,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

৭ নম্বর ‘বিপদ সংকেত’ সারাদেশে নৌযান চলাচল বন্ধ, লাইটার জাহাজ বন্দর নির্দেশ

aনিজস্ব প্রতিবেদক, বিডি নিউজ রিভিউজ ডটকমঃ চট্টগ্রাম,  ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র প্রভাবে প্রতিকূল আবহাওয়ায় সব ধরণের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। বিআইডাব্লিউটি জানায়, খারাপ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার বিকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানো বাংলাদেশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে ঘূর্ণিঝড় এলাকার বাসিন্দাদের রাত ৮টার মধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার অনুরোধ করেছে প্রশাসন।

আবহাওয়া আফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্বে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৭ নম্বর, কক্সবাজারকে ৬ নম্বর এবং পায়রা ও মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর ‘বিপদ সংকেত’ দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সারাদিন  দেশের উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বইছে স্বাভাবিকের তুলনায় শক্তিশালী ঝড়ো হাওয়া। উপকূলের নিচু এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে সরিয়ে আনার পাশাপাশি ঝড় পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সরকার।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে থাকা সকল লাইটার জাহাজকে রাতের মধ্যে বন্দর চ্যানেল ছেড়ে নিরাপদ দূরত্বে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আজ শুক্রবার পৌনে ৪টার দিকে এ বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়া অফিস জানায়, বন্দর চ্যানেল ছেড়ে সকল লাইটার জাহাজ উপকূলের কাছাকাছি থাকতে হবে। কারণ উপকূলের কাছাকাছি থাকলে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না।

আবহাওয়া অফিস শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটায় চার নম্বর হুশিয়ারী সংকেতের পরিবর্তে সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার বিকাল সাড়ে তিনটা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় রোয়ানো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থান করছিলো, এটি জোরদার হয়ে চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, একই সাথে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর এবং মংলা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
মূশফিকুর রহমান আরো জানান, এটি ঘন্টায় আট কিলোমিটটার বেগে উত্তর- উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ে ৫৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কিলোমিটার যা ধমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে পশ্চিম- মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন পশ্চিম- মধ্যম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এটি ঘনীভূত হয়ে ক্রমান্বয়ে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, বর্তমান গতি অব্যাহত থাকলে আগামী ২১ মে সন্ধ্যা নাগাদ দেশের উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে কাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-নোয়াখালী উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ১২শ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছে। “রোয়ানু” নামে এই ঘূর্ণিঝড়টি ধীরগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। এর প্রভাবে গত রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে। সাগরও উত্তাল হয়ে উঠছে, তাই মাছ ধরার ট্রলার ‌ও নৌকাসমূহকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, বরগুনা, বাগেরহাটসহ বেশকিছু উপকূলীয় অঞ্চলে প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সকল ছুটি বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কর্মস্থলে থাকতে বলা হয়েছে।

 

মতামত...