,

সর্বশেষ
bnr ad 250x70 1

ভোট সামনে রেখে ১ যুগ পর বিএনপির নেতা মোরশেদ খান এলাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ রিভিউজ.কম::একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এক যুগ পর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান  ভাতিজা এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ মিটিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। ভোটে সামনে রেখে চট্টগ্রাম–৮ আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একাধিক ঘরোয়া বৈঠক করে তার পছন্দের নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি করেছেন। তবে পদ–বঞ্চিতদের মধ্যে কমিটি নিয়ে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম–৮ আসনের সাম্ভাব্য বিএনপির প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান বলেন, ‘এরশাদ উল্লাহ ভুল শুধরে নিয়ে দলের জন্য একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে পোষণ করেছেন। তাই অতীতের সব মিটমাট করে দিয়েছি।’ এরশাদ উল্লাহ বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে।’ কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাইকে নিয়ে কমিটি করছি। দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, ২০০৬ সালে জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর ঘরোয়া রাজনৈতিক রাজনীতি থেকে অনেকটা দূরে ছিলেন বিএনপির ডাকসাইডের নেতা মোরশেদ খান।

ওয়ান–ইলেভেনের সময় মামলার কারণে ২০০৭ সালে দেশের বাইরে চলে যান তিনি। দেশের বাইরে থাকায় ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি মোরশেদ খান। মোরশেদ খানের অনুপস্থিতি দলীয় মনোনয়ন পান তাঁর অনুগত নগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। দুই জনের মধ্যে চাচা–ভাতিজ সম্পর্ক। তবে এরশাদ উল্লাহ মনোনয়ন মেনে নিতে পারেননি মোরশেদ খান। মনোনয়ন প্রাপ্তি নিয়ে চাচা–ভাতিজার মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে লড়েন চান্দগাঁও ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম। দলের একটি অংশ মাহবুবুল আলমের পক্ষে প্রচার–প্রচারণায় অংশ নেয়। এতে মোরশেদ খানের ইঙ্গিত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদলের কাছে পরাজিত হন বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। এরশাদ উল্লাহ পরাজয়ের পেছনে মোরশেদ খানকে দায়ী করা হয়েছিল। এর জের ধরে ঢাকায় মোরশেদ খানের একান্তভাজন হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমদ খলিল খানকে লাঞ্ছিত করেছিলেন এরশাদ উল্লাহ অনুসারীরা। সেই থেকে কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করে। দুই গ্রুপের মধ্যে সাপে–নেউলে সম্পর্ক চলে আসে। দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘাত, সংঘর্ষ লেগে ছিল। নিজেরাই নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠে। প্রতিপক্ষ গ্রুপকে ঘায়েল করতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটি পক্ষের গোপন আঁতাতের অভিযোগও ছিল।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর রাজনীতির মাঠে মোরশেদ খানের অনুপস্থিতিতে বোয়ালখালী বিএনপির রাজনীতি অনেকটা এরশাদ উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কমিটি থাকলেও মোরশেদ খানের অনুসারীরা মাঠে রাজনীতিতে কোণঠাসা ছিল। নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে মোরশেদ খান ও তাঁর অনুসারীদের নিয়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

২০১২ সালের গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রচারণা অনুষ্ঠানে এসে দলীয় প্রতিপক্ষ গ্রুপের রোষানলে পড়ে মোরশেদ খান ও তাঁর অনুসারীরা। উপজেলার গোমদ–ী ফুলতলীতে হামলার ঘটনায় দলের স্থায়ী কমিটির তৎকালীন সদস্য প্রয়াত এমকে আনোয়ার ও মোরশেদ খানের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এই ঘটনার রেশ ধরে এরশাদ উল্লাহকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এখনো বহিষ্কারাদেশ বহাল রয়েছে। কিন্তু বহিষ্কারের পরও এরশাদ উল্লাহ তার অনুসারীদের নিয়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

মোরশেদ খান ও এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে চলে আসা দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব গত মাসে মিটিয়ে যায়। চাচা–ভাতিজা ঢাকায় বসে মান–অভিমান মিটিয়ে ফেলেন। গত সোমবার চান্দগাঁও থানা এলাকায় এরশাদ উল্লাহ বাড়িতে মেজবানির আয়োজন করে নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হয়।

চান্দগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি ও মোহরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘চাচা–ভাতিজার মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছে। ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তা মিটমাট করে ফেলা হয়েছে। এতে দলের জন্য ভালো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘৯১ সাল থেকে মোরশেদ খানের সঙ্গে ছিলাম, আছি। তিনি আমাদের মুরব্বি, আমাদের নেতা। তাঁকে সবাই সম্মান করি। আগামীতেও তাঁর নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।

মোহরা কাউন্সিলর মো. আজম আরও বলেন, চট্টগ্রাম–৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত নগরীর ৫ ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের নিয়ে এরশাদ উল্লাহ বৈঠক করেছেন। এতে দুই পক্ষের ৪–৫ হাজার নেতাকর্মী ছিলেন। সেখানে ঐক্যের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. ইসহাক চৌধুরী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে ঘিরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার লক্ষে দলীয় কোন্দল মিটমাট করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নগরীর ৫ ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বোয়ালখালীতেও বড় আয়োজন করে ঐক্যের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।

নির্বাচনকে সামনে রেখে মোরশেদ খানের নির্দেশনায় বোয়ালখালী নয় ইউনিয়নে বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণার পর তৃণমূলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পদ–বঞ্চিতদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরীর ৫টি ওয়ার্ডের কমিটি নিয়ে নগর বিএনপির সিনিয়র সহ–সভাপতি আবু সুফিয়ানের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে নগরীর সার্কিট হাউস এলাকায় দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছিল।

নগর বিএনপির সিনিয়র সহ–সভাপতি আবু সুফিয়ান বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কমিটি ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মোরশেদ খান। তিনি দলের সিনিয়র নেতা। তাঁর আশ্বাস আমরা বিশ্বাস করেছিলাম। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রাখেননি তিনি। দলের ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে তাঁর মনগড়া কমিটি দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা দলের মহাসচিবকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি। মহাসচিব আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দলের যে কেউ দলীয় নমিনেশন চাইতে পারে। নমিনেশন দিবে হাইকমা–। নমিনেশন চাইলেই যে তাকে দল থেকে সরিয়ে দিতে হবে, তা ভালো কাজ নয়।

মতামত...