,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

৭২০ ইউপি নির্বাচন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ ঢাকা, পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। আগের চার ধাপের মতোই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা ও নানা অভিযোগের মধ্যে আজ শনিবার ৭২০ ইউপিতে তৃণমূলের এ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এরইমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় টহল শুরু করেছেন।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট চলবে। তিন হাজারের বেশি চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রায় ৩০ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই নির্বাচনে।

ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গত সাড়ে তিন মাসে নির্বাচনী সহিংসতায় ১০০ জনেরও  বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সংঘর্ষ-হামলার ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিনই।

বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন ব্যাপক সহিংসতাসহ বিভিন্ন ধরনের নির্বাচনী অনিয়মের কারণে বাংলাদেশের ইতিহাসে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ‘সবচেয়ে মন্দ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন’ বলে মন্তব্য করেছে।

তবে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘ভোটের দিন যত এগিয়ে আসে ততই গোলযোগের প্রবণতা বেড়ে যায়। কিছু কিছু অভিযোগও এসেছে আমাদের কাছে। সব বিষয়ে সজাগ রয়েছি আমরা। কেউ যেন প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, গোলযোগের চেষ্টা না করে এবং দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে যাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়- সে বিষয়ে মাঠ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দিয়েছি।’

ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে জানিয়ে আগের চার ধাপের তুলনায় সুন্দর ভোটের প্রত্যাশার কথা জানান এই নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিতই মাঠ পর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ খবর নিচ্ছি। গোলযোগ হতে পারে- এমন সব এলাকায় প্রশাসন ও পুলিশকে বিশেষ তদারকির জন্য তাগাদা দিয়েছি। এখন সবার সহযোগিতা পেলে আরো ভালো ভোট হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মিজানুর রহমান শেলী বলেন, সহিংসতা ও অনিয়মের নেতিবাচক প্রভাব আগামীতেও পড়বে। আর তা হলে নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ হারাবে মানুষ।

‘ইসিকেই প্রমাণ করতে হবে যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব। মানুষের আস্থা অর্জনে ইসিকে এখনই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।’

বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুষ্ঠু ভোটের কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। তাদের ভাষায়, এখন ভোটের নামে ‘ডাকাতি’ চলছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিযোগ জানিয়ে আসেন।

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায়’ ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ‘কেন্দ্র দখল করে’ জয় নিশ্চিত করছে। বারবার ইসিতে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন ‘সুষ্ঠু হচ্ছে’ দাবি করে পাল্টা অভিযোগে বলেছে, বিএনপি এ ভোটকে ‘বিতর্কিত’ করতে ‘ষড়যন্ত্র’ করে আসছে।

পঞ্চম ধাপের ভোট তথ্য

১. ভোট ৪৪ জেলার ৮৬ উপজেলার ৭২০ ইউপিতে।

২. ভোটার ১ কোটি ১০ লাখের বেশি।

৩. সাত হাজারের বেশি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা হবে ভোট চলবে।

৪. চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২৫৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে  ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৫. চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৪২ জন ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

৬. এক লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় লাখের মতো সদস্য নিয়োজিত থাকছেন ভোটের দায়িত্বে।

এর আগে ২২ মার্চ, ৩১ মার্চ, ২৩ এপ্রিল ও ৭ মে বিক্ষিপ্ত গোলাযোগ আর অনিয়মের অভিযোগের মধ্য দিয়ে চারটি ধাপের ভোট হয়। তারপরও পরবর্তী দুই ধাপে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবেন বলে আশা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

পঞ্চম ধাপের ভোট সামনে রেখে সিইসি বলেছেন, সহিংসতা যাতে না ঘটে সে বিষয়ে ইসি সজাগ রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের বলছি- ধৈর্য্য ধরেন। কারো মাথায় বাড়ি মেরে বা নিজেদের মধ্যে হানাহানির প্রয়োজন নেই।  আশা করি, চতুর্থ ধাপের তুলনায় আগামী দুই ধাপের নির্বাচন অনিয়ম ছাড়াই শান্তিপূর্ণ হবে।

সহিংসতা ও অনিয়ম ‘শূন্যের কোঠায়’ নামিয়ে আনতে ‘আরো কঠোর’ হবেন বলেও হুঁশিয়ার তিনি।

 

মতামত...