকেই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেয়। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাসহ বাস-ট্রেনে আগুন, ট্রেনের ফিসপ্লেট খুলে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে বিএনপি জামায়াত জোট।
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে সাথে নিয়ে ভোটের আগের দিন বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগুনে পুড়িয়ে দেয় ১১১টি ভোটকেন্দ্র। নির্বাচনী কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই হয়, কুপিয়ে হত্যা করা হয় নির্বাচনী কর্মকর্তাকে। ভোটের দিনও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন অনেক নির্বাচনী কর্মকর্তা। মৃত্যুবরণ করেছেন কেউ কেউ। একের পর এক হামলা, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, হুমকি-ধামকির পরও জনগণ ২০১৪ সালের এই দিনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রদান করার জন্য ভোট কেন্দ্রে যান। আতঙ্ক, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে শতকরা ৪২ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
সেই সময় আওয়ামীলীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অভিযোগ করে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশের নির্বাচন বানচাল করে দেশে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক জটিলতা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। দেশে আবার ওয়ান-ইলেভেনের মতো আরেকটি অগণতান্ত্রিক সরকার তাদের কাম্য ছিল। এহেন পরিস্থিতিতে দৃঢ়তার সাথে এ সবকিছু মোকাবেলা করে তখন দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসী ও দৃঢ় নেতৃেত্ব সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩৪ টি আসনে বিজয়ী হয়। জাতীয় পার্টি ৩৪টি এবং আওয়ামী লীগের শরিক ওয়াকার্স পার্টি ৬ এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ৫টি আসনে বিজয়ী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি সরকার গঠন করে।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ওইদিন নির্বাচন না হলে মার্শাল ল হতো বাংলাদেশে। দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়তো। এই দিন নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকতো না। বাংলাদেশের অবস্থা থাইল্যান্ডের মত হত। আমরা কোথাও কোন সভা সমাবেশ করতে পারতাম না। এই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বাধাকে অতিক্রম করে বাংলাদেশর গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাই আমরা এই দিবসকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসাবে পালন করবো।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করেছে। অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। নির্বাচিত ব্যক্তিরাই দেশ পরিচালনা করবে-এ পদ্ধতি নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, জামায়াত-শিবির নিয়ন্ত্রিত বিএনপি অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখল করতে চেয়েছিল। বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে সাথে নিয়ে দেশকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চায়। জনগণ তাদের আর ওই সুযোগ দেবে না ।
আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষা এবং জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগসহ বিভিন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আগামীকাল এই দিনটিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসাবে পালন করবে । এ উপলক্ষে গ্রহণ করা হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি ।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- দলের জেলা, মহানগর ও উপজেলা পর্যায়ে সমাবেশ ও বিজয় র‌্যালী । কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানী ঢাকার রাসেল স্কয়ার প্রাঙ্গণে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর উত্তর এবং ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ প্রাঙ্গণে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সমাবেশ ও বিজয় র‌্যালীর আয়োজন করেছে। দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি আজ এক বিবৃতিতে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিব’ উপলক্ষে দলের ঘোষিত কর্মসূচি যথাযথভাবে পালনের জন্য দেশের সকল জেলা, মহানগর ও উপজেলা আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি দেশের সর্বস্তরের জনগণকে গণতন্ত্রের বিজয়ের এই ঐতিহাসিক দিনটি উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের জন্য আহবান জানান।

মতামত...